কোনো নারী স্প্রিন্টার তো বটেই, পুরুষদেরও কেউই কার্ল লুইস, মরিস গ্রিন বা উসাইন বোল্টও পারেননি যে কীর্তি গড়তে; তাই করে দেখালেন শেলি-অ্যান ফ্রেজার প্রাইস। জ্যামাইকার এই ৩৫ বছর বয়সী বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে পাঁচবার জিতলেন ১০০ মিটার স্প্রিন্ট। গতকাল বাংলাদেশ সময় সকালে যুক্তরাষ্ট্রের অরিগনে ১৮তম বিশ্ব অ্যাথলেটিক্সে নারীদের ১০০ মিটার জিতেছেন তিনি ১০.৬৭ সেকেন্ড সময় নিয়ে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় হয়েছেন শেলির স্বদেশি দুই জ্যামাইকান। পুরুষদের ১০০ মিটার স্প্রিন্টে আগের দিন প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় স্থান জিতেছিলেন আমেরিকানরা। পরদিনই ঘটল জ্যামাইকানদের এই কীর্তি।
বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে পুরুষ ১০০ মিটার ইভেন্টে সর্বোচ্চ তিনটি করে স্বর্ণ জিতেছেন উসাইন বোল্ট, কার্ল লুইস ও মরিস গ্রিন। পুরুষ স্প্রিন্টারদের মধ্যে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে ১০০ মিটারে সর্বোচ্চ পাঁচটি পদক আছে জাস্টিন গ্যাটলিনের (২ স্বর্ণ, ৩ রূপা)। চারটি করে পদক আছে মারলিন ওটি ও কারমেলিটা জেটের। কিন্তু ৫টি স্বর্ণ জিতে ইতিহাস গড়ার পর এই বয়সেও নিজের জয়ক্ষুধা দেখে নিজেই আশ্চর্য হয়ে যাচ্ছেন শেলি, ‘আমার অর্জিত বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ শিরোপাগুলোর মধ্যে এটাই সবচেয়ে বেশি পছন্দের, কারণ ৩৫ বছর বয়সে এসে এই কীর্তি গড়েছি আমি। আমি যখনই সুস্থ থাকব, তখনই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব। আমি ক্ষুধার্ত, সব সময় উন্নতি করার জন্য মুখিয়ে আছি।’
২০০৯ সালে বার্লিন চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথমবার শ্রেষ্ঠত্ব দেখান শেলি। একবারের পর টানা দু’বছর ২০১৩ ও ২০১৪ চ্যাম্পিয়নশিপে আবার সেরা হন ১০০ মিটারে। মা হওয়ার জন্য ২০১৭তে ছিলেন না তিনি। ২০১৯-এ দোহায় ফিরে আবার সেরা। সেটা ধরে রাখলেন আবার। শেলি বলেন, ‘যতদিন আমার মনে বিশ্বাস থাকবে যে আমি জোরে দৌড়াতে পারি, ততদিন ট্র্যাকে থাকবেন। ৩৫ বছর বয়সে এসেও এমন পারফর্ম করে যাচ্ছি, বাচ্চার মা হওয়ার পরেও, আশা করি বিশ্বের অন্য মেয়েদের অনুপ্রাণিত করতে পারব।’ বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে ১০০, ২০০ ও ১০০ মিটার রিলে মিলে ফ্রেজার-প্রাইসের দশম স্বর্ণ এটি। যার তিনটি তিনি জিতেছেন (২০১৭তে) সন্তান জন্ম দেওয়ার পর। ‘আমি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি ৩৫ বছরেও দৌড় চালিয়ে যেতে পেরে। সন্তান আছে আমার তবু দৌড় চালিয়ে যাচ্ছি। আশা করছি এটি নারীদের উৎসাহিত করবে।’