জয়ে অভিষেক টিটি দলের

দিনের শুরুটা হয়েছিল বক্সার সুর কৃষ্ণ চাকমার খেলতে না পারার দুঃসংবাদ দিয়ে। তবে দিন যত গড়িয়েছে ময়দানি লড়াইয়ের প্রথম দিনে মিলেছে কিছু ইতিবাচক খবর। এই যেমন প্রথমবারের মতো কমনওয়েলথ গেমসে অংশ নিতে এসেই শুরুটা জয় দিয়ে হয়েছে পুরুষ টেবিল টেনিস দলের। জিমন্যাস্টিকসে আশার প্রদীপ হয়ে জ্বলছেন নিউজিল্যান্ড প্রবাসী আলী কাদের হক। তবে সাঁতারের পুল থেকে মিলেছে লজ্জা। বার্মিংহামের এনএসি হলে পুরুষ দলগত ইভেন্ট দিয়ে শুরু হয় টেবিল টেনিস। বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ ছিল ফিজির বিপক্ষে। প্রথম ডাবলসে মহুতাসিন আহমেদ হৃদয় ও রামহিমলিয়ান ব্রম জুটি ১১-৭, ১১-৫, ১১-৪ গেমে ফিজির রিয়েলি ও চৌহান জুটিকে ৩-০ সেটে হারান। দ্বিতীয় ম্যাচে সিঙ্গেলসে বাংলাদেশের রিফাত মাহমুদ সাব্বির ফিজির উ-কে ১১-৮, ১৩-১১, ১১-৬ গেম স্কোরে ৩-০ সেটে হারান। তৃতীয় ম্যাচে হৃদয় ১১-১১, ১১-৩ গেমে রিয়েলিকে হারিয়ে প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের জয় ৩-০তে। গতকাল স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় বাংলাদেশ দলের দ্বিতীয় ম্যাচ গায়ানার বিপক্ষে। এই ম্যাচ জিতলে বাংলাদেশ পুরুষ দল চলে যাবে কোয়ার্টার ফাইনালে।

বার্মিংহাম এরেনার জিমন্যাস্টিকস ভেন্যুতে গতকাল প্রমাণের লক্ষ্যে নেমেছিলেন তিন বাংলাদেশি জিমনাস্ট। তবে সবার আগ্রহ ছিল নিউজিল্যান্ড প্রবাসী আলী কাদের হককে নিয়ে। প্রথম সাবডিভিশনে শেষ পর্যন্ত তিনিই আশা বাঁচিয়ে রেখেছেন ফ্লোর এক্সারসাইজ, ভল্টে ভালো পারফর্ম করে। আবু সাঈদ রাফি ও শিশির আহমেদ পারেননি কাদেরের মতো নিজেদের মেলে ধরতে। প্রথম সাবডিভিশনের দলগত বাছাইয়ে বাংলাদেশ ১০০.৬০ পয়েন্টে শ্রীলঙ্কাকে হারায়। ফ্লোর এক্সারসাইজে আলী কাদের নিজের গ্রুপে তৃতীয়, রাফি সপ্তম ও শিশির হন অষ্টম। পোমেল হর্সে রাফি ও শিশির যথাক্রমে সপ্তম ও অষ্টম হন। রিংসে শিশির হন ষষ্ঠ। ভল্টিং টেবিলে কাদের দ্বিতীয় হয়ে সবাইকে চমকে দেন। রাফি ষষ্ঠ ও শিশির হন সপ্তম। প্যারালাল বারস ও হাই বারে ভালো করতে পারেননি শিশির ও রাফি। তিনটি সাবডিভিশনের খেলা শেষ হলে কাল স্থানীয় সময় রাতে প্রকাশিত হওয়ার কথা সেরা আটজনের তালিকা। তাদের নিয়ে দু’দিন পর হবে ফাইনাল রাউন্ড।

