গত বছর অর্থাৎ ২০২১ সালে ১৮৬ জন অপরাধীকে কতল করেছিল সৌদি আরব। আর চলতি বছরে ইতিমধ্যেই সৌদি আরবে শিরশ্ছেদের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ডের সংখ্যা ১২০ পেরিয়ে গিয়েছে।
সংখ্যা দেখে আঁতকে উঠেছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। তাদের প্রশ্ন, বছর শেষে কি তবে গণকতলের সংখ্যা ২০০ ছাড়াবে আরবে? নির্বিচারে দেওয়া হবে মৃত্যুদণ্ড?
অবশ্য চিন্তার আরও বিষয় আছে। পরিসংখ্যান এবং পুরনো রেকর্ড বলছে, যাদের কতল করা হয়েছে, তাদের অনেকের অপরাধ আদপে অপরাধ হিসেবেই গণ্য করার মতো নয়।
স্রেফ গণতন্ত্রের দাবি দাওয়া নিয়ে পথে নেমে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ দেখানোর জন্যও অনেকের মাথা কাটা গিয়েছে। অথচ বহু দেশে এমন প্রতিবাদ সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকারের মধ্যেই পড়ে। সেদিক থেকে দেখলে আরবের মানুষ তাদের মৌলিক অধিকার বুঝে নেওয়ার অপরাধে রাষ্ট্রের হাতে নিহত হয়েছেন।
গত ১২ মার্চই এক সঙ্গে ৮১ জনকে গণকতল করে সৌদি সরকার। যাদের শিরশ্ছেদ করা হয়, তাদের মধ্যে ৪১ জন পুরুষই ছিলেন সরকারবিরোধী গণবিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী।
যদিও তাদের শাস্তি দেওয়ার আগে সৌদি সরকার অপরাধীদের পরিচয় বদলে দেয়। ‘বিক্ষোভকারী’র বদলে সরকার তাদের নাম দেয় ‘সন্ত্রাসবাদী’। তার পর দেওয়া হয় মৃত্যুদণ্ড।
বাকি ৩৭ জনের অপরাধ ঠিক কী ছিল, তা জানাই যায়নি। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো প্রশ্ন তুলেছে, সৌদি আরবের এই গণকতলের কি আদৌ কোনও স্বচ্ছতা আছে। না কি ক্ষমতা আর একাধিপত্যের খাঁড়া ইচ্ছামতোই নেমে আসে আমজনতার ঘাড়ে?
পরিসংখ্যান বলছে এ যাবৎ যে ১২০ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, তাদের মধ্যে ১০১ জনই সৌদির নাগরিক।
বাকি ১৯ জনের মধ্যে ৯ জন ছিলেন ইয়েমেনের বাসিন্দা, তিন জন মিশরীয়, দুজন ইন্দোনেশিয়ার বাসিন্দা এবং ইথিওপিয়া, মায়ানমার, জর্ডন, ফিলিস্তিনি এবং সিরিয়ার একজন করে।
সৌদি আরবের সমালোচকেরা বলছেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সাধারণ অপরাধে দোষী সাব্যস্তদেরও কতল করেই শাস্তি দেওয়া হয়েছে আরবে।
এমনকি, অনেক ক্ষেত্রে অপরাধীদের উপর অমানুষিক অত্যাচারের জন্যও তারা অপরাধ স্বীকার করে নিয়েছেন বলে দাবি করেছেন সৌদি সরকারের সমালোচকেরা। তার পর কতল করা হয়েছে তাদের। বন্দিদের উপর অত্যাচার চালানোর এই ধারা নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েছিল সৌদি।
গত বছর সৌদিতে ১৮৬ জনকে মৃত্যু দেওয়া হয়েছে শুনে দেশটির শাস্তি প্রদানের নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল আন্তর্জাতিক মহল। যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান আল সাউদ তখন আশ্বস্ত করেছিলেন বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন।
এমনকি, অপরাধের শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার প্রবণতাও কমানো হবে বলে জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বছর ঘুরতেই সেই প্রতিশ্রুতি ভোলে সৌদি সরকার।
জুলাই মাস পর্যন্ত অর্থাৎ বছরের প্রথম সাত মাসের হিসেব বলছে মৃত্যুদণ্ডের সংখ্যা ১২০ ছাড়িয়ে গিয়েছে ইতিমধ্যেই। গত বছরের থেকে ৭০ শতাংশ বেড়েছে এই সংখ্যা। সামনে এখনও আরও পাঁচ মাস বাকি। সৌদিতে আরও অন্তত ১০ জনের মৃত্যুদণ্ডের খবর মিলেছে বিভিন্ন সূত্রে।
দেখে শুনে মানবাধিকার সংগঠনগুলো প্রশ্ন তুলেছে, গণকতলের রেকর্ডই কি সৌদি আরবের লক্ষ্য? তাতে কি তারা কৃতিত্ব অনুভব করছে? তা না হলে নির্বিচার এই মৃত্যুদণ্ড প্রদানে মানবিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও সরকারের এত উদাসীনতা কেন!