সিরিজ জয় আগেই নিশ্চিত করেছে জিম্বাবুয়ে। চোটের কারণে ছিটকে গেছেন এই সিরিজে অধিনায়কত্ব করা রেজিস চাকাভাকে। গত ম্যাচে যার অনবদ্য এক সেঞ্চুরি অবদান রেখেছিল ম্যাচ জয়ে। সিকান্দার রাজার নেতৃত্বে নামা জিম্বাবুয়েও টস জিতল তামিমের বিপক্ষে জিতেই ব্যাটিংয়ে পাঠালো। হোয়াইওয়াশের লজ্জা এড়াতে বিজয়কে সঙ্গে নিয়ে শুরু করেছিলেন অধিনায়ক। আগের দুই ম্যাচে পাওয়ার প্লেতে উদ্বোধনীতে দারুণ জুটি হলেও এই ম্যাচে সেটা থামে ৪১ রানেই।
শুরুটা ইতিবাচকই ছিল তামিম ইকবালের। কিন্তু প্রথম দুই ওয়ানডের মতো করে যেতে পারেননি। হয়নি টানা তিন ফিফটিও। এনগারাভার বলে পয়েন্টে খেলেছিলেন এনামুল, তাঁকে ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে আসতে দেখে দৌড় শুরু করেন তামিম। তবে এনামুলের সেদিকে যেন খেয়ালই ছিল না, দাঁড়িয়েই থাকেন তিনি। পয়েন্টে ভালো ফিল্ডিং করা মাধেভেরের থ্রো-টা সুবিধার ছিল না মোটেও। তবে তামিম এতটাই বেরিয়ে গিয়েছিলেন, এনগারাভা ডানদিকে ঝুঁকে বল সংগ্রহ করে স্টাম্প ভাঙার সময় পেয়েছেন।
তামিমের হতাশা ছিল স্পষ্ট, ভুল বুঝে হতাশ মনে হচ্ছিল এনামুলকে। তামিম রানআউট হওয়ার পরই অবশ্য ইনসাইড আউটে দারুণ এক শটে ছক্কা মেরেছেন এনামুল। এর পরের ওভারের প্রথম বলেই রানের খাতা খোলার আগে ফিরে গেছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। ইভান্সের শর্ট বল কাট করতে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে দাঁড়িয়ে থাকা মেধেভেরে তালুবন্দী করতে সময় নেননি।
একই ওভারের চতুর্থ বলে ফিরে যান মুশফিকুর রহিমও। তিনিও খুলতে পারেননি রানের খাতা। তিনিও একই ধরণের বল উপর দিয়ে ওয়াইডে কাট করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু থার্ডম্যানে এনগারাভার হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফিরে যেতে হয়।
পাওয়ার প্লেতে ৪৭ রানে তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়েছে বাংলাদেশ। শঙ্কায় আছে হোয়াইটওয়াশ নিয়েও।
সিরিজ জিতে যাওয়া জিম্বাবুয়ে গত ম্যাচে পাঁচ পরিবর্তন নিয়ে খেলতে নেমেছিল। এই ম্যাচেও তারা এনেছে এক পরিবর্তন। অভিষেক হচ্ছে ক্লাইভ মান্দাদের। তবুও আগের দুই ম্যাচের মতোই শক্তিশালি দল জিম্বাবুয়ে। এ সিরিজে চতুর্থ জিম্বাবুইয়ান হিসেবে অভিষেক হলো তাঁর।
বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের আগে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে জিম্বাবুয়ে। চোট, বিশ্রাম—সব কিছু মিলিয়ে দলে নেই প্রথম সারির বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার। বাছাইপর্বে খেলা ৮ জনকে ছাড়াই আজ বাংলাদেশের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে নেমেছে স্বাগতিকেরা। এই সিরিজেই অনেকগুলো পরিবর্তন করে খেলেছে তারা। বিশ্বকাপ সুপার লিগের অংশ নয় বলে জিম্বাবুয়ের কাছে ম্যাচটি ‘ডেড রাবার’।
বাংলাদেশও তাদের একাদশে এনেছে দুটি পরিবর্তন। সঙ্গে অভিষেকও হচ্ছে একজনের। বাদ পড়েছেন তাসকিন ও শরিফুল। ফিরেছেন কাটার মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমান। অভিষেক হচ্ছে এবাদত হোসেনের।
১৩ ওভার শেষে ৬১ রান তুলেছে বাংলাদেশ। আনামুল বিজয় ৩৭ ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ১ রানে অপরাজিত আছেন।