কমনওয়েলথ গেমসেও সম্রাজ্ঞী টমসন হেরাহ

ইংল্যান্ড বহুজাতিক দেশ। বিশ্বের নানা প্রান্তের মানুষের বাস দেশটিতে। পথেঘাটে হাঁটতে চলতে যেমন বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানের নাগরিকদের সঙ্গে দেখা হয়ে যাচ্ছে হরহামেশা, তেমনই প্রচুর ক্যারিবিয়ানের বসবাস এই দেশে। ক্যারিবিয়ানদের বিশেষত্ব হচ্ছে, তারা সারা সপ্তাহ হাড়ভাঙা খাটুনিতে অর্থ উপার্জন করে। আর শুক্র ও শনিবার রাতে সে উপার্জন উড়িয়ে করে আমোদ-ফুর্তি। এ দুদিন তাদের ভিড় লেগেই থাকে বিভিন্ন বার-পাব-ডিস্কোতে। বার্মিংহাম শহরেও এর ব্যতিক্রম নেই। শনিবার রাতে ক্যারিবিয়ানদের আনন্দটা দ্বিগুণ করে দিয়েছেন এলেইন টমসন হেরাহ। তিন দিন আগে ১০০ মিটারে সেরা হয়ে গেমসের দ্রুততম মানবী খেতাব জেতেন। শনিবার ডাবল নিশ্চিত করে অলিম্পিকের মতো কমনওয়েলথ গেমসেও সম্রাজ্ঞীর আসনে বসেছেন জ্যামাইকার এই স্প্রিন্টার।

রিও’র পর টোকিও অলিম্পিকেও ডাবল জিতে নিজেকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন টমসন হেরাহ। তবে আক্ষেপ হয়ে ছিল কমনওয়েলথ গেমস। এবারের আগে তো ১০০ মিটারে স্বর্ণপদকই জেতা হয়নি তার। অলিম্পিকের কীর্তি কমনওয়েলথ গেমসে করাটা খুব কঠিন হওয়ার কথা ছিল না এবার। সাম্প্রতিক সময়ে স্বদেশি শেলি অ্যান ফ্রেজার প্রাইসের কর্র্তৃত্ব খর্ব করা টমসন হেরাহ এবার আর কোনো ভুল হতে দেননি। চার দিন পর ঠিকই আলেকজান্ডার স্টেডিয়ামের রাতের সব আলো কেড়ে নিয়ে ডাবল জয়ে মেতেছেন তিনি।

শনিবারের লড়াইটা সহজ হয়ে গিয়েছিল শেলি অ্যান ফ্রেজার প্রাইজ না থাকায়। তাই তাকে চ্যালেঞ্জ জানানোর মতোও সেভাবে কেউ ছিল না। সহজেই থমসন সবার আগে শেষ করেন স্প্রিন্ট। সময় নেন ২০.০২ সেকেন্ড। তার এই কীর্তিতে ভেঙে যায় শন মিলার উইবোর ২২.৯ সেকেন্ডের অতীত রেকর্ড। নাইজেরিয়ার ফেভার ওফিলি ২২.৫১ সেকেন্ডে দৌড়ে রৌপ্য ও নামিবিয়ার ক্রিস্টিন এমবোমা ব্রোঞ্জ জেতেন ২২.৮০ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করে।

গেম মাসে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপে সেভাবে সুবিধা করতে পারেননি থমসন। সেটা উল্লেখ করে আক্ষেপ ঘোঁচানো ডাবল জয়ে উচ্ছ্বসিত থমসন বলেন, ‘বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে প্রত্যাশামতো পারফর্ম করতে পারিনি। তবে বার্মিংহামে ডাবল জিতলাম। আমার ক্যারিয়ারে এটা বড় প্রাপ্তি।’

ছেলেদের ২০০ মিটারে সেরা হয়েছে ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগোর জেরম রিচার্ডস। বার্মিংহামে এসে নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়া একটা স্প্রিন্ট দিয়েছেন তিনি। কাকতাল হলো ২৮ বছর বয়সী এই স্প্রিন্টার এই ইভেন্টে ২৮ বছর আগের রেকর্ডকে পেছনে ফেলেছেন সে রাতে। এই রেকর্ডটা ১৯৯৪ সালে কানাডার ভিক্টোরিয়ায় ২০০ মিটারে ১৯.৯৭ সেকেন্ড দৌড়ে রেকর্ড গড়েছিলেন ফ্রাঙ্কি ফ্রেডরিকস। শনিবার ২০০ মিটারে চার বছর আগের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখতে জেরম রিচার্ডস টাচলাইন ছুঁয়েছেন ১৯.৮০ সেকেন্ডে। এর আগে আর দুজন পেরেছিলেন টানা দুই আসরে ২০০ মিটারের শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখতে। অ্যালান ওয়েলস ও ডন কোয়েরির সঙ্গে অভিজাত তালিকায় এখন উঠে গেছে জেরম রিচার্ডসের নাম। তিনি পেছনে ফেলেন ইংল্যান্ড তারকা জার্নেল হিউজেসকে। তিনি দ্বিতীয় হন ২০.১২ সেকেন্ড সময় নিয়ে। ঘানার জোসেফ পল ব্রোঞ্জ জিতেছেন ২০.৪৯ সেকেন্ডে। আট মাস আগে প্রিয় বন্ধু অলিম্পিক পদকজয়ী ডিওন লেনডোরে মর্মান্তিক এক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন। প্রিয় বন্ধুকে এই সাফল্য উৎসর্গ করেছেন রিচার্ডস।

গোল্ড কোস্ট গেমসে রিচার্ডসের স্বর্ণপদক জয়টা ছিল ভাগ্যের জোরে। সেবার আসলে দ্বিতীয় হয়েছিলেন তিনি। সবার আগে দৌড় শেষ করেছিলেন হিউজ। তবে অন্য লেনে দৌড়ে ডিসকোয়ালিফাই হয়ে গেলে রুপাজয়ী রিচার্ডসের গলায় শোভা পায় সোনার মেডেল। এবার নিজ আঙিনায় সুযোগ ছিল হিউজেসের। তবে রিচার্ডসের গতির সঙ্গে পেরে না উঠে রৌপ্যতেই সন্তুষ্ট থাকতে হয় তাকে।