ট্রান্সফার ফি’র ক্ষতিপূরণ বাবদ ফিফার কাছে ৫ কোটি ইউরো দাবি করেছে ইউক্রেনিয়ান ক্লাব শাখতার দোনেস্ক।
ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক আগ্রাসনের কারণে জুনে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিদেশি খেলোয়াড়দের সঙ্গে ক্লাবগুলোর চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত জানিয়েছিল। তবে ক্লাবগুলো এ ব্যাপারে সর্বোচ্চ ক্রীড়া আদালত কোর্ট অব আরবিট্রেশনে আপিল করেছিল।
এ সম্পর্কে শাখতার দোনেস্কর প্রধান নির্বাহী সার্গেই পালকিন বিবিসি স্পোর্টসকে বলেছেন, ‘আমরা এটা করতে বাধ্য হয়েছি। কারণ ফিফা আমাদের প্রতি পুরোপুরি অবিচার করেছে। এর মাধ্যমে আমরা ট্রান্সফার বাবদ খেলোয়াড়দের চুক্তি শেষে যে পরিমাণ অর্থ আয় করতে পারতাম তার সবই শেষ হয়ে গেছে। ক্লাবগুলো ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। এই মুহূর্তে এমনিতেই ইউক্রেনিয়ার ক্লাবগুলো যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে। ফিফার অবশ্যই এই ক্লাবগুলোর প্রতি কিছুটা হলেও সম্মান জানানো উচিত ছিল।’
আরও বলেন, ‘ক্লাবগুলোকে রক্ষা করার কোন ইচ্ছা ফিফা দেখায়নি। পুরো পরিস্থিতির কীভাবে সমাধান করা যায় সে ব্যাপারে আমাদের সঙ্গেও কোন ধরনের আলোচনা তারা করেনি। যুদ্ধের শুরু থেকে পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাওয়া ইউক্রেনিয়ার ফুটবলের প্রতি তারা সর্বোচ্চ অবহেলা দেখিয়েছে।’
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নিয়মিত খেলে আসছে ইউক্রেনিয়ার চ্যাম্পিয়ন ক্লাবটি। ফিফার আইনানুযায়ী খেলোয়াড়দের সঙ্গে চুক্তি বাতিল হওয়ায় ইতোমধ্যেই চারজন সেরা বিদেশি খেলোয়াড়কে হারিয়েছে শাখতার। এর ফলে সব মিলিয়ে ৫ কোটি ইউরো ক্ষতি হয়েছে বলে পালকিন দাবি জানিয়েছেন।
খেলোয়াড়দের এজেন্টরা অবশ্য এ ব্যাপারে ক্লাবের সাথে সমঝোতার ভিত্তিতে চুক্তি বাতিলের বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছিল। তাতে করে পরবর্তী ট্রান্সফারে ক্লাবগুলো আর্থিকভাবে কিছুটা হলেও সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতে পারতো।
গত ২১ জুন ফিফা এক আইনের মাধ্যমে বলেছিল, ৩০ জুনের মধ্যে ক্লাবগুলো যদি খেলোয়াড়দের সঙ্গে কোন ধরনের সমঝোতায় পৌঁছাতে না পারে তবে ২০২৩ সালের ৩০ জুন ইউক্রেনিয়ান ক্লাবগুলোর সঙ্গে বিদেশি খেলোয়াড় ও কোচরা তাদের চুক্তি বাতিল করতে পারবে।
শাখতারে ১৪ জন বিদেশি খেলোয়াড় রয়েছে। ক্লাবের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে শাখতার এই খেলোয়াড়দের মধ্যে কয়েকজনকে অন্য ক্লাবের কাছে ভালো মূল্যে বিক্রি করতে চেয়েছিল। ১৩ বারের ইউক্রেনিয়ার চ্যাম্পিয়নদের যুদ্ধ পরবর্তী পরিস্থিতিতে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য এর বিকল্প কিছু নেই।