বেলস পালসি আমাদের মুখের এক ধরনের প্যারালাইসিস। আমাদের ৭ নম্বর ক্রেনিয়াল নার্ভটিকে ফেসিয়াল নার্ভ বলে। যখন এটি আংশিক বা সম্পূর্ণ প্যারালাইজড হয়ে যায় তখন তাকে ফেসিয়াল প্যারালাইসিস বা পালসি বলা হয়। ব্রেইন স্ট্রোক বা হেড ইনজুরির কারণে বা ফেসিয়াল পালসি বা ঠান্ডাজনিত কারণেও হয় বেলস পলিসি। এটি যেকোনো বয়সের নারী ও পুরুষ উভয়েরই হতে পারে। তবে পুরুষের তুলনায় নারীদের এ রোগ বেশি দেখা যায়।
কেন হয়?
বেলস পালসি বিভিন্ন কারণে হতে পারে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য
ভাইরাল ইনফেকশন
মধ্য কর্ণে ইনফেকশন
ঠান্ডাজনিত কারণ
আঘাতজনিত কারণ
মস্তিষ্কের স্ট্রোকজনিত কারণ
ফেসিয়াল টিউমার
কানের অপারেশন পরবর্তী ফেসিয়াল নার্ভ ইনজুরি ইত্যাদি
লক্ষণ
আক্রান্ত রোগীর মুখ একদিকে বাঁকা হয়ে যায়
আক্রান্ত পাশের চোখ বন্ধ হয় না
আক্রান্ত পাশের চোখ দিয়ে পানি পড়ে
কুলি করতে গেলে অন্যপাশে চলে যায়
খাবার গিলতে কষ্ট হয়
কপাল ভাঁজ করতে পারে না
অনেক সময় কথা বলতে কষ্ট হয়
পানি পান করতে কষ্ট হয়
নাক কুঁচকাতে কষ্ট হয়
ফুঁ দিতে পারে না
মুখের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়
নির্ণয় করবেন কীভাবে?
ক্লিনিক্যালি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ও রোগীর ইতিহাস জেনে রোগ নির্ণয় করতে পারেন। তবে অনেক সময় কিছু প্যাথলজিক্যাল ও রেডিওলজিক্যাল পরীক্ষা করার প্রয়োজন পড়ে। যেমন : ১. কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট উইথ ইএসআর, ২. এক্স-রে অব টিএম (টেম্পরো-মেন্ডিবুলার) জয়েন্ট, ৩. নার্ভ কন্ডাকশন ভেলসিটি (এনসিভি) অব ফেসিয়াল নার্ভ ইত্যাদি।
চিকিৎসা
এ রোগের চিকিৎসা নানা কারণের ওপর নির্ভর করে। ওষুধ কারণ অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন। তবে সব ক্ষেত্রেই ওষুধের পাশাপাশি মূল চিকিৎসা হলো ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা। এ রোগে একজন বিশেষজ্ঞ ফিজিওথেরাপি চিকিৎসক রোগীর অবস্থা অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের ট্রিটমেন্ট প্ল্যান করে থাকে, এর মধ্যে
মেকানিক্যাল থেরাপি : আইআরআর, প্যারাফিন ওয়াক্স থেরাপি, আলট্রা সাউন্ড থেরাপি এবং ইলেকট্রিক্যাল স্টিমুলেশন।
ম্যানুয়াল থেরাপি : প্রো-প্রাইওসেপ্টিভ নিউরো মাস্কুলার ফ্যাসিলিটেশন, ইনফ্রা রেড রেডিয়েশন থেরাপি, ইলেকট্রিক্যাল ইস্টিমুলেশন থেরাপি, অ্যাক্টিভ ও প্যাসিভ ফেসিয়াল মাসল এক্সারসাইজ, স্পিচ রি-এডুকেশন থেরাপি, বেলুনিং এক্সারসাইজ, রিঙ্কলিং এক্সারসাইজ ইত্যাদি।
যা মেনে চলতে হবে
চিকিৎসা চলাকালীন রোগীর কিছু নিয়মকানুন মেনে চলতে হবে।
ঠান্ডা আবহাওয়া থেকে দূরে থাকা।
আইসক্রিম ও ফ্রিজের ঠান্ডা খাবার খাওয়া যাবে না।
বাইরে বা রোদ্রে গেলে চোখে সানগ্লাস ব্যবহার করতে হবে, যেন আক্রান্ত চোখে ধুলাবালু ঢুকতে না পারে।
রাতে ঘুমানোর সময় আক্রান্ত চোখের ওপর রুমাল বা নরম কাপড় দিয়ে রাখতে হবে, যাতে কোনো কিছু চোখের মধ্যে না পড়ে।
ফিজিওথেরাপি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যায়াম করতে হবে।