গাজীপুর সদরের রাজেন্দ্রপুরে পোশাক শ্রমিককে অপহরণের পর মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে স্থানীয় উত্তেজিত জনতার গণধোলাই এক ডাকাতের মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় জয়দেবপুর থানার রক্ষিতপাড়া (রতন মুন্সীর বসত বাড়ির) পূর্ব পাশের জঙ্গলে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে নিহত রাকিবসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৫/৬ জনকে অভিযুক্ত করে মামলা দায়ের করেন।
নিহত রাকিব (২৭) জয়দেবপুর থানার রুদ্রপুর গ্রামের আলমগীর হোসেনের ছেলে। তার নামে জয়দেবপুর ও শ্রীপুর থানায় দস্যুতাসহ ৪টি ডাকাতির মামলা রয়েছে।
জয়দেবপুর থানার ওসি মাহাতাব উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পোশাক শ্রমিক হাসি আক্তার জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় তিনি তার ভাড়া বাসা থেকে রাত সাড়ে ৮টায় সহকর্মী পোশাক শ্রমিক ইলিয়াছ উদ্দিনকে সঙ্গে নিয়ে রাজেন্দ্রপুর হালডোবা এলাকায় অপর সহকর্মীর বাসায় বেড়াতে যাচ্ছিলেন।
এ সময় একদল ডাকাত তাদের পথরোধ করে। পরে ওই ডাকাতেরা সহকর্মী ইলিয়াছ উদ্দিনকে মারধর করে এবং তার মুখে রুমাল চেপে ধরে স্থানীয় রক্ষিতপাড়া (রতন মুন্সীর বসতবাড়ির) পূর্ব পাশের জঙ্গলে নিয়ে যায়। সেখানে ডাকাতরা হত্যার হুমকি দিয়ে জঙ্গলের ভেতর একটি গাছের সঙ্গে আমার দুই হাত পিছমোড়া করে রুমাল দ্বারা বাঁধে এবং আমার মুখ অপর একটি রুমাল দিয়ে বেঁধে রাখে।
তারা জোর পূর্বক তার কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টা করে। আমার সহকর্মী ইলিয়াছ উদ্দিন কৌশলে ছুটে গিয়ে স্থানীয়দের ঘটনা জানালে শতাধিক লোকজন ওই জঙ্গলের চারপাশ ঘেরাও করে।
পরে তারা প্রধান আসামি রাকিবকে আটক করতে পারলেও তার সহযোগীরা পালিয়ে যায়। উত্তেজিত জনতা রাকিবকে গণধোলাই দিয়ে দুই চোখ উপড়ে ফেলে দুই পা ভেঙে দেয়।
খবর পেয়ে জয়দেবপুর থানা-পুলিশে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নারীকে উদ্ধার করে। গুরুতর আহত ডাকাতকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
জয়দেবপুর থানার ওসি মাহাতাব উদ্দিন জানান, এ ঘটনায় ওই নারী বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।