ফখরুল বললেন

পেছনের দরজা দিয়েও পালানোর পথ পাবে না সরকার

‘বিএনপি নেতাদের হাতে হারিকেন ধরিয়ে দিতে হবে’প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘হারিকেন ধরার সময় এসেছে সরকারের। কিন্তু তারা এই হারিকেন ধরার সময়ও পাবে না। তারা পেছনের রাস্তা দিয়ে পালানোর সময়ও পাবে না। কারণ স্বৈরশাসকরা পালাতে চায়, কিন্তু জনগণ তাদের পালাতে দেয় না।’

ভোলায় গুলিতে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আব্দুর রহিমের মৃত্যুর প্রতিবাদে গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি এই সমাবেশের আয়োজন করে।

ভোলায় নিহত রহিমের মায়ের একটি ছবি গণমাধ্যমে ছাপা হয়েছে। সেখানে তার মাকে হাত দিয়ে বুক চাপড়াতে দেখা যায়। সে প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘প্যালেস্টাইনে যেমন মায়ের বুক খালি হলে মা বুক চাপড়ায়, গত ১৫ বছর ধরে বাংলাদেশের চিত্র এমন। গত সোমবার যখন আমি রফিকের নিথর দেহ দেখলাম তখন তার মা বুক চাপড়াচ্ছেন। প্যালেস্টাইনের মায়েরাও এমন করেন।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো, স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও অর্থনীতিকে ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে। আর সময় দেওয়া চলবে না। এখন আমাদের দাবি একটাই। এক দফা, এক দাবি...। আসুন সেই এক দফা আদায়ের লক্ষ্যে, জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে, খালেদা জিয়ার মুক্তির লক্ষ্যে সবাই এগিয়ে আসি।’

সরকারের সফলতা কোথায় এমন প্রশ্ন তুলে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘গত ১৫ বছরে আপনি দেশকে একটি শ্মশানে পরিণত করেছেন, ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করেছেন। কোথায় সফলতা আপনাদের। মেট্রো রেল, পদ্মা সেতু দেখিয়ে বলেন এইখানে সব সাফল্য। কিন্তু দেশে শতকরা ৪২ জন মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে থাকে। হাজারো মানুষ এখন দুই বেলা খেতে পারে না।’

বিএনপি মহাসচিব যখন বক্তব্য রাখছিলেন তখন সামনে অবস্থানরত নেতাকর্মীরা হরতাল, অবরোধের মতো কর্মসূচি ঘোষণার জন্য বলেন। তখন মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আগে রাস্তা দখল কর। আমরা ঘোষণা করছি। আগামী পরশু দিন থেকে প্রতিটি অঙ্গ-সংগঠন বিক্ষোভ করবে। আমরা আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করব।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘জনগণের দাবি নিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা সমাবেশ করছিল। সেখানে পুলিশ অতর্কিত আক্রমণ চালায়, গুলি করে। আমার ভাই, আমার সহকর্মী আব্দুর রহিমকে হত্যা করে। অতীতে যেমন মানুষ গর্জে উঠেছিল, আব্দুর রহিমের শাহাদাতের মধ্য দিয়ে আমাদেরও গর্জে উঠতে হবে। তাদের ক্ষমতা থেকে নামিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব আমিনুল হক ও রফিকুল আলম মজনুর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য দেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, শামসুজ্জামান দুদু, ঢাকা দক্ষিণের আহ্বায়ক আবদুস সালামসহ প্রমুখ।