মেসির জাদুকরী গোলে মৌসুম শুরু পিএসজির

ম্যাচের ৮৭ মিনিট। মাঝমাঠ থেকে ক্লেরমোঁর বক্সে চিপ করেন পিএসজির আর্জেন্টাইন ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেস। বলটা সামনে পড়বে বুঝতে পেরে ক্লেরমোঁর দুই ডিফেন্ডারের মাঝ দিয়ে এগিয়ে যান মেসি। ক্লেরমোঁর গোলপোস্ট পেছনে রেখে দাঁড়িয়ে বুক দিয়ে রিসিভ করলেন বল! সবাইকে মোহিত করা বাইসাইকেল কিক মেসির এবং গোল! ক্লেরমোঁর স্টেডিয়ামে আসা পিএসজি সমর্থকরা দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানাল। সেøাগান উঠল মেসি! মেসি!’। ৯৭৬ ম্যাচে ৭৭২ নম্বর গোলের ক্যারিয়ারে এই প্রথম বাইসাইকেল কিকে গোল করলেন মেসি।

লিগ ওয়ানের শিরোপা রক্ষার লড়াই শুরুর ম্যাচে এটি ছিল শেষ গোল পিএসজির। তার আগে আরও যে চার গোল হয়েছে, তাতে মেসির আরেকটি গোল আছে। তিনি বন্ধু নেইমারকে দিয়ে করিয়েছেন একটি গোল। এছাড়া আশরাফ হাকিমি, মার্কিনহোসের গোলে ৫-০ ব্যবধানের জয় পেয়েছে পিএসজি। চোটের কারণে কিলিয়ান এমবাপে ছাড়া ৩-৪-৩ ফর্মেশনে খেলতে নামা পিএসজি ৯ মিনিটে নেইমারের গোলে এগিয়ে যায়। সেটিও মেসির জাদুকরী খেলারই অংশ। বাঁ প্রান্ত থেকে পাবলো সারাবিয়ার ক্রস ধরতে ক্লেরমোঁর বক্সের মধ্যে একটু এগিয়ে যান মেসি। পেছনেই প্রতিপক্ষ দলের ডিফেন্ডাররা। তার পেছনে নেইমার, সারাবিয়ার ক্রসে পায়ের পাতা দিয়ে চলন্ত বলের নিচে একটু টোকা দিলেন মেসি। বল গিয়ে পড়ল নেইমারের পায়ে। ভুল করেননি নেইমার। ২৬ মিনিটে নেইমারের বাড়ানো বল দৌড়ে গিয়ে ধরে জালে জড়ান হাকিমি। ৩৮ মিনিটে নেইমারের ফ্রি-কিক থেকে হেডে গোল করেন মার্কিনহোস। প্রথমার্ধে তিন গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় পিএসজি। ৮০ মিনিটে বক্সে নেইমারের মাইনাস আলতো টোকায় জালে জড়ান মেসি। এর ৭ মিনিট পর সেই জাদুকরী গোল। গোলটি নিয়ে পিএসজির নতুন কোচ ক্রিস্তোফ গালতিয়ে বলেন, ‘এই রকম গোলে অবাক হয়েছি কি না? না, তবে গোলটা আমার ভালো লেগেছে।’ কেন বিস্মিত হননি তাও জানান, ‘সে শীর্ষ পর্যায়ে খেলছে ১৭ বছর ধরে। গেল বছর তার একটা কঠিন মৌসুম কেটেছে, সে তখন মানিয়ে নিচ্ছিল। এর আগে প্রতি মৌসুমে কম করে হলেও ৩০টি করে গোল করেছে সে।’ কিলিয়ান এমবাপে ফিরে এলে তার সঙ্গে বর্তমান ফর্ম নিয়ে মেসির রসায়নটা দুর্দান্ত হবে, বিশ্বাস গালতিয়ের। বলেন, ‘এমন ফর্ম নিয়ে যখন কিলিয়ানের সঙ্গে থাকবে, আমাদের আরও বেশি আক্রমণের শক্তি দেবে সে।’  আগামী সপ্তাহেই মাঠে ফিরতে পারেন এমবাপে। অন্য দুই তারকা মেসি ও নেইমার জ্বলে উঠলে কী হতে পারে তা আবারও দেখা গেল ক্লেরমো’র বিপক্ষে। মৌসুমে দুই ম্যাচে মেসি ও নেইমার মিলে করে ফেললেন ছয় গোল (তিনটি করে)।