চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় একটি হত্যা মামলায় আবুল কাশেম নামে এক ব্যক্তি খালাসের রায়ের পরও সাত বছর ধরে কনডেম সেলে থাকা নিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে উচ্চ আদালত। সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রারকে ঘটনার তদন্ত করে আগামী ২৫ আগস্টের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলেছে আদালত। বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি মো. বশির উল্লাহর হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল রবিবার রুলসহ এ আদেশ দেয়।
গত ৩ আগস্ট একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে ‘বিনা দোষে কারাগারের কনডেম সেলে ৭ বছর!’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পরদিন সকালে প্রতিবেদনটি হাইকোর্টের নজরে আনেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। এ সময় আদালত তাকে এ বিষয়ে লিখিত আকারে আবেদন করতে বলে। পরে ওই দিন আবুল কাশেমের মুক্তি ও ঘটনার বিচারিক তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন তিনি।
প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, লোহাগাড়ার রাজঘাটা আমির খান চৌধুরীপাড়ায় ২০০২ সালে জানে আলম নামে এক ব্যক্তি খুন হন। এ ঘটনায় ২০০৭ সালের ২৪ জুলাই আবুল কাশেমসহ ১২ আসামিকে মৃত্যুদ- ও ৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদ- দেয় চট্টগ্রামের বিচারিক আদালত। রায়ের সময় আবুল কাশেম পলাতক ছিলেন। ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি শেষে ২০১৩ সালের ১১ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট এক রায়ে আবুল কাশেমকে খালাস দেয়। কিন্তু করণিক ভুলের কারণে হাইকোর্টের ওই রায়ে আবুল কাশেমের খালাসের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা ছিল না। পরে একই বেঞ্চ ২০১৬ সালের ৮ সেপ্টেম্বর সংশোধিত সম্পূরক আদেশের পর আবুল কাশেমের খালাসের বিষয়টি স্পষ্ট হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৫ সালের ১৪ এপ্রিল চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে অন্য একটি মামলায় হাজিরা দিতে গেলে আবুল কাশেমকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। সেই থেকে তিনি চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের কনডেম সেলে রয়েছেন। ইতিমধ্যে কনডেম সেলে তার ৭ বছর ৩ মাস ১১ দিন পার হয়েছে।
গতকাল আবুল কাশেমের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সারওয়ার হোসেন বাপ্পি।
অ্যাডভোকেট শিশির মনির সাংবাদিকদের বলেন, কার অবহেলা ও কার কারণে আবুুল কাশেম খালাস পেয়েও ৭ বছরের বেশি সময় ধরে কনডেম সেলে রয়েছেন তা জানতে বিচারিক তদন্তের কথা বলেছেন হাইকোর্ট। এ ছাড়া আবুল কাশেমকে কেন মুক্তির নির্দেশ দেওয়া হবে না তা জানতে রুল দিয়েছেন হাইকোর্ট।