নতুনদের নতুন চ্যালেঞ্জ শুরু

এই সিরিজে বাংলাদেশ দলের সিংহভাগ ক্রিকেটার পুরনো। এছাড়া বাকি সব কিছুই নতুন। দলের নেতৃত্ব নতুন, তাই মাঠে সিদ্ধান্তও আসবে নতুন, তা যারা পূরণ করবেন তাদের জন্যও নতুন ব্যাপার হলো নিজে সিদ্ধান্ত নেওয়া। বোলিং-ব্যাটিংয়ে এখন সাকিব-মুশফিক-মাহমুদউল্লাহর দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে না পরামর্শের জন্য। টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের এরকম সব নতুন চ্যালেঞ্জ শুরু হচ্ছে আজ থেকে, হারারেতে জিম্বাবুয়ের সঙ্গে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে। বাংলাদেশের এই নতুন পথচলা কেমন হয় অপেক্ষাকৃত সহজ প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ের সঙ্গে এই সিরিজে সেটাই দেখার আছে।

বাংলাদেশের জন্য জিম্বাবুয়ে চেনা প্রতিপক্ষ। দলটির সঙ্গে বাংলাদেশের অনেক প্রথম মিশে আছে। তেমনি অভিজ্ঞদের ছেড়ে নতুন শুরুর এই সাহসটাও মিশে গেল জিম্বাবুয়ের সঙ্গে। বাংলাদেশ ক্রিকেটের পা-বদের অভিষেকের পর এই প্রথম তাদের ছাড়া আনুষ্ঠানিক ভাবে খেলছে দল। এর আগে গত বছর নিউজিল্যান্ডে একটি টি-টোয়েন্টিতে সাকিব-মুশফিক-মাহমুদউল্লাহ-তামিমকে ছাড়া নেমেছিল বাংলাদেশ। ওই ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন লিটন দাস। তবে ম্যাচটিতে অভিজ্ঞদের না থাকা পূর্বপরিকল্পিত ছিল না। তামিম ওই সিরিজে ব্যক্তিগত কারণে ছুটিতে যান। সাকিব আল হাসান ছিলেন না তৃতীয় সন্তানের জন্ম উপলক্ষে। মুশফিক-মাহমুদউল্লাহ দুজনই ইনজুরিতে বাদ পড়েন। এই সিরিজে শুধু সাকিব বিশ্রামে আছেন। বাকি তিনজনের তামিম অবসরে আর মুশফিক-মাহমুদউল্লাহ বাধ্যতামূলক বিশ্রামে। তাই এবারই প্রথম অভিজ্ঞদের আনুষ্ঠানিক ভাবে বাইরে রেখে খেলছে বাংলাদেশ।

তারকারা না থাকলেও কাগজে-কলমে এগিয়ে নুরুল হাসান সোহানের দল। কিন্তু টি-টোয়েন্টিতে তো এই এগিয়ে থাকার মানে নেই। ফরম্যাটটিতে এমনিতেই দুর্বল বাংলাদেশ। ২০২১ বিশ্বকাপ ব্যর্থতা থেকে টি-টোয়েন্টিতে যেন কিছুই ভালো যাচ্ছে না। আসরের আগে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডকে ঘরের মাঠে হারানোর যে তৃপ্তি ছিল তা এখন দূর অতীত। এরপর পাকিস্তান-উইন্ডিজের মতো টি-টোয়েন্টির সেরা দলের বিপক্ষে সাফল্য আসেনি বাংলাদেশের। তাই আগামী বিশ্বকাপের পরিকল্পনাও ঠিক হচ্ছে না। গত উইন্ডিজ সফর থেকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পরিকল্পনা শুরুর কথা থাকলেও তা পিছিয়ে গেছে। এখন এশিয়া কাপ থেকে পরিকল্পনা শুরুর চিন্তা আছে। তার আগে জিম্বাবুয়ে সিরিজে নিজেদের খারাপ-ভালো দিক দেখে নিতে চায় বাংলাদেশ। সেই চিন্তা থেকেই তারুণ্যনির্ভর দল পাঠানো হয়েছে।

সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের একাদশ উইন্ডিজ সিরিজের মতো হবে না। পেসার তিনজনও থাকতে পারেন। ওপেনে ভিড় থাকায় সাকিবের জায়গা তিনে নেমে যাবেন লিটন। তবে নাজমুল হোসেন শান্ত একাদশে থাকলে লিটনকে চারে খেলতে হবে। অনেক দিন পর ছোট ফরম্যাটের দলে ফিরতে পারেন এনামুল হক বিজয়, তার জুটি মুনিম। মাহমুদউল্লাহ-মুশফিক না থাকায় সোহান ও আফিফের দায়িত্ব হবে মিডল অর্ডারের। লোয়ার অর্ডারে নেমে কয়েক ওভারের চাপে থাকবেন না তারা। সেই চাপটা নিতে হবে শেখ মাহেদী ও মোসাদ্দেককে। আপাতত এ দুজনই বাংলাদেশের হার্ডহিটার। এছাড়া ডান হাতি পেসারদের মধ্যে তাসকিন আহমেদ এক নম্বর চয়েজ, তেমনি বাঁহাতিতে মোস্তাফিজ। তৃতীয় পেসার হিসেবে শরিফুলের খেলার সম্ভাবনাই বেশি। তবে একজন স্পিনার বেশি খেলাতে চাইলে মোসাদ্দেকের বদলে নাসুম এগিয়ে থাকবেন।

গত সিরিজে জিম্বাবুয়েকে ২-১-এ হারিয়েছিল বাংলাদেশ। এবারও সেই দিকেই তাকিয়ে আছেন আফিফ, ‘অবশ্যই আমরা সিরিজ জয়ের জন্যই এসেছি। যেন তিন ম্যাচই জিততে পারি সেই চেষ্টা থাকবে।’ নিজেদের নতুন দায়িত্ব পালনে কোনো কার্পণ্য করবেন না, তেমনি এই সিরিজ থেকেই নিজের বিশ্বকাপ পরিকল্পনা সাজানোর ইচ্ছাও নেই আফিফের। তার জন্য আরও সময় আছে বলে জানান, ‘দেখেন বিশ্বকাপ নিয়ে এত আগেই আমি কিছু ভাবছি না। তা এখনো কিছুটা দূরে। আপাতত আমরা এই সিরিজে তাকিয়ে। আমি চাই আমাকে যে দায়িত্ব দেওয়া হবে তা যেন পুরোপুরি পালন করতে পারি। যেন দিন শেষে নিজেকে বলতে পারি আমি শতভাগ দিয়েছি।’

মিরাজদের মতো শতভাগ দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে প্রস্তুত জিম্বাবুয়েও। স্বাগতিকদের জন্য সাম্প্রতিক সুখস্মৃতি ২০২২ বিশ্বকাপে সুযোগ পাওয়া। কিছুদিন আগে বিশ্বকাপ বাছাই উতরে ২০১৬ সালের পর টি-টোয়েন্টি আসরে ফিরেছে তারা। ঘরের মাঠে পাওয়া সেই সাফল্য আত্মবিশ্বাসের দিক থেকে এগিয়ে রাখবে জিম্বাবুয়েকে। তবে দলটির জন্য বাজে সংবাদ দুই ফ্রন্টলাইন পেসারের না থাকা। ইনজুরির কারণে টেন্ডাই চাতারা ও ব্লেসিং মুজারাবানিকে পাচ্ছে না ক্রেইগ আরভিনের দল।

সিরিজটিতে জিম্বাবুয়ে নয় বাংলাদেশের লড়াই নিজেদের সঙ্গে। নতুন যাত্রায় শুধু পরখ করাই নয়, তা জয়ের চেষ্টাতেই থাকবেন সোহানরা।