রা দে সাঁ, ফ্রান্সের উত্তর-পশ্চিমের ব্রিটানির একটি এলাকা। বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক সমুদ্রপথ এটি। অনেক নাবিক সেখান প্রাণ হারিয়েছেন। এই বিপজ্জনক সমুদ্রে নাবিকদের প্রাণহানি কমাতে পয়েন ডু রা থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে সাগরবুকে বসানো হয়েছে একটি বাতিঘর। টেভেনেকের এই বাতিঘর তৈরি হয়েছিল ১৬২ বছর আগে, ১৮৬০ সালে। তবে প্রাচীন এই বাতিঘর নিয়ে আছে নানা রকম মিথ। কেল্টিকদের কাছে টেভেনেকের পাথর পবিত্র হলেও বাতিঘর প্রহরীদের কাছে এলাকাটি অভিশপ্ত ছিল।
বাতিঘর ও সি-মার্ক সোসাইটির প্রধান মার্ক পয়ান্টু বলেন, ‘কেল্টিকরা বিশ্বাস করত, এখানে মৃতরা সাগরে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের আত্মা সংগ্রহ করে পরবর্তী জীবনে নিয়ে যেত। তাই যখন এখানে বাতিঘর নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তখন সবাই বিরোধিতা করেছিল। সবার মনে হয়েছিল এলাকাটা ভুতুড়ে। বাতিঘরের কোনো প্রহরীই সেখানে বেশিদিন থাকতে পারেননি। অনেক দুর্ঘটনা ঘটেছিল। কেউ যখন আর সেখানে কাজ করতে চায়নি, তখন বাতিঘরটা স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু রাখার ব্যবস্থা করা হয়। ফ্রান্সের সরকার তখন এটি কোনো প্রহরী ছাড়াই চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়। গ্যাস সিলিন্ডার ও বড় ট্যাঙ্ক বসানো হয়। ১৯১০ সাল থেকে টেভেনেক দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু আছে।’
মার্ক পয়ান্টু বলেন, মেরিটাইম মন্যুমেন্ট কীভাবে সংরক্ষণ করতে হয় তার একটা ভালো উদাহরণ একম্যুল। সব বাতিঘর ও নেভিগেশন চিহ্নের মধ্যে এটি একটি আসল রত্ন।
খুব সুন্দর একটি টাওয়ার, ভেতর-বাহির সবদিক থেকেই। এটি এখন জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত। সবার জন্য খুলে দেওয়ার এই পরিকল্পনা সফল হয়েছে। কারণ পর্যটকদের মধ্যে আগ্রহ আছে। দারুণ ব্যাপার। ১৯ শতকের শেষ থেকে ২০ শতকের শুরুর সময়ের মধ্যে এমন বাতিঘর নির্মাণ সত্যিই এক দারুণ অর্জন।
মিশেল প্লুইনেক ব্লেওমেল অনেক বাতিঘরে প্রহরী হিসেবে কাজ করেছেন। কয়েক প্রজন্ম ধরে তার পরিবার বিভিন্ন বাতিঘরে কাজ করেছে। তার পূর্বসূরিদের ইতিহাসে টেভেনেকও আছে। ব্লেওমেল বলেন, ‘তারা অনেক কথা বলে: বাতিঘরটা ভুতুড়ে, সেখানে নানা ধরনের অদ্ভুত শব্দ হয়, প্রহরীরা পাগল হয়ে যায়। কিন্তু বাস্তবে কেউ পাগল হয়েছে বলে আমি শুনিনি।’