প্রথম ম্যাচে তিন উইকেট পতনের পর, দ্বিতীয়টিতে চতুর্থ ব্যাটার আউটের পর। টানা দুই ম্যাচে জিম্বাবুয়ের দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। ফলস্বরুপ টাইগারদের বিপক্ষে ৯ বছর পর তারা জিতে নিয়েছে সিরিজ। এই হারের কারণ হিসেবে বাংলাদেশের প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গো মনে করেন জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একই ভুলের পুনরাবৃত্তি হয়েছে ‘হতাশাজনক’ভাবে। যার মূল্য সিরিজ হার দিয়ে দিতে হয়েছে।
প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়েক ৩০৪ রানের লক্ষ্য ছুড়ে দিয়েছিল বাংলাদেশ। যে লক্ষ্য তারা পেরিয়েছে অনায়াসেই। দ্রুত তিন উইকেট পতনের পর ইনোসেন্ট কাইয়া ও সিকান্দার রাজার ১৯২ রানের জুটি তাতে অনেকটাই সাহায্য করেছে। পরের ম্যাচে ৪৯ রানেই ছিল না স্বাগতিকদের টপ অর্ডারের চার ব্যাটার। কিন্তু সেখান থেকেও অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে তারা। রাজার সঙ্গে এবার ২০১ রানের জুটি গড়েন অধিনায়ক রেজিস চাকাভা। ৫ উইকেটের ম্যাচ জয়ে নিশ্চিত হয় সিরিজ জয়ও।
দলের এমন ভরাডুবির কারণ হিসেবে একই পুনরাবৃত্তিকে মনে করছেন টাইগারদের প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গো। দ্বিতীয় ম্যাচ হারের পর হারারেতে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, ‘আমার কাছে ভুলগুলো দেখতে খুব হতাশাজনক মনে হয়েছে। কারণ এই ভুলগুলো নিয়মিত হচ্ছিল এবং আমরা সেগুলো নিয়ে কাজ করছিলাম। কিন্তু তারপরও একটু চাপে থাকলেওই খেলোয়াড়রা ভুলগুলোর পুনরাবৃত্তি করেছে। এটি আমাদের জন্য উদ্বেগের বিষয়।’
ডমিঙ্গো যোগ করে বলেন, উভয় ম্যাচেই শুরুতে স্বাগতিকদের চাপে ফেলেছিলাম আমরা। কিন্তু সেই চাপ সামলে তারা ম্যাচ বের করে নিয়ে এসেছে। উল্টো মাঝপথে আমাদের চাপে ফেলেছে। কিন্তু আমরা সেই চাপ সামলে উঠতে পারিনি। বরং কিছু শিশুসুলভ ভুল করেছি আমরা। যেগুলো আগেও হয়েছে। এই ভুলের পুনরাবৃত্তি যেন না হয় সেজন্য কঠোর চেষ্টা হচ্ছে, তবুও তারা ভুল থেকে নিচ্ছে না।’
ডোমিঙ্গো বলেছিলেন যে তারা স্বাগতিকদের সাথে লড়াই করার সময় কখনই আত্মতুষ্ট ছিল না উল্লেখ করে ডমিঙ্গো বলেন, ‘কোনো আত্মতুষ্টি নেই। আমরা সিরিজের শুরুতেই বলেছি নিজেদের কন্ডিশনে তারা বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। গত বছর আমরা ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতেছি কিন্তু সত্যিই দুটি কঠিন খেলা ছিল। আমরা টি-টোয়েন্টি ২-১ ব্যবধানে জিতেছি, তাই এতে আত্মতুষ্টি কখনো আসেনি।’
তবে টাইগার ব্যাটারদের সেঞ্চুরি না পাওয়ায় আক্ষেপ হচ্ছে প্রাক্তন এই দক্ষিণ আফ্রিকান, ‘ আমরা বেশ কয়েকটা অর্ধশতকের দেখা পেয়েছি। ছেলেরা দুর্দান্ত শুরু করেছিল। প্রথম ম্যাচেই টপ অর্ডারের চার ব্যাটার ফিফটি পেয়েছিলেন। দ্বিতীয় ম্যাচেও এসেছে দুটি অর্ধশতক। ৪০ রানের ইনিংসও পেয়েছি। কিন্তু আক্ষেপ হচ্ছে আমরা কোনো সেঞ্চুরির দেখা পাইনি। ফিফটির পর ছেলেরা ইনিংস বড় করতে পারেনি। যদি পারত তবে সেঞ্চুরি আসতে পারত।’
কোচ রাসেল বলেন, ‘বিশ্বকাপের এখনও দেড় বছর বাকি। আমি মনে করি এই সিরিজ আমাদের কোচিং স্টাফ ও খেলোয়াড়দের জন্যও কিছু দারুণ শিক্ষা হয়েছে। সৌভাগ্যবশত এই খেলা ওয়ানডে সুপার লিগের অন্তর্ভূক্ত ছিল না। তাই আমরা এটিকে একটি দুর্দান্ত শিক্ষা সফর হিসেবে দেখছি। অভিজ্ঞতার অনেক ঘাটতির কারণেই সবশেষ ওয়ানডে দুটি আমাদের হারতে হয়েছে। জিম্বাবুয়েকে কৃতিত্ব দেওয়া উচিত। কারণ উভয় ম্যাচেই তারা বাংলাদেশকে হারিয়েছে।’