'হাওয়া ভবনের দুর্নীতি দেখে অভ্যস্ত বিএনপি নেতারা উন্নয়ন দেখেন না'

আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেছেন, মহামারি করোনার পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বে অর্থনৈতিক মন্দা চলছে। ডলার, ইউরোর দাম বাড়ছে-কমছে। তার ঢেউ বাংলাদেশেও লেগেছে। দেশে অর্থনৈতিক মন্দা যাতে দীর্ঘমেয়াদি না হয়, জনগণ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্যোগ নিয়েছেন।

শনিবার (২৩ জুলাই) সকালে কুমিল্লার মেঘনা উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

দেশে শতভাগ বিদ্যুতায়ন হয়েছে এরপরও লোডশেডিং হয় কেন? বিএনপি নেতাদের এমন প্রশ্নের প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার সাড়ে তিন হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন রেখে গিয়েছিলো। বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে এক মেগাওয়াট বিদ্যুৎও উৎপাদন করতে পারেনি। তারা মানুষকে শুধু খাম্বা দিয়েছিলো। আর এখন বড় বড় কথা বলেছে। তাদের তো লজ্জা হওয়া উচিত।

তিনি বলেন, খরচ কমিয়ে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি থেকে জনগণকে রক্ষার জন্যই লোডশেডিং করা হচ্ছে।

বিএনপি নেতাদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের রিজার্ভ নাকি সবচেয়ে নিম্ন পর্যায়ে। আপনাদের সময়ে কত ছিলো? এই সংকটের সময়েও দেশের রিজার্ভ ৪০ বিলিয়ন ডলার। ২০০৬ সালে বিএনপির সময় ছিলো সাড়ে ৫ বিলিয়ন ডলার। তারেক জিয়া দুর্নীতি, সন্ত্রাস, হত্যা ও খুনের দায়ে বিদেশে পলাতক। বিদেশে বসে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের কলকাঠি নাড়ছে। হাওয়া ভবন, খাওয়া ভবন বানিয়ে দেশে লুটপাট করেছে। এখন তারা সরকারের বিরুদ্ধে নির্লজ্জ মিথ্যাচার করছেন। 

সার, বিদ্যুৎ না দিতে পেরে উল্টো গুলি করে মানুষকে হত্যা করেছে। কৃষি, বিদ্যুৎ খাতে ধস নেমেছিলো। আজ আমরা কৃষিখাতে স্বয়ংসম্পূর্ণ। এরপরও তারা কিভাবে মিথ্যাচার করে? মিথ্যাচার করতে আপনাদের লজ্জা হয় না? প্রশ্ন রাখেন তিনি।

হাওয়া ভবনের দুর্নীতি দেখে অভ্যস্ত বিএনপি নেতারা উন্নয়ন দেখেন না- এমন মন্তব্য করে হানিফ বলেন, দেশের রফতানি আয়, রেমিটন্সে সর্ব্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। কর্ণফুলী টানেল, পায়রা বন্দর, মাতারবাড়ি ডি সি পোর্টসহ অজস্র উন্নয়ন কর্মকান্ড হচ্ছে। বিএনপি নেতারা উন্নয়ন দেখে না, তারা দেখে শুধু দুর্নীতি। খালেদা জিয়া এতিমের টাকা আত্মাসাৎ মামলায় আদালত কর্তৃক দণ্ডপ্রাপ্ত। তার বিরুদ্ধে নাইকো, গ্যাটকো মামলাও আছে। যারা এতিমের টাকার লোভ সামলাতে পারেনি। বিএনপির সব নেতাই দুর্নীতিবাজ। তারা আজ সরকারের দুর্নীতি খুঁজে বেড়ায়।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন,  আমরা আজ উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে পৌঁছে গেছি। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২০৩১ সালের আগেই আমরা মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে।

পদ্মা সেতু শুধু ইট পাথরের সেতু নয়, বরং অন্যায়ের বিরুদ্ধে জয় এবং ন্যায়ের প্রতীক মন্তব্য করে করে হানিফ বলেন, বিশ্বব্যাংক মিথ্যা অভিযোগে অর্থায়ন প্রত্যাহার করেছিলো। কানাডার ফেডারেল কোর্ট প্রমাণ না পেয়ে বলেছে এ অভিযোগ ফেক ছিলো। শেখ হাসিনার সরকারকে হেয় করার জন্য মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হয়েছিলো। শেখ হাসিনা বলেছিলেন নিজ অর্থে পদ্মা সেতু হবে। দেখিয়ে দেব পারি কিনা। আজ পদ্মা সেতু বাংলাদেশের সক্ষমতার প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। সারাবিশ্বে পদ্মা সেতু শেখ হাসিনার দৃঢ়তার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা থেকে শুরু করে সব অর্জন আওয়ামী লীগের হাত ধরে এসেছে। এখানে অন্য কারো ভাগ নেয়ার সুযোগ নেই। জাতির পিতা আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন। আর বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা দেশকে উন্নয়ন, অগ্রগতিতে রোল মডেলে পরিণত করেছেন।

তৃণমূলে দলকে সংগঠিত করা ও ঐক্যবদ্ধ রাখার আহবান জানিয়ে নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্য করে হানিফ বলেন, আওয়ামী লীগের মূল শক্তি তৃণমূলের নেতা-কর্মী ও এদেশের জনগণ। আওয়ামী লীগ জনগণের সমর্থন ছাড়া কখনো ক্ষমতায় আসেনি। মানুষ যাতে কষ্ট না পায়, সাধারণ মানুষেরে সাথে ভালো ব্যবহার করুন। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা নিরলস পরিশ্রম করে দেশকে গড়ে তুলছেন। আপনার সরকারের উন্নয়ন মানুষের কাছে সঠিকভাবে তুলে ধরুন। ভালো আচরণ করে মানুষের মন জয় করতে পারবে আগামী জাতীয় সংসদ নিবাচনে শেখ হাসিনা নিরঙ্কুশ বিজয় ক্ষমতায় আসবে ইনশাআল্লাহ।

ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের সম্মানিত অতিথি কুমিল্লা-১ আসনের সাংসদ মেজর জেনারেল (অবঃ) সুবিদ আলী ভূইয়া, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এমপি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সবুর, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী। ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধন করেন কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ম. রুহুল আমিন।

সম্মেলনে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রোশন আলী মাস্টার। মেঘনা উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি শফিকুল আলমের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সাইফুল শিকদারের সঞ্চালনায় বিশেষ বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি আবদুল মান্নান জয়, শেখ আবদুল আউয়াল, সাংগঠনিক সম্পাদক নাসির উদ্দিন শিশির, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক পারভেজ হোসেন সরকার ও শ্রম বিষয়ক সম্পাদক জহিরুল ইসলাম খন্দকার। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশন কাউন্সিলের প্রস্তুতি চলছে।