স্যান্ডওয়েল অ্যাকুয়াটিক সেন্টারে বাংলাদেশের দুই সাঁতারুর ভরাডুবি হয়েছে। অতীতের ব্যর্থতার ধারা অব্যাহত রেখে মাহমুদুন নবী নাহিদ ও মরিয়ম আক্তার। ছেলেদের ৫০ মিটার বাটারফ্লাইয়ে নাহিদ চার নম্বর হিট শেষ করেন আট প্রতিযোগীর সবার পেছনে থেকে। তিনি সময় নেন ২৬.২৫ সেকেন্ড। মোট ৫৪ সাঁতারুর মধ্যে তার অবস্থান ৪১তম। মেয়েদের ৫০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোকে মরিয়ম দুই নম্বর হিটে সাতজনের মধ্যে পঞ্চম হন ৩৭.৯০ সেকেন্ড সময় নিয়ে। ৩৩ সাঁতারুর মধ্যে হন ৩০তম। হিটে সেরা হওয়া পাপুয়া নিউগিনির জর্জিয়া-লে ভেলের সঙ্গে তার ব্যবধান ১.৩৯ সেকেন্ড।

সর্বশেষ বিশ্ব সাঁতার চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে গিয়ে চরম ব্যর্থ হয়েছিলেন সোনিয়া আক্তার টুম্পা ও সামিউল ইসলাম রাফি। নাহিদ, মরিয়মরা সেই পদাঙ্ক অনুসরণ করে দেশকে আবারও লজ্জায় ডুবিয়েছেন।

এদিকে সুর কৃষ্ণর স্বপ্নপথে কাঁটা বিছিয়েছে দুর্ভাগ্য। ২০১৪ গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে নিউজিল্যান্ডের প্রতিপক্ষের কাছে প্রথম রাউন্ডেই বাদ পড়তে হয়েছিল সুর কৃষ্ণ চাকমাকে। আট বছরে বেশ পরিণত হয়ে ভালো কিছুর লক্ষ্য নিয়ে বার্মিংহামে এসেছিলেন। আগের দিন ভারোত্তোলক মাবিয়া আক্তারের সঙ্গে দেশের পতাকা বহনের দায়িত্ব ছিল এই বক্সারের। গতকাল সকালে মেডিকেল পরীক্ষা উতরাতে না পেরে রিংয়েই নামতে পারেননি সম্প্রতি দেশের মাটিতে প্রো-বক্সিংয়ে সাফল্য পাওয়া সুর কৃষ্ণ।

৬০ থেকে ৬৩.৫ কেজি ওজন শ্রেণিতে ফিজির প্রতিপক্ষ এলিয়া রকবুলির বিপক্ষে ৩২ রাউন্ডের ১৩ নম্বর বাউটে নামার কথা ছিল সুর কৃষ্ণের। এর আগে সকালে মেডিকেল পরীক্ষা। সেখানে দেখা যায় সুর কৃষ্ণর রক্তচাপ ওপরেরটা ১৬০ ও নিচেরটা ১০০ ধরা পড়ে। মেডিকেল টিম তাকে ১৫-২০ মিনিট বিশ্রাম দিয়ে পুনরায় পরীক্ষা করে উচ্চ রক্তচাপ পেলে এই ইভেন্টে তাকে আনফিট ঘোষণা করে। অথচ বার্মিংহামে আসার পর প্রতিটি মেডিকেল পরীক্ষায় উতরে গিয়েছিলেন ২৬ বছর বয়সী সুর কৃষ্ণ। কাল তেমন কোনো শারীরিক সমস্যাও অনুভব করেননি। সুর কৃষ্ণ ভাগ্যকেই দুষছেন এর জন্য। তাছাড়া নিজের মতো করে একটা কারণও দাঁড় করিয়েছেন তিনিÑ ‘আগের রাতে ঘুমাতে দেরি হয়ে গিয়েছিল। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দীর্ঘক্ষণ মাঠে থাকতে হয়েছে। তাছাড়া পতাকা বহনের দায়িত্বও ছিল মাবিয়া আক্তারের সঙ্গে। ফিরতে ফিরতে তাই দেরি হয়ে যায়। কম ঘুম হওয়ার কারণে হয়তো প্রেসার বেড়ে গিয়ে থাকবে। আমি কিন্তু তেমন কিছু অনুভব করিনি। দুইবার পরীক্ষা করে যখন প্রেসার বেশি পায়, তখন মেডিকেল টিম আমাকে আনফিট ঘোষণা করে। অথচ এর কিছুক্ষণ পরেই আমার প্রেসার স্বাভাবিক হয়ে যায়। খেলতে না পারাটা তাই হতাশার। দুর্ভাগ্যের কাছেই হেরে গেলাম।’