ঈদের ছবি ‘পরাণ’ দিয়ে দর্শক মাত করেছেন অভিনেতা শরিফুল রাজ। চারদিকে তার অভিনয়ের প্রশংসা। এই ছবি নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন মাসিদ রণ
অভিভূত...
‘পরাণ’-এর সাড়া এক কথায় আমাকে অভিভূত করেছে। বলতে পারেন, নতুন করে আশার আলো দেখছি। আমি এখন নির্দ্বিধায় বলতে পারি, ভালো সিনেমা তৈরি হলে সিনেমাপ্রেমী দর্শক হলে যাবেই। আমরা কিন্তু অনেক কম সিনেমা হল পেয়েছিলাম। মাল্টিপ্লেক্সগুলোতেও শোয়ের সংখ্যা ছিল খুব কম। কিন্তু দর্শকের উপচেপড়া ভিড়ে হল কর্তৃপক্ষ শো-সংখ্যা বাড়িয়ে দিয়েছেন। এটা অন্যরকম একটি নজির আমাদের দেশের সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির জন্য। আর দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে হলের সংখ্যাও বেড়েছে। এই অর্জনের পুরো কৃতিত্ব আমি দেব নির্মাতা রায়হান রাফীকে। আমি শুধু সঠিক গল্পটি নির্বাচন করেছি। এরপর পর্দায় যা দেখতে পাচ্ছেন তার সবটাই নির্মাতার মুনশিয়ানা।
রোমান হয়ে ওঠা...
পরাণ-এ আমার চরিত্রের নাম রোমান। ছেলেটি একেবারেই জীবনঘনিষ্ঠ একটি চরিত্র। সে যা যা নিজের মনে করে তা পেতে সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করে। চরিত্রটি অ্যাগ্রেসিভ, তবে প্রেমে মাতাল। বাস্তবের সঙ্গে আমার সঙ্গে চরিত্রটির সেভাবে কোনো মিল নেই। অভিনেতা হিসেবে এই চ্যালেঞ্জগুলোই নিতে চাই। আমার আলাদা কোনো প্রস্তুতি ছিল না। কিন্তু চরিত্রটি হয়ে উঠতে নির্মাতা রাফী দারুণ সহায়তা করেছেন। গল্পের গাঁথুনি, নির্মাণশৈলী এবং চমৎকার কো-আর্টিস্ট (বিদ্যা সিনহা মিম, ইয়াস রোহান, নাসিরুদ্দিন খান, শহীদুজ্জামান সেলিম, রোজি সেলিম) পেয়েছিলাম। এজন্যই কাজটি দর্শকের হৃদয় ছুঁয়েছে।
হাওয়া...
সামনে আমার ‘হাওয়া’ ছবিটি মুক্তি পাবে। আমার ক্যারিয়ারের অনবদ্য এক্সপেরিয়েন্স মেজবাউর রহমান সুমনের এই ছবিটি। সেখানেও আশা করি দর্শকের মন জয় করতে পারব। এমন সুন্দর দৃশ্যায়নের ছবি আমাদের দেশে আগে হয়নি বলে আমার ধারণা। এখনই খুব বেশি বলতে চাই না। দর্শক হলে এসে দেখলেই বুঝতে পারবেন।
টার্নিং পয়েন্ট...
আমরা দর্শকের জন্যই তো কাজ করি। আমরা চাই আমাদের কাজ সব শ্রেণির দর্শকের কাছে পৌঁছে যাক। সেদিক থেকে ‘পরাণ’ সার্থক বলে মনে করি। শুধু দর্শক নয়, আমাদের শোবিজের বিভিন্ন অঙ্গনের শিল্পী, নির্মাতা, কলাকুশলীরা ছবিটি নিজেদের আগ্রহে দেখে ফেইসবুকে তাদের ভালো লাগার কথা জানাচ্ছেন। এটা আমাদের মতো নড়বড়ে ইন্ডাস্ট্রির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এতে আমরা ভালো কাজ করতে আরও বেশি অনুপ্রেরণা পাই। তবে এই কাজটিকেই আমি টার্নিং পয়েন্ট বলতে চাই না। আমার প্রথম ছবি ‘আইসক্রিম’ই আমার টার্নিং পয়েন্ট। সেই ছবির পরিচালক রেদোয়ান রনি যদি আমাকে সুযোগ না দিতেন তাহলে আজ ‘পরাণ’ তো দূরের কথা, অভিনেতাই হয়তো হতাম না!
পরীমণি...
আমি সব সময় বলি, পরীমণি আমার জন্য ভীষণ লাকি। তার সঙ্গে বিয়ের পর থেকেই আমার শুধু ক্যারিয়ার নয়, ব্যক্তিজীবনেও অনেক ইতিবাচক বিষয় ঘটছে। একের পর এক ছবি মুক্তি পচ্ছে, সেগুলো দর্শকের মনে জায়গা করে নিচ্ছে। আমি বাবা হতে যাচ্ছি। এই সময়টাকে আমি খুব উপভোগ করছি। সবার কাছে দোয়া চাই, যেন এই জার্নি অব্যাহত থাকে। পরী এখন মাতৃত্বকালীন ছটিতে আছে। সেও আশা করি সামনে দারুণভাবে কামব্যাক করবে। আমরা সব সময় ভালো কাজের মধ্যেই থাকতে চাই।