ডলারের চাঙ্গা ভাবে বাড়ছে রেমিট্যান্স

ডলারের চাঙ্গা ভাবে ব্যাংকিং চ্যানেলে বেশি করে রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহ বোধ করছেন প্রবাসীরা। দুই মাসের ব্যবধানে প্রতি ডলারে ৭-৮ টাকা বেশি পাচ্ছেন রেমিটাররা। তাছাড়া ঈদুল আজহা উপলক্ষে রেমিট্যান্স পাঠানো বেড়েছিল। সব মিলিয়ে সদ্য বিদায়ী জুলাই মাসে ২০৯ কোটি ৬৯ লাখ ডলার রেমিট্যান্স দেশে এসেছে। যা গত ১৪ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে সবশেষ এর বেশি রেমিট্যান্স এসেছিল গত বছর মে মাসে, ২১৭ কোটি ১০ লাখ ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ করা পরিসংখ্যানে এ তথ্য জানানো হয়। প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, গত জুন মাসের তুলনায় জুলাই মাসে রেমিট্যান্স বেড়েছে ১৪ দশমিক ১৩ শতাংশ। আর গত বছর জুলাইয়ে আসা রেমিট্যান্সের তুলনায় গত জুলাইয়ে রেমিট্যান্স বেড়েছে ১২ শতাংশ। গত জুনে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৮৩ কোটি ৭২ লাখ ডলার এবং গত বছর জুলাইয়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৮৭ কোটি ১৪ লাখ ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, ডলারের দরের ঊর্ধ্বগতিতে আমদানি ব্যয় বেড়ে মূল্যস্থিতিতে যেমন চাপ ফেলছে, তেমনি একই পরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠিয়ে আগের থেকে বেশি টাকা পাচ্ছেন প্রবাসীদের স্বজনরা। তাছাড়া প্রবাসীদের পাঠানো বিদেশি মুদ্রাকে টাকায় রূপান্তর করার পর এর সঙ্গে সরকার ২ দশমিক ৫০ শতাংশ নগদ প্রণোদনা দিচ্ছে। ফলে একদিকে বেশি টাকা অন্যদিকে সেই টাকার ওপর প্রণোদনা পাচ্ছেন প্রবাসীদের স্বজনরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, করোনা মহামারী দেখা দেওয়ার পরও দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ ভালো ছিল। তবে গত ২০২১-২২ অর্থবছরের শুরু থেকেই রেমিট্যান্স প্রবাহে মন্দাভাব দেখা দেয়। এর কারণ হিসেবে বিশ্লেষকরা জানিয়েছিলেন, ২০২০ সালের শুরুতে করোনার মধ্যে বিশ্বব্যাপী লকডাউনের কারণে হুন্ডি ব্যবসা বন্ধ হয়ে যায়। তবে ২০২১ সালের মাঝামাঝি সময়ে এসে করোনার টিকা আবিষ্কার ও সংক্রমণের ভয় কমে আসায় হুন্ডি আবার চাঙ্গা হয়। ফলে রেমিট্যান্স আবার ব্যাংকিং চ্যানেল থেকে বেরিয়ে যাওয়া শুরু করে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরে করোনার মধ্যে ২ হাজার ৪৭৭ কোটি ৭৭ লাখ ডলারের সমপরিমাণ রেমিট্যান্স দেশে আসে। যা দেশের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত এক অর্থবছরে আসা সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স। তবে এর পরের অর্থবছরের প্রতি মাসেই রেমিট্যান্স কমতে থাকে। ফলে অর্থবছর শেষে মোট রেমিট্যান্স ২ হাজার ১০৩ কোটি ১৬ লাখ ডলারে নেমে আসে। যা আগের অর্থবছরে আসা রেমিট্যান্সের তুলনায় ১৫ দশমিক ১২ শতাংশ কম।

প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ১ জুন আন্তঃব্যাংক ডলারের দর ছিল ৮৯ টাকা। এরপর থেকে ডলারের দর বাড়তে বাড়তে ৩১ জুলাইয়ে এসে ৯৪ দশমিক ৭০ টাকায় উঠে আসে। ব্যাংকে গ্রাহক পর্যায়ে ডলার বেচাকেনা হচ্ছে আরও কিছুটা বেশি দরে, ১০৩-১০৪ টাকা। গতকাল খোলা বাজারে (কার্ব মার্কেট) ডলারের দর ছিল ১০৫-১০৬ টাকা। ফলে এই মুহূর্তে খোলা বাজার ও ব্যাংকের ডলারের দরের ব্যবধান অনেকটা কমে এসেছে।