নির্লোভ, পেশাদার সাংবাদিকতার অনন্য ব্যক্তিত্বের অধিকারী দেশ রূপান্তরের সম্পাদক অমিত হাবিব চলে গেলেন মাত্র ৫৯ বছরে। তার হাত ধরে বাংলাদেশে অনেক পেশাদার সাংবাদিক গড়ে উঠেছেন। আধুনিক, মননশীল, নির্মোহ পেশাদারির এবং নতুন যুগের সাংবাদিকতায় তিনি শিক্ষকের ভূমিকা পালন করেছেন। বেঁচে থাকলে দেশের গণমাধ্যমকে আরও অনেক কিছু দিতে পারতেন। তার এই অকালপ্রয়াণ দেশের গণমাধ্যম শিল্পের বড় ক্ষতি।
কথাসাহিত্যিক সাংবাদিক আনিসুল হক অমিত হাবিবকে একজন অঙ্গীকারবদ্ধ এবং কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি আনুগত্য নন- এমন ব্যক্তি হিসেবে খুব কাছ থেকে দেখেছেন।
দেশ রূপান্তরকে তিনি বলেন, ‘একজন অঙ্গীকারবদ্ধ সাংবাদিক ছিলেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তচিন্তার মানুষ ছিলেন। কখনো কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি অন্ধ আনুগত্য ছিল না তারা। ক্ষমতাসীনদের কাছে গিয়ে, ক্ষমতার বলয়ে থাকা সুবিধা নেওয়া এসব তার মধ্যে ছিল না। সংবাদপত্রকে মানুষের কল্যাণে, নিরপেক্ষতা বজায় রেখে সমাজ পরিবর্তনে ব্যবহার করতে হবে-এই নীতিতে তিনি বিশ্বাস করতেন। বলা যায়, সাংবাদিকতাকে অনেক উৎকৃষ্ট জায়গায় নিয়ে যাওয়ার জন্য নিজের জীবনটা দান করে গেলেন।’
তিনি আরো বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ নানা কারণে এখন তো সাংবাদিকতা অনেক ক্ষেত্রেই চ্যালেঞ্জের মুখে। তবে, এই কঠিন পরিস্থিতিই আসলে সাংবাদিকতার উপযুক্ত সময়। সেই জায়গায় অমিত হাবিবের মতো শুদ্ধতাবাদী সাংবাদিক খুব বেশি প্রয়োজন ছিল, যাদের আত্মমর্যাদাবোধ আছে। যত আমরা অনুগত সাংবাদিক দেখতে থাকব তত বেশি আমাদের ক্ষতি হবে। এদিক থেকেই আমরা অমিত হাবিবের অভাব খুব বেশি অনুভব করব।’