ময়মনসিংহের ত্রিশালে বুস্টার ডোজ টিকা নিতে মানুষের আগ্রহ কমে এসেছে। উপজেলায় টিকা গ্রহণের উপযোগী মোট জনসংখ্যার মাত্র ১৮ শতাংশ এ পর্যন্ত বুস্টার ডোজ গ্রহণ করেছে। যদিও প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছে যথাক্রমে ৭৩ ও ৬৫ শতাংশ মানুষ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উপজেলায় করোনা সংক্রমণ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকায় মানুষের মধ্যে বিধিনিষেধ মানার প্রবণতা কমেছে। করোনাভীতি নেই বললেই চলে। ফলে মাস্ক ছাড়াই ইচ্ছেমতো চলাফেরা করছে মানুষ।
উপজেলা করোনা ইউনিটের তথ্যমতে, ত্রিশালে করোনা প্রতিষেধক গ্রহণের উপযোগী মোট জনসংখ্যা ৪ লাখ ৬৮ হাজার ১১৫ জন। এর মধ্যে প্রথম ডোজ টিকা গ্রহণ করেছে ৩ লাখ ৪৩ হাজার ৬৬৯ জন অর্থাৎ প্রায় ৭৩ শতাংশ। দ্বিতীয় ডোজ টিকা নিয়েছে ৩ লাখ ১ হাজার ৯৩৪ জন, যা মোট জনসংখ্যার ৬৫ শতাংশ এবং প্রথম ডোজ গ্রহীতাদের ৮৮ শতাংশ। অন্যদিকে এ পর্যন্ত বুস্টার ডোজ নিয়েছে মাত্র ৮৩ হাজার ৪৪৪ জন, যা মোট জনসংখ্যার ১৭ শতাংশ এবং দ্বিতীয় ডোজ গ্রহীতাদের ২৮ শতাংশ।
উপজেলায় প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ টিকা নিতে সাধারণ জনগণের মধ্যে আগ্রহ ছিল অনেক। দীর্ঘ লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে টিকা নিতে দেখা গেছে। আর এখন বুস্টার ডোজ নিয়ে বসে থাকলেও কেন্দ্রগুলোতে টিকাগ্রহীতার দেখা মিলছে না।
সরেজমিনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের করোনা টিকাদান কেন্দ্রে টিকা গ্রহীতাদের তেমন উপস্থিতি দেখা যায়নি। টিকাদানকারী কর্মীদের অলস সময় পার করতে দেখা গেছে। হঠাৎ হঠাৎ দুই-একজন আসছেন। অল্প সময়েই টিকা দিয়ে চলে যাচ্ছে। সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত এ কেন্দ্রে টিকা দেওয়া হয়।
বুস্টার ডোজ নিতে আসা আশিকুর রহমান বলেন, ‘দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার দিন দীর্ঘ সময় লাইনে অপেক্ষা করতে হয়েছিল। তবে আজ আসা মাত্রই টিকা পেয়েছি। কোনো ধরনের ঝমেলা পোহাতে হয়নি।’
টিকা নিতে আসা আবুল কালাম বলেন, ‘প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ অনেক আগে দিয়েছিলাম। পরে মেসেজ এলেও বুস্টার ডোজের কথা আর মনে নেই। এখন হঠাৎ মনে পড়ল তাই বুস্টার ডোজ দিয়ে গেলাম। আগে যে ভিড় ছিল। এখন আসা মাত্রই টিকা দিতে পারছি।’
টিকাদানকারী সিনিয়র স্টাফ নার্স সেলিনা আক্তার বলেন, ‘প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ টিকা দিতে আমরা অনেক হিমশিম খেয়েছি। নিজেরা করোনা আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি নিয়ে খেয়ে না খেয়ে বিকেল ৫টা পর্যন্ত একটানা টিকা দিয়েছি। এখন মানুষের মধ্যে করোনা আক্রান্তের ভয় আগের মতো নেই। তাই বুস্টার ডোজ গ্রহণে মানুষের আগ্রহ কম। বুস্টার ডোজের পর্যাপ্ত টিকা আমাদের কাছে রয়েছে।’
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে করোনা পরিস্থিতি অনেকটাই ভালো। মানুষের মধ্যে করোনাভীতি নেই বললেই চলে। তাই বুস্টার ডোজ নিতে ঢিলেঢালা ভাব দেখা যাচ্ছে। এছাড়া প্রচারের অভাবে কেন্দ্রগুলোতে টিকাগ্রহীতার উপস্থিতি কম। ব্যাপক প্রচারণা চালানো গেলে বুস্টার ডোজ গ্রহণে মানুষের আগ্রহ বাড়বে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘মানুষের মধ্যে করোনাভীতি কমে গেছে। দ্বিতীয় ডোজ গ্রহণের চার মাস পর বুস্টার ডোজ গ্রহণ করতে হয়। নিয়মিতই বুস্টার ডোজের ক্যামম্পেইন করা হচ্ছে। আমাদের পর্যাপ্ত বুস্টার ডোজের টিকা রয়েছে। তবে করোনার ঝুঁকি এড়াতে বুস্টার ডোজের সময় হলে সবারই গ্রহণ করা উচিত।’