ঝালকাঠির রাজাপুরে ছয় মাস মেয়াদি মৌলিক সাক্ষরতার কার্যক্রমে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে প্রকল্পটির স্থানীয় প্রতিনিধির বিরুদ্ধে। এই প্রকল্পে চুক্তিভিত্তিক ছয় মাস মেয়াদি নিয়োগকৃত শিক্ষকরা তাদের সম্মানী ভাতা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে অভিযোগ করেছেন।
উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি এবং বর্তমানে রাজাপুর উপজেলা মৎস্য কার্যালয়ের মেরিন ফিশারিজ কর্মকর্তা প্রকল্পটির কো-অর্ডিনেটর মাহমুদুল হাসানের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ, তিনি একজন সাংসদের ‘অ্যাম্বাসাডর’ পরিচয় দিয়ে থাকেন।
জানা গেছে, ২০১৯ সালে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর আওতায় দেশের ৬৪ জেলায় ছয় মাস মেয়াদি মৌলিক সাক্ষরতার একটি প্রকল্প চালু করা হয়। ভিলেজ অ্যান্ড সিটি ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি (ভিসিডিএস) নামে একটি এনজিও এ উপজেলায় কাজ করার দায়িত্ব পায়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এই প্রকল্পের সভাপতি।
ওই সময়কার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহাগ হাওলাদার উপজেলার ছয় ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের নিয়ে ৫৪টি ওয়ার্ডে তিনশ কেন্দ্র বানিয়ে ছয়শ শিক্ষক-শিক্ষিকা ও বিশজন সুপারভাইজরসহ ছয়শ বিশজন লোকবল নিয়োগ দিয়ে এ প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু করলেও হঠাৎ কভিড-১৯ শুরু হলে প্রকল্পের সকল কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়। পরে করোনা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলে ইউএনও মোক্তার হোসেন দায়িত্বে থাকা অবস্থায় সদরের বাইরে গিয়ে ২০ সালের ১৭ ডিসেম্বর আঙ্গারিয়ার একটি কেন্দ্র উদ্বোধনের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হয়। পুনরায় কভিডের ধাক্কা আসায় প্রকল্পের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। এরপর শুরু করে ২০২২ সালের জুনে প্রকল্পের কার্যক্রম শেষ করে ডিসিডিএস।
স্থানীয়রা জানায়, উদ্বোধনের পর আর কেউ খোঁজ রাখেনি মৌলিক সাক্ষরতা প্রকল্পের। কোনো কোনো কেন্দ্রে দুয়েক দিন স্থানীয়দের ডেকে চা-বিস্কুট খাইয়ে ছবি তুলে ক্লাসের কার্যক্রম শেষ করেন সেখানকার নিয়োগকৃত শিক্ষক ও সুপারভাইজররা।
সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে, ওই সব কেন্দ্রের জন্য বই-খাতা দেওয়া হলেও প্রকল্প শেষেও বাধা অবস্থাতেই রয়ে গেছে সেসব বইপত্র। আবার কোনো কোনো এলাকায় এ কার্যক্রম সম্পর্কে কিছুই জানেন না সেখানকার স্থানীয়রা।
প্রকল্পের নিয়োগকৃত শিক্ষকরা অভিযোগ করে বলেন, ঈদুল আজহার আগে দেওয়া চার মাসের সম্মানী বাবদ আমাদের এক একজন শিক্ষকের জন্য ৯৬০০ টাকা বরাদ্দ হলেও স্থানীয় সাংসদের প্রভাব দেখিয়ে এই প্রকল্পের প্রতিনিধি আমাদের কাউকে তিন হাজার, কাউকে চার হাজার আবার কোনো কোনো শিক্ষককে সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত দিয়েছে। আবার অনেককে কোনো টাকাই দেওয়া হয়নি। মাহমুদ ভাই স্থানীয় সাংসদের ‘অ্যাম্বাসাডর’, তাই কেউ এর প্রতিবাদ করতে সাহস পায়নি।
তারা বলেন, নিয়োগপ্রাপ্ত অনেকের নাম পরিবর্তন করে নতুন লোকের নাম তালিকাভুক্ত করে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রকল্পের স্থানীয় প্রতিনিধিরা।
এ ব্যাপারে মাহমুদুল হাসানকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, ‘প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ায় ৫শ জনের বেতন ভাতা দেওয়া হয়েছে। বাকি একশজনের টাকা পর্যায়ক্রমে দেওয়া হবে।’ সম্মানী ভাতা কেটে রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ফোন কেটে দেন। এরপর বেশ কয়েকবার তাকে ফোন করা হলেও তিনি আর কল ধরেননি।
রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং এ প্রকল্পের সভাপতি নুসরাত জাহান খান বলেন, বিষয়টি শুনেছি। তবে এ ব্যাপারে আমার কাছে কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।