ঝিনাইদহের শৈলকুপায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত হয়েছেন উভয় পক্ষের নারীসহ অন্তত ১৫ জন।
রবিবার রাতে শৈলকুপা উপজেলার ৮নং ধলহরাচন্দ্র ইউনিয়নের হিন্দু অধ্যুষিত কামারিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন- কামারিয়া গ্রামের কমল মন্ডল (৫৫), ভরত মন্ডল (৪৮), দীপক মন্ডল (৩০) সজল মন্ডল, (৩২) ও দিলীপ মন্ডল (৪২)সহ ১৫ জন।
স্থানীয়রা জানায়, গত ৫ জানুয়ারি ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হিন্দু অধ্যুষিত ওই গ্রামের বিজয়ী ইউপি সদস্য রতন কুন্ডু ও পরাজিত সদস্য লক্ষীকান্তের সমর্থকদের বিরোধ চলে আসছিল।
কয়েক দিন আগে লক্ষীকান্তের সমর্থক সুশান্ত মন্ডল পাশর্^বর্তী রত্মাট গ্রাম থেকে কয়েকজন যুবককে নিয়ে কামারিয়া গ্রামে চায়ের দোকানে মহড়া দেয়।
স্থানীয়রা থানায় খবর দিলে পুলিশ এসে তাদের তাড়িয়ে দেয়। এরই জের ধরে রাতে তারা ওই গ্রামে হামলা চালিয়ে ৬টি বাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট করে।
মারধরে আহত হয় নারীসহ অন্তত ১৫ জন। আহতদের উদ্ধার করে শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীদের।
ভুক্তভোগী কামারিয়া গ্রামের সুনীল বলেন, কে বা কারা পেছন থেকে এসে আমার মাথায় আঘাত করে পালিয়ে যায়। তবে কে আঘাত করলো আমি দেখতে পাইনি।
ধলহরাচন্দ্র ইউপি মেম্বর রতন কুন্ডু বলেন, পাশ^বর্তী ইউনিয়নের ফরিদ মুন্সীর নেতৃত্বে লোকজন এসে আমাদের বাড়ি ঘরে হামলা ও লুটপাট করে পালিয়ে যায়।
বগুড়া ইউপি মেম্বর ফরিদ মুন্সী বলেন, আমার নেতৃত্বে কামারিয়া গ্রামে কোন হামলা হয়নি। ওরা নিজেরা নিজেদের মধ্যে এ ঘটনা ঘটিয়ে আমার উপর দোষ চাপাচ্ছে। আমি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত না।
শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন আছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে।