বিএনপির আমলে তাদের দলীয় সন্ত্রাসীরা সিল মেরে ভোটের বাক্স ভরিয়ে ফেলত বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘বিএনপির আমলে মানুষ ভোট দিতে পারেনি। তাদের দলীয় সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে ব্যালট ছিনিয়ে নেয়। বিএনপির সন্ত্রাসীরা সিল মারবে, বাক্স ভরবেএটাই ছিল নীতি। বিএনপির আমলে মানুষের ভোটের অধিকার ছিল না। তাদের কাছ থেকেও কথা শুনতে হয়। নির্বাচনের কথা তারা বলে কোন মুখে?’
এ সময় প্রধানমন্ত্রী বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংরক্ষণে সরকারের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে হারিকেন নিয়ে আন্দোলন করায় বিএনপি নেতাদের কঠোর সমালোচনা করেন।
শোকাবহ আগস্টের প্রথম দিনে গতকাল সোমবার কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে কৃষক লীগ আয়োজিত স্বেচ্ছায় রক্ত ও প্লাজমাদান কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি গণভবন থেকে রাজধানীর ধানমণ্ডির ৩২-এ বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরসংলগ্ন এলাকার অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন। এ সময় শেখ হাসিনা রক্তদানে সক্ষম ব্যক্তিদের রক্ত দেওয়ার আহ্বান জানান।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য বিশ্বব্যাপী জ্বালানির আকাশচুম্বী মূল্যবৃদ্ধিতে বাংলাদেশকে ভবিষ্যতের যেকোনো বিপদ থেকে রক্ষায় সরকারের সাশ্রয়ী নীতির যারা বিরোধিতা করছে, তাদের বিদ্রুপেচ্ছলে প্রচলিত প্রবাদ ‘হাতে হারিকেন ধরিয়ে দেওয়ার’ প্রতিও ইঙ্গিত করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘আমি দেখেছি আমাদের বিএনপি নেতারা হারিকেন নিয়ে আন্দোলন করছে। তো তাদের হাতে হারিকেনই ধরিয়ে দিতে হবে, তাদের সবার হাতে হারিকেন ধরিয়ে দেন। আর দেশের মানুষকে আমরা নিরাপত্তা দেব এবং দেশের মানুষ যাতে ভালো থাকে, সেই ব্যবস্থা নেব।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের কথা ছিল প্রত্যেক ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার, আমরা দিয়েছি। আজ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে বিশে^র প্রত্যেকটা দেশইআমেরিকা হোক, ইংল্যান্ড হোক বা আমাদের প্রতিবেশী ভারত হোক সকলেই নজর দিয়েছে। এ বিষয়টা সবার মাথায় রাখতে হবে। যখন উন্নত দেশগুলো হিমশিম খায়, তখন আমরা আগাম ব্যবস্থা নিয়েছি যেন ভবিষ্যতে কোনো বিপদে না পড়ি, সাশ্রয়ী হয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আর সাশ্রয়ী হওয়ার অর্থ এই নয় যে এখান থেকে লুটপাট করে খেয়েছি। লুটপাট তো বিএনপিই করে গেছে। আমরা সেই লুটপাট বন্ধ করে উন্নতি করেছি, নইলে কীভাবে মাত্র ৩ বা সাড়ে ৩ হাজার মেগাওয়াট থেকে আজকে ২৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষমতা অর্জন করেছি।’
শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে ২১ বছর পর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা মাত্র ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট থেকে ৪ হাজার ৩০০ মেগাওয়াটে উন্নীত করার এবং পরে বিএনপি-জামায়াত জোটের শাসনে সেটা কমে ৩ হাজার ২০০ মেগাওয়াটে আসার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘যারা এটা করেছে আসলে তারাই লুটপাট করেছে। আর যারা বাড়াতে পারে, তারা লুটপাট করে না; বরং প্রতিটি পয়সাকে কাজে লাগানোতেই এই উৎপাদনটা বৃদ্ধি হয়।’
সরকারপ্রধান করোনাভাইরাস এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বিশ্ব মন্দার খণ্ডচিত্র তুলে ধরে বলেন, ‘কেবল বাংলাদেশ নয়, সমগ্র বিশে^ই এমনকি অনেক উন্নত দেশে অর্থনৈতিক মন্দা চলছে। আমেরিকার মতো জায়গায় যেখানে ১ শতাংশ মুদ্রাস্ফীতি ছিল, সেটা ৯ দশমিক ১ শতাংশে উন্নীত হয়েছে, ইংল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসে ৯ দশমিক ৪ শতাংশ, জার্মানিসহ ইউরোপের বহু দেশে ৮ দশমিক ৯ শতাংশ এবং উন্নত দেশগুলো হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে বাংলাদেশে আমরা ৭ দশমিক ৫ শতাংশে আমাদের মুদ্রাস্ফীতি ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছি।’
এ সময় দেশের প্রতি ইঞ্চি জমি এবং প্রত্যেকের নিজস্ব জলাশয় কাজে লাগানোর আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, প্রশাসন, সশস্ত্র বাহিনী, বর্ডারগার্ড বাংলাদেশ, পুলিশসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যবস্থা নিয়েছে। কৃষক লীগকেও এ কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এবং সাবেক মন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী ও কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন, কৃষিবিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী এবং দলের দপ্তর সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন।
কৃষক লীগের সভাপতি কৃষিবিদ সমীর চন্দর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক উম্মে কুলসুম স্মৃতি। অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতির পিতা, বঙ্গমাতা এবং পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের শহীদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।