শুরু হয়েছে মহান আল্লাহর মাস মহররম। আল্লাহতায়ালা এই মাসকে নিজের দিকে সম্পৃক্ত করেছেন, কেননা অন্য কেউ নয় তিনি নিজে এই মাসকে হারাম হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন। সুতরাং এটি হারাম মাসসমূহের মধ্যে একটি অন্যতম মাস যে মাসগুলোকে আল্লাহতায়ালা স্বীয় কিতাবে হারাম হিসেবে ঘোষণা করেছেন এবং এ সময় অবাধ্যতা ও পাপাচারের মাধ্যমে নিজের নফসের ওপর জুলুম করতে নিষেধ করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয় আসমানসমূহ ও জমিনের সৃষ্টির দিন থেকেই আল্লাহর বিধানে আল্লাহর কাছে গণনায় মাস বারোটি, তার মধ্যে চারটি নিষিদ্ধ মাস, এটাই প্রতিষ্ঠিত দ্বীন। কাজেই এর মধ্যে তোমরা নিজেদের প্রতি জুলুম করো না।’ সুরা আত তাওবা : ৩৬
হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, এই মাসগুলোতে পাপাচারে লিপ্ত হওয়া বড় অপরাধ। আর সৎ ও নেকির কাজ করার প্রতিদানও মহৎ।’ এই মাসে বেশি বেশি রোজা পালন করা সুন্নতসম্মত কাজ। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘রমজানের রোজার পর সর্বোত্তম রোজা হচ্ছে আল্লাহর মাস মহররমের রোজা এবং ফরজ নামাজের পর সর্বোত্তম নামাজ হচ্ছে রাতের নামাজ।’ সহিহ্ মুসলিম
বিশেষ করে এই মাসের যে দিন রোজা পালন করবে তা হচ্ছে আশুরার দিন; কেননা হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) এই দিনে রোজা পালন করেছেন এবং সাহাবিদের রোজা পালন করতে নির্দেশ দিয়েছেন। ‘সুতরাং এ এমন দিন, যে দিনে মহান আল্লাহ হজরত মুসা (আ.) ও তার সম্প্রদায়কে নাজাত (মুক্তি) দিয়েছিলেন এবং ফেরাউন ও তার সম্প্রদায়কে ডুবিয়ে দিয়েছিলেন। ফলে হজরত মুসা (আ.) শোকরিয়া হিসেবে এই দিনে রোজা পালন করেছেন।’ সহিহ্ বোখারি ও মুসলিম
এই রোজার পূর্ণতা হচ্ছে তার পূর্বের দিনও রোজা রাখা। এ জন্য নয় ও দশ তারিখ রোজা পালন করবে। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আমি যদি আগামী বছর বেঁচে থাকি, তবে মহররমের নবম তারিখও রোজা পালন করব।’ সহিহ্ মুসলিম
মনে রাখা দরকার, শরিয়তে বছরের প্রথম দিনের বিশেষ কোনো মর্যাদা নেই। এ বিষয়ে কোনো ফজিলত ও বৈশিষ্ট্যের বর্ণনা আসেনি। সুতরাং এই দিনকে কোনো শারীরিক, আর্থিক বা অন্য কোনো ইবাদতের সঙ্গে নির্দিষ্ট করা দ্বীনের মধ্যে নব আবিষ্কার ও মহান শরিয়তকে এড়িয়ে যাওয়ার শামিল।