নিবন্ধন নিয়ে রিট মামলা চালাবে না ‘অধিকার’, খারিজ হাইকোর্টের

বেসরকারি মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’র নিবন্ধন নবায়ন নিয়ে করা রিট আবেদন খারিজ (রুল ডিসচার্জ) করে দিয়েছে উচ্চ আদালত।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জানান, অধিকারের নিবন্ধন নিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রুলের শুনানি শেষে বুধবার রায়ের জন্য দিন ধার্য ছিল। তবে নিবন্ধন নবায়নের আবেদন না মঞ্জুরের বিরুদ্ধে আপিলের বিষয়টি উল্লেখ করে বুধবার রিট মামলা না চালানোর (নন প্রসিকিউশন) সিদ্ধান্তের কথা হাইকোর্টকে জানান রিটকারীপক্ষের আইনজীবী। শুনানি নিয়ে বিচারপতি মো. খসরুজ্জামান ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের হাইকোর্ট বেঞ্চ আবেদন খারিজের এ আদেশ দেয়।

নিবন্ধন নবায়ন করতে ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে এনজিওবিষয়ক ব্যুরোতে আবেদন করে অধিকার। আবেদন না-মঞ্জুর হওয়ার পর ২০১৯ সালে ওই হাইকোর্টে রিট আবেদন করে সংগঠনটি। শুনানি নিয়ে ওই বছরের ১৩ মে এনজিওবিষয়ক ব্যুরোর ওই সিদ্ধান্তের বৈধতা এবং আইন মেনে নিবন্ধন নবায়নের প্রশ্নে রুল দেয় হাইকোর্ট। গত মে মাসের শেষ সপ্তাহে রুল শুনানির জন্য হাইকোর্টের কার্যতালিকায় আসে। গত ৫ জুন নিবন্ধন নবায়ন করতে অধিকারের আবেদন নামঞ্জুর করে এনজিওবিষয়ক ব্যুরো। পরে এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গত ২৮ জুন আপিল করে অধিকার।

আর এনজিওবিষয়ক ব্যুরোরা এ সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টে একটি সম্পূরক আবেদন করে সংগঠনটি। বুধবার আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মো. রুহুল আমিন ভূঁইয়া। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মো. আহসানুজ্জামান। রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কাজী মাঈনুল হাসান শুনানিতে ছিলেন।

অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন ভূঁইয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এনজিওবিষয়ক ব্যুরোর ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সচিব বরাবর আপিল করেছি। এমন পরিস্থিতিতে আপিলের সিদ্ধান্ত কী আসে সেটি দেখে পরবর্তী সিদ্ধান্তের যুক্তিতে মামলাটি নন প্রসিকিউশনের ও সম্পূরক আবেদনের ওপর রুলের আরজি না করার সিদ্ধান্ত নিই। আদালত রুল খারিজ করে আদেশ দিয়েছেন।’

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মাঈনুল হাসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আজ মামলাটি রায়ের কার্যতালিকার শুরুতে ছিল। কিন্তু তাদের আইনজীবী বলেন এটি তারা মামলা আর চালাবেন না। এর আগে তারা সম্পূরক আবেদনের পর অধিকতর রুলের জন্য আবেদন করেছিলেন। আমরা বলেছি, মামলার এ পর্যায়ে এসে অধিকতর রুল দেওয়া সমীচীন হবে না। আদালত দুপক্ষের বক্তব্য শুনে রিট মামলাটি খারিজ করেছেন।’