দেশীয় গোয়েন্দা তৈরি করতে চেয়েছি

ঈদের এত এত কনটেন্টের ভিড়ে প্রকৃত অর্থেই প্রশংসা কুড়িয়েছে ওয়েব সিরিজ ‘কাইজার’। এটি নির্মাণ করেছেন তানিম নূর। তার সঙ্গে কথা বলেছেন মাসিদ রণ

কাইজার...

‘কাইজার’ একই নামের একজন গোয়েন্দার গল্প। তবে যারা কাজটি ওটিটি প্ল্যাটফর্ম হইচইতে দেখেছেন, তারা আমার সঙ্গে একমত হবেন যে, এটি যতটা না গোয়েন্দা গল্প, তার চেয়ে পারিবারিক গল্প বেশি। এবারের সিরিজে আমি কাইজার চরিত্রটিকে এস্টাবলিশ করার চেষ্টা করেছি। তার ব্যাকড্রপটা তুলে ধরেছি। স্বাভাবিকভাবেই উঠে এসেছে তার পরিবার, বন্ধুত্ব ইত্যাদি। এই সিজনে কাইজার একা একটা মানুষ। তার ডিভোর্স হয়েছে, একটি ছোট মেয়ে রয়েছে। এক্স ওয়াইফ তারই সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধুকে বিয়ে করেছে।

নির্মাণের কারণ...

আমি নব্বই দশকে বেড়ে উঠেছি। আমার সমসাময়িক যারা আছেন তারা আসলে তিন গোয়েন্দা পড়েই বড় হয়েছি। আরেকটি জেনারেশন ভিডিও গেমের মাধ্যমে বেড়ে উঠেছে। এই দুই জেনারেশনের নস্টালজিয়ার নাম হলো ফেলুদা, ব্যোমকেশের মতো গোয়েন্দা চরিত্র। কিন্তু আমাদের দেশের সিনেমা-নাটকে সেভাবে কোনো গোয়েন্দা চরিত্র দাঁড়ায়নি। তাই আমার প্রধান উদ্দেশ্যই ছিল একটি দেশীয় গোয়েন্দা চরিত্র তৈরি করা। যাতে আমার মতো গোয়েন্দা কাহিনীপ্রেমী অনেক দর্শক যাতে পুনরায় সেই ফিলিংসটা পায়। আর সেই কাজে আমি যথেষ্ট সফল বলতেই পারি। দর্শক থেকে শুরু করে সামলোচক সবার কাছ থেকে কাইজার-এর অনেক প্রশংসা পাচ্ছি। নির্মাণ শুরুর আগেই হইচই কর্তৃপক্ষকে বলেছিলাম, কাইজার-এর প্রথম গল্পটি সাড়া ফেললে এটি নিয়ে আরও কাজ করব। যাতে চরিত্রটি মানুষ অনেক দিন মনে রাখতে পারে। আশা করছি কাইজার-এর সফলতা দেখে প্রযোজকরা নতুন সিজনের কথা ভাববেন। তখন তো আর কাইজার-এর পেছনের গল্প জানানোর দরকার পড়বে না। দ্বিতীয় সিজনে মূল গল্পে ঢুকে যাব। এখন থেকে কাইজারকে জটিল সব কেইস মীমাংসা করতে দেখা যাবে। 

সফলতার নেপথ্যে...

একটি কাজ সফল তখনই হয় যখন এরসঙ্গে জড়িত প্রতিটি সেক্টর সততার সঙ্গে কাজ করে। আমার প্রতিটি শিল্পী (আফরান নিশো, দীপান্বিতা মার্টিন, রিকিতা নন্দিনী, শতাব্দী ওয়াদুদ, ইমতিয়াজ বর্ষণ, নূর ইমরান) ও কলাকুশলী অনেক যত্ন নিয়ে কাজ করেছেন। বিশেষত, প্রযোজকদের কথা বলতেই হয়। তারা আমাকে স্বাধীনভাবে গল্পটি বলার সুযোগ দিয়েছেন। আর গল্পের কথা বলতে গেলে, দর্শক হয়তো তাদের নস্টালজিয়া নতুন করে জাগাতে পেরেছেন। এছাড়া কাইজারের সঙ্গে তার মেয়ের সম্পর্ক, বন্ধুত্বের জায়গাগুলো দর্শককে টেনেছে বলে আমার ধারণা।

শুরু থেকেই নিশো...

দেখুন, আফরান নিশোকে নিয়ে বাজারে নানা কথা শোনা যায়। কিন্তু আমি তার সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে এমন কিছুই পাইনি যা পরিচালক হিসেবে আমাকে একটু হলেও খারাপ লাগাবে। আমি তাকে আগে থেকেই ভালো অভিনেতা হিসেবে জানি। তাই কাইজার লেখার সময় থেকেই আমার মনে হচ্ছিল এই চরিত্রটি শুধু তাকে দিয়েই করানো উচিত। এরপর তিনি গল্প পড়ে পছন্দ করলেন। এত ব্যস্ত একজন অভিনেতা, কিন্তু চরিত্রটি হয়ে উঠতে প্রিপারেশনের জন্যই আমাকে অনেক সময় দিলেন। প্রায় দুই মাস অন্য কোনো কাজ করলেন না। একজন অভিনেতার কাছ থেকে পরিচালক হিসেবে এর বেশি আর কী আশা করা যায়?