দিন শেষে আমার সন্তানদের বাবা সে

জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানিয়া আহমেদ। আরেক জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী এসআই টুটুলের সঙ্গে তার দীর্ঘ ২৩ বছরের সংসারে বিচ্ছেদ ও টুটুলের নতুন বিয়ের খবর সামনে এসেছে সম্প্রতি। এ নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন  রণ

ভাঙনের কারণ...

মানুষের জীবনে কখন কী হয়ে যায়, সে নিজেও জানে না। সম্পর্কের জায়গায় কখনো-কখনো কোনো না কোনোভাবে কিছু সমস্যা তৈরি হয়। সে সমস্যা থেকেই দূরত্ব। কিছু বিষয় থাকে ব্যক্তিগত, সেগুলো চাইলেও শেয়ার করা যায় না। দুজন ভালো মানুষ সব সময় ভালো না-ও থাকতে পারে। কেউ যদি মনে করে, সে নিজের মতো করে থাকবে বা চলবে, সেখানে তো কারোই কিছু করার থাকে না। আবার কেউ ছেড়ে যেতে চাইলে তাকে শত চেষ্টাতেও বেঁধে রাখা যায় না। তবে টুটুল সবকিছু নিয়মের মধ্যেই করেছেন। একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে জানাতে চাই, আমাদের বিচ্ছেদ হয়েছে ৭-৮ মাসের মতো হবে। বিচ্ছেদের আগে আমরা একই বাসায় থাকলেও দীর্ঘ ৫ বছর আলাদাভাবে বসবাস করেছি। মানসিক দিক থেকে আমাদের দূরত্ব ছিল। অনেক কিছুই মতের অমিলের কারণে হয়েছে। যেগুলো একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়।

অভিযোগ-অনুযোগ...

এ বিষয়ে সবাইকে জানানোর মতো আমার কোনো অভিযোগ-অনুযোগ নেই। টুটুলের নতুন জীবনের জন্য সব সময় শুভকামনা। দোয়া করি, নতুন জীবনে তারা যেন ভালো থাকে। দিন শেষে আমার সন্তানদের বাবা সে। তার যদি কিছু হয়ে যায়, তাহলে সন্তানরা ভালো থাকবে না। সন্তানরা তার বাবাকে প্রচণ্ড ভালোবাসে। আমাকেও খুব ভালোবাসে। উভয়ের জন্যই ওদের কষ্ট হবে। আমি মনে করি, এটি কাদা ছোড়াছুড়ির বিষয় না। ডিভোর্সের পরও আমি সব সময় চেষ্টা করেছি, যোগাযোগ রাখার। কিন্তু যোগাযোগ করতে পারিনি। টুটুলের সব জায়গা থেকে আমি কালো তালিকায় আছি। সন্তানদের ভরণপোষণের একটা ব্যাপার থাকে। দুজনে কথা বলে বিষয়টি ঠিক করে নিতাম। তবে অনেক চেষ্টা করেও যোগাযোগ করতে পারিনি। যোগাযোগের সব মাধ্যম বন্ধ। তবে সন্তানদের সঙ্গে টুটুলের যোগাযোগ হয়।

সন্তানরাই অবলম্বন...

সন্তানরা আমার ভালো বন্ধু। সবসময়ই ওরা সবকিছু যেমন আমাকে শেয়ার করে, আমিও সবকিছু সন্তানদের সঙ্গে শেয়ার করি। আমাদের বিষয়টি নিয়ে সন্তানদের সঙ্গে কথা হয়েছে। ওদের বলার পর, যেটা ভালো হয় সেটিই করতে বলেছে। সন্তানরা এখন আমার সঙ্গেই থাকছে। যতদূর জেনেছি, সোনিয়ার (টুটুলের নতুন স্ত্রী) আগের ঘরের এক সন্তান আছে। আমার এক সন্তান বিদেশে চাকরি করছে। আর ছোট সন্তান আমার কাছেই আছে। টুটুল সোনিয়ার সঙ্গেই এখন যুক্তরাষ্ট্রে থাকছেন।

নতুন জীবন...

আমি যখন বিষয়গুলো জানতে পেরেছি, নিজেকে বুঝিয়ে মানিয়ে নিয়েছি। অনেক কিছুই বলতে পারতাম। সেসব বলে তো আর লাভ হবে না। তা ছাড়া টুটুল একটা অবস্থান তৈরি করেছে। তার সম্মান আমাকেই ধরে রাখতে হবে। আমি সব সময় তাকে সম্মানের জায়গায় রাখার চেষ্টা করছি। না চাইলেও অনেক সময় আমাদের অনেক কিছুই মেনে নিতে হয়। আমার দিক থেকে নতুন করে জীবন সাজানোর ব্যাপারে বলব এটি আমাদের কারও হাতে নেই। একমাত্র সৃষ্টিকর্তাই ভালো জানেন। তিনি যেভাবে যখন চাইবেন, সেভাবেই সব হবে। দীর্ঘ ভালোবাসার সংসারটি টিকিয়ে রাখার কম চেষ্টা তো আর করা হয়নি। সব সময় তো সব চাওয়া পূরণ হয় না। তবে যে-যেভাবে ভালো থাকতে চায়, তাকে সেভাবেই ভালো থাকতে দিতে হয়।