সমুদ্রের পানির ঢেউয়ের তোড়ে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত জুড়ে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র ভাঙন। অস্বাভাবিক জোয়ারের তাণ্ডবে ভাঙন আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।ঢেউয়ের তাণ্ডবে ক্ষতবিক্ষত সৈকত হারাচ্ছে তার চিরচেনা সৌন্দর্য। ভাঙনে ঝুঁকির মুখে রয়েছে সৈকতের ছাতা ও ঝিনুক মার্কেট।
শুক্রবার (১২ আগস্ট) দুপুরে সৈকতের ভাঙন পরিদর্শন করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কবির বিন আনোয়ার।
তিনি বলেন, সাগরের ভাঙনরোধে তাৎক্ষণিক বালিভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে অস্থায়ীভাবে ব্যবস্থা নিয়েছি। এখানে অনেক উঁচু বাঁধ দরকার। ইতিমধ্যে একনেকে ৩ হাজার ১৪০ কোটি টাকার একটা প্রকল্প জমা দেওয়া হয়েছে। নাজিরারটেক থেকে মেরিন ড্রাইভ পর্যন্ত স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ হবে। তখন হয়তো সাগরের ভাঙন থেকে রক্ষা পাবে কক্সবাজার।
এর আগে, সকালে কবির বিন আনোয়ার ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তারা সৈকতের কবিতা চত্বর, ডায়াবেটিক পয়েন্ট, লাবনী ও সুগন্ধা পরিদর্শন করেন।
এসময় কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবু সুফিয়ান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ড. তানজির সাইফ আহমেদ, স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতা কাশেম আলীসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, সৈকতের ডায়াবেটিক পয়েন্ট থেকে কলাতলীর ডলফিন মোড় পর্যন্ত সৈকত এলাকায় বড় বড় ঢেউয়ের তোড়ে বিভিন্ন এলাকার বালু সরে গেছে। এতে ভাঙন দেখা দিয়েছে সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে। ভাঙনে ক্ষতবিক্ষত হয়ে সৌন্দর্য হারাচ্ছে বিশ্বের দীর্ঘতম কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত। ভাঙনের কবলে সাগরে বিলীন হয়ে যাচ্ছে বিস্তীর্ণ বালিয়াড়ি, ঝাউগাছ। ঢেউয়ের তোড়ে সৈকতের লাবনী পয়েন্টে জেলা প্রশাসন নির্মিত উন্মুক্ত মঞ্চ সাগরগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। কিছু কিছু জায়গায় পানি উন্নয়ন বোর্ড বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধের চেষ্টা করলেও কোনো লাভ হচ্ছে না। ঢেউয়ের আঘাতে লাবণী পয়েন্টের বেশ কয়েকটি জিও ব্যাগ ছিঁড়ে গেছে। ওই এলাকার ট্যুরিস্ট পুলিশের হেল্প ডেস্কও নদীতে তলিয়ে যাওয়ার পথে।