গরমে গরুর মাংস কি কম খাবেন?

প্রতি বছর কোরবানির আগে চিকিৎসক এবং পুষ্টিবিদদের কমবেশি যে প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়, যেমন আমার তো হৃদরোগ আছে, আমি কি কোরবানির মাংস খেতে পারব?

আসলে হৃদরোগ হওয়ার অন্যতম কারণ চর্বিযুক্ত খাবার। মাংসের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে চর্বি থাকে, যার কারণে হৃদরোগীদের মাংস খেতে নিষেধ করা হয়। যদি এক কথায় বলে দেওয়া হয়; আপনি হৃদরোগে ভুগছেন, আপনি কোরবানিতে মাংস খেতে পারবেন না, তবে তা অনেকের জন্য মনঃপীড়ার কারণ হয়। আবার যদি বলা হয়; হ্যাঁ, আপনি মাংস খেতে পারবেন, তাহলে তার জন্য ঝুঁকির কারণ হবে।

তবে কোনো ধরনের মাংস থেকে চর্বি সরিয়ে দিতে পারলে হৃদরোগীদের মাংস খেতে আপত্তি থাকার কারণ নেই। মাংস রান্নার ক্ষেত্রে কিছু নিয়মকানুন মেনে রান্না করা হলে সীমিত পরিমাণে (কিডনির কার্যকারিতা স্বাভাবিক থাকলে) মাংস খাওয়া যেতে পারে।

রান্নার জন্য মাংসের চর্বিবিহীন অংশ (Lean meat) বাছাই করে নিতে হবে। দৃশ্যমান চর্বি কেটে বাদ দিতে হবে। এরপর নির্বাচিত মাংসের মধ্যে প্রয়োজনীয় মসলা মেখে আগে থেকে রেখে দিতে হবে। পরে ননস্টিক ফ্রাইপ্যানে ভালোভাবে সেঁকে রান্না করতে হবে। সঙ্গে কিছু সবজি যেমন গাজর, ব্রোকলি, টমেটো, পেঁয়াজ ইত্যাদিও রাখতে পারেন। এতে করে প্রোটিনের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ফাইবার, ভিটামিন ও মিনারেলস পাওয়া যাবে ।

বাছাই করা মাংসে প্রয়োজনীয় সব মসলা মেখে তারপর গ্রিল করে সেই মাংস খাওয়া যেতে পারে। প্রথমে মাংসকে আগুনে ঝলসে নিতে হবে; এতে করে মাংসের চর্বি ঝরে পড়ে যাবে। এরপর প্রয়োজনীয় মসলা দিয়ে মাখিয়ে মাইক্রোওভেনে মাংস রান্না করে খাওয়া যেতে পারে। একটি গরম পানিভর্তি পাতিলের ওপর ছিদ্রযুক্ত পাত্র বসিয়ে তাতে মাংস দিয়ে বাষ্পের (steam) মাধ্যমে সেদ্ধ করে নিতে হবে। তারপর প্রয়োজনীয় মসলা দিয়ে মাখিয়ে মাংস রান্না করে খাওয়া যেতে পারে। মাংস গরম পানিতে সেদ্ধ করে গরম অবস্থায় পানি ছেঁকে ফেলে দিতে হবে। এরপর প্রয়োজনীয় মসলা দিয়ে মাখিয়ে রান্না করে খাওয়া যেতে পারে।

উপরোক্ত যেকোনো পদ্ধতিতে রান্না করার পরও যদি তেল-চর্বি থেকে যায় তবে কয়েকটি উপায়ে তা দূর করা যেতে পারে

           চামচ দিয়ে তেল-চর্বি উঠিয়ে ফেলা।

           বরফের টুকরো দিয়ে তেল-চর্বি উঠিয়ে ফেলা।

           দৃশ্যমান তেল-চর্বি পাউরুটির টুকরো দিয়ে সরিয়ে ফেলা যায়।

           রান্না করার পর এক রাত ফ্রিজে রেখে ঠান্ডা করে ওপরে জমে থাকা তেল-চর্বি সরিয়ে ফেলা যায়। তা ছাড়া হৃদরোগীরা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ঈদ-পরবর্তী সময়ে ভালো থাকার চেষ্টা করুন।