বিএবি ভোক্তা ঋণের সুদ বাড়াতে চায়

অনুৎপাদনশীল খাতের ঋণের সুদহারের ঊর্ধ্বসীমা তুলে দিতে চান ব্যাংক পরিচালকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) নেতারা। গতকাল বুধবার নতুন গভর্নর আবদুর রউফ তালুকদারকে শুভেচ্ছা জানাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে গিয়ে এ দাবি জানান বিএবির প্রেসিডেন্ট ও এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারসহ অন্য নেতারা।

কিছু কিছু ঋণের সুদহারে ঊর্ধ্বসীমা তুলে দেওয়ার বিএবি নেতাদের এই দাবি পর্যালোচনা করে দেখবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন গভর্নর রউফ তালুকদার।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিএবি নেতারা এসেছিলেন নতুন গভর্নরকে শুভেচ্ছা জানাতে। এ সময় তারা দুই-একটি ব্যাংকিং সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। এ সময় তারা উৎপাদনশীল খাত বিশেষ করে শিল্পঋণ ও রপ্তানি খাতের ঋণের সুদহার ৯ শতাংশে রাখার বিষয়ে একমত পোষণ করেন। তবে গাড়ি-বাড়ির ঋণ, ভোক্তা ঋণ বা এ ধরনের অনুৎপাদনশীল খাতের ঋণের ঊর্ধ্বসীমা তুলে দেওয়ার দাবি জানান। তাদের দাবি এই খাতগুলোতে ৯ শতাংশ সুদে ঋণ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।’ ‘বিএবির নেতাদের এই দাবি অনুযায়ী ঋণের ঊর্ধ্বসীমা তুলে দেওয়ার আশ্বাস না দিলেও দাবিটি পর্যালোচনা করবেন বলে জানিয়েছেন গভর্নর আবদুর রউফ তালুকদার’ যোগ করেন সিরাজুল ইসলাম।

দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের সুবিধার্থে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যাংক খাতের ঋণের সুদহার এক অঙ্কে (সিঙ্গেল ডিজিট) নামিয়ে আনা হয়। ২০২০ সালের ১ এপ্রিল থেকে সব ব্যাংকে সব ধরনের ঋণের ঊর্ধ্বসীমা ৯ শতাংশ নির্ধারণ করে সার্কুলার জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ঋণের সুদহার কমিয়ে আনার জন্য আমানতের সুদহারও কমিয়ে ৬ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

করোনা মহামারীর মধ্যে ঋণের চাহিদা তেমন ছিল না। তাছাড়া স্বল্প সুদে প্রণোদনার ঋণও পেয়েছেন অনেক ব্যবসায়ী। ফলে ব্যাংকগুলো ঋণের সুদহার কমিয়ে আনলেও তার কোনো প্রভাব দেখা যায়নি বাজারে।

এ বিষয়ে নতুন গভর্নর আবদুর রউফ তালুকদার যোগদান করেই এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, ঋণের সুদহারের ঊর্ধ্বসীমা তুলে  দেওয়ার কোনো প্রয়োজনীয়তা এখনো দেখা যায়নি। কেননা, এত কম সুদেও অনেকে ঋণ নেয়নি।

তবে বর্তমানে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম বৃদ্ধিতে বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি এতটাই বেড়েছে যে আমানতের প্রকৃত সুদহার অনেক কমে যাচ্ছে। এ কারণে গত বছরের আগস্টে বাংলাদেশ ব্যাংক আমানতের সুদহার নির্ধারণের ক্ষেত্রে গড় মূল্যস্ফীতিকে আমলে  নেওয়ার নির্দেশনা দেয়। ওই নির্দেশনা অনুযায়ী মেয়াদি আমানতের সুদহার কোনোভাবেই তিন মাস আগের গড় মূল্যস্ফীতির হারের কম হতে পারবে না।

গত জুন মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ। এর আগের মাসে মূল্যস্ফীতি ছিল ৭ দশমিক ৪২ শতাংশ। ফলে ব্যাংক খাতের মেয়াদি আমানতের গড় সুদহার দ্রুতই ৭ শতাংশে উঠে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই পরিস্থিতি ঋণের সর্বোচ্চ সুদহার ৯ শতাংশে থাকলে ব্যাংকের তহবিল ব্যয় কমে ২ শতাংশে নেমে আসবে। এর ফলে ব্যাংকের মুনাফা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে নতুন গভর্নর আবদুর রউফ তালুকদার যোগদানের এক সপ্তাহের মধ্যেই খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিলে বড় ধরনের ছাড় দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যাংকগুলো খুশি।

গতকাল গভর্নরের সঙ্গে দেখা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বের হওয়ার সময় বিএবির প্রেসিডেন্ট নজরুল ইসলাম মজুমদার সাংবাদিকদের বলেন, ‘নতুন নীতিমালার ফলে খেলাপি ঋণ আদায় বাড়বে। কেননা, এখন খেলাপি ঋণ আদায়ের দায়িত্ব পুরোপুরি ব্যাংকের হাতে দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে অনুমোদনের জন্য অতিরিক্ত সময় ক্ষেপণ হবে না।’

তিনি আরও বলেন, ব্যাংক তার গ্রাহককে সবচেয়ে ভালো চেনে। কোন গ্রাহককে এই ছাড় দিলে তারা টাকা ফেরত দেবে তা ব্যাংক ভালো বুঝতে পারে। ব্যাংক এই কাজটি ঠিকমতো করতে পারলে খেলাপি ঋণ আদায় বাড়বে। ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ থাকা ভালো নয়। উন্নয়ন সহযোগী বা দাতা সংস্থারা বিষয়টি ভালোভাবে নেয় না।