সব বয়সী দর্শকের দারুণ সাড়া পাচ্ছি

ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত বাঙালি অভিনেত্রীর সংখ্যা হাতেগোনা। তার মধ্যে একজন ইন্দ্রাণী হালদার। দীর্ঘ অভিনয় ক্যারিয়ারে মুগ্ধতা ছড়াচ্ছেন তিনি। সম্প্রতি পেয়েছেন ‘বাংলার পদ্মশ্রী’খ্যাত ‘বঙ্গভূষণ’ পুরস্কার। বাংলাদেশেও তার জনপ্রিয়তা কম নয়। এই তারকার সঙ্গে কথা বলেছেন মাসিদ রণ

কুলের আচার...

সম্প্রতি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে আমার অভিনীত সিনেমা ‘কুলের আচার’। দারুণ সাড়া পাচ্ছি ছবিটির জন্য। এখনো যে সমস্ত বয়সের নারী-পুরুষ সিনেমা হলে এসে টিকিট কেটে ছবি দেখেন সেটা কুলের আচারের দর্শক প্রতিক্রিয়া থেকে জানতে পেরেছি। এই ছবির মধ্যে যে মেসেজটি আছে সেটি তরুনদের যেমন নাড়া দিয়েছে, তেমনি পরিণত বয়সীরাও সুন্দরভাবে গ্রহণ করেছেন। নির্মাতা সুদীপ দাসের এটি প্রথম ছবি। বিষয়বস্তুর জন্যই ছবিটি করতে রাজি হয়েছি। সিরিয়াল বলো, সিনেমা বলো- আমি যে কাজই করি না কেন তাতে একটা সামাজিক বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করি। এখানেও একটি স্ট্রং বার্তা দেওয়া হয়েছে। ‘কুলের আচার’-এ দেখানো হয়েছে, ভারতবর্ষে বিয়ের পর মেয়েরা তার বংশ পদবি পরিবর্তন করবে কি করবে না, সেটা নিয়ে আজকাল বেশ সমস্যায় পড়তে হয়। আমরা ছবিতে বলে দিচ্ছি না, পদবি পরিবর্তন উচিত কিংবা অনুচিত। তবে দুই বয়সের দুজন মধ্যবিত্ত নারীর আটপৌরে জীবনের গল্পের মাধ্যমে তাদের সমস্যার কথা তুলে ধরেছি। আর সেটিই অনেক নারীর জীবনের সঙ্গে মিলে গেছে। সব ছাপিয়ে এটি একটি প্রেমের গল্প।

সহশিল্পী যখন মধুমিতা...

‘কুলের আচার’ ছবিতে আমার সহশিল্পী নীল মুখার্জি, বিক্রম চ্যাটার্জি ও মধুমিতা সরকার। আমিও জানি, মধুমিতা ‘বোঝে না সে বোঝে না’ সিরিয়ালের ‘পাখি’ নামে বাংলাদেশে তুমুল জনপ্রিয়। এখন সে সিনেমাতেও দারুণ কাজ করছে। ভালো অভিনয় করার জন্য তার যে চেষ্টা ও সততা সেটা দেখার মতো। বড়দের কীভাবে সম্মান করতে হয় সেটিও তার কাছ থেকে শেখার আছে। এবারই প্রথম একসঙ্গে কাজ করলাম। গল্পে যেহেতু আমাদের চমৎকার একটি রসায়ন দেখানো হয়েছে, বাস্তবেও আমরা দারুণ সম্পর্ক গড়ে তুলেছি।

বেছে বেছে কম ছবি...

তুমি ঠিক কথাই বলেছ, আমি খুব বেছে বেছে কম ছবি করি। ‘কুলের আচার’-এর আগে মুক্তি পেয়েছে ‘ময়ূরাক্ষী’ ও ‘সার্কাসের ঘোড়া’ ছবি দুটি। ছবি দুটি ভিন্ন ভিন্ন ঘরানার। একটি সম্পর্কের টানাপড়েন নিয়ে, অন্যটি বাচ্চাদের ছবি। আপাতত সিরিয়াল করছি না। কয়েকটি দারুণ গল্পের ছবির সঙ্গে যুক্ত হয়েছি। ওটিটিতেও কাজ হচ্ছে। শিগগিরই নতুন কাজ নিয়ে হাজির হব।

বাংলাদেশে...

বাংলাদেশে এখন খুব ভালো কাজ হচ্ছে। আমি অবশ্য অনেক আগে অল্পকিছু কাজ করেছি। তবে আমার প্রোডাকশন থেকে বাংলাদেশের অনেক আর্টিস্ট কলকাতায় এসে কাজ করেছেন। কিন্তু এখন তারা সেভাবে কাজ করছেন না। নতুন যারা কাজ করছেন তাদের ব্যক্তিগতভাবে চিনি না। এই ইন্টারভিউয়ে বাংলাদেশের তরুণ পরিচালকদের বলতে চাই, আমি আপনাদের সঙ্গে কাজ করতে খুবই আগ্রহী। আমার সঙ্গে মানায় এমন চরিত্র হলে আনন্দের সঙ্গে কাজ করব। কারণ বাংলাদেশে আমার প্রচুর ভক্ত। তারা সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রায়ই বলেন, দিদি আপনাকে বাংলাদেশের কাজে দেখতে চাই।