সংসার জুড়ে দিল পুলিশ

গাজীপুরে গার্মেন্টসে চাকরি করতে গিয়ে রনি মিয়ার (২৪) সঙ্গে হ্যাপি আক্তারের (২২) পরিচয়। ভালো লাগা অতঃপর বিয়ে। রনির বাড়ি শেরপুরের নকলা উপজেলার চরমধুয়া নামাপাড়ায়। হ্যাপির বাড়ি নেত্রকোনার কলমাকান্দার রাজনগর গ্রামে।

দুজনের দাম্পত্য জীবন ভালোভাবেই কাটছিল। হ্যাপি গার্মেন্টসে চাকরি করলেও একসময় রনি বেকার হয়ে পড়েন। স্ত্রীর ওপর চাপ কমাতে নিজের ও স্ত্রীর জমানো টাকা দিয়ে অটোরিকশা কিনে চালাতে থাকেন। হঠাৎ একদিন রনি মিয়ার অটোরিকশা ট্রাকের চাপায় দুমড়ে-মুচড়ে যায়। তারা দুজন আবার দিশেহারা হয়ে পড়েন। কিন্তু হাল ছাড়েননি রনি। ধার দেনা করে এলাকায় ছোট একটি মনিহারির দোকান দেন। কিন্তু এখানেও সফলতা পাননি তিনি। অর্থ সংকটে দিশেহারা হয়ে একপর্যায়ে গোপনে স্ত্রীর কানের দুল দুটি বন্ধক রেখে দেনার দায় থেকে মুক্তি পান।

এদিকে হ্যাপি কানের দুলের বিষয়টি জানতে পেরে স্বামীকে সাফ জানিয়ে দেন, কানের দুল না এনে দিলে সংসার করবে না। সোজা চলে আসেন বাবার বাড়ি কলমাকান্দায়। সেখানের স্থানীয় একটি চক্র তাদের সংসার ভাঙতে ডিভোর্স করাতে চেষ্টা করে। হ্যাপি রাজিও হয়ে যায়।

কিন্তু চার বছরের সাজানো সংসার কোনোভাবেই ভাঙতে চান না রনি মিয়া। নিরুপায় হয়ে গত শুক্রবার রাতে কলমাকান্দার ওসিকে মোবাইলে বিষয়টি অবগত করে তার সহায়তা চান। উভয়পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরেরদিন দুপক্ষকে থানায় আসতে বলেন ওসি।

গত শনিবার ওসি আবদুল আহাদ খান থানার নারী ও শিশু ডেস্কের মাধ্যমে রনি ও হ্যাপির অভিযোগের বিষয়গুলো শুনেন। নানাভাবে কাউন্সেলিংয়ের পর একপর্যায়ে রনি ও হ্যাপি পরস্পরের কাছে ক্ষমা চেয়ে একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নেন।

ইতিমধ্যে রনি শেরপুরে একটি রেস্টুরেন্টে কাজ পেয়েছে বলে জানায়। সে তার স্ত্রীর প্রিয় কানের দুল দুই-তিন মাসের মধ্যে ফিরিয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার করলে হ্যাপি খুশি হয়।