বিদ্যুৎ সংকট ও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে যশোরের রেণুপোনার উৎপাদন ও বাজার ব্যবস্থাপনা কঠিন হয়ে পড়েছে। বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন হ্যাচারি মালিক ও মাছ ব্যবসায়ীরা।
মাছচাষি ও ব্যবসায়ীরা জানান, যশোর শহরতলির চাঁচড়া বাবলাতলা মৎস্য পোনা বাজার থেকে প্রতিদিন শতাধিক ট্রাক ও পিকআপে করে রেণুপোনা চলে যায় দেশের ২১ জেলায়। চৈত্র থেকে মধ্য আষাঢ় পর্যন্ত রেণুপোনা উৎপাদনের ভরা মৌসুম হলেও এবার অনাবৃষ্টিতে পোনা বেচাকেনার বাজার তেমন জমে ওঠেনি। এক সপ্তাহ ধরে বিরতি দিয়ে মাঝেমধ্যে বৃষ্টি হওয়ায় কিছুটা বেচাকেনা শুরু হলেও ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রলসহ সব ধরনের জ্বালানির দাম বাড়ায় চরম সংকট তৈরি হয়েছে। লোডশেডিংয়ের কারণে সেচপাম্প দিয়ে মাছের রেণুপোনা উৎপাদন এবং যানবাহনের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে তা সরবরাহের ক্ষেত্রেও খরচ হচ্ছে প্রায় দ্বিগুণ।
গত মঙ্গলবার ভোরে চাঁচড়ার বাবলাতলা পোনা বাজারে গিয়ে দেখা যায়, রেণু ও পোনা বিক্রেতারা হাঁড়ি নিয়ে সারি সারি বসে থাকলেও সেখানে নেই কোনো ক্রেতা। কয়েকজন পাইকারি ব্যবসায়ীর দেখা মিললেও তারা মাছের পোনা কিনছেন না।
রবিউল ইসলাম নামে একজন রেণু ও পোনা ব্যবসায়ী বলেন, ‘আমার ৩০ বছরের ব্যবসায়িক জীবনে এমন সংকট কখনো দেখিনি। এমনিতে করোনার কারণে গত দুই বছরে চরম লোকসানে ছিলাম। এরপর ভরা মৌসুমে প্রত্যাশিত বৃষ্টি না পাওয়ায় মাছের পোনা ও রেণু বিক্রি শিকেয় ওঠে। শেষ সময়ে সামান্য বৃষ্টি পেয়ে যখন আমরা বেচাকেনা শুরু করেছি, তখন জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ও মাত্রাতিরিক্ত লোডশেডিং আমাদের পথে বসানোর পর্যায়ে নিয়ে গেছে।’
আরেক মাছচাষি শরিফুল আলম বলেন, মাছের রেণু ও পোনা উৎপাদনের সঙ্গে পর্যাপ্ত পানির সম্পর্ক রয়েছে। তবে এ বছর সেই পরিমাণ বৃষ্টিপাত না হওয়ায় আমাদের সেচনির্ভর হয়ে পড়তে হয়। এর মাঝে সরকারের সিদ্ধান্তে লোডশেডিং চলে। এ অবস্থায় আমাদের ডিজেলচালিত শ্যালো মেশিন দিয়ে হাপায় (ছোট জলাশয়) পানি দিয়ে মাছের পোনা নিরাপদে রাখতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে কয়েকগুণ। যে কারণে আমরা বাধ্য হয়ে মাছের পোনা ও রেণুর দাম বাড়িয়ে দিয়েছি।
জেলা মৎস্যচাষি ও হ্যাচারি মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুর রহমান গোলদার বলেন, ‘দেশের অর্থনীতির উন্নয়নে যশোরের মাছচাষিরা বিশেষ ভূমিকা রেখে আসছেন। অথচ সারা বছরই তাদের বাড়তি বিদ্যুৎ বিল দিয়ে আসতে হচ্ছে। মাছ চাষ কৃষির সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত থাকার পরও আমরা অকারণে শিল্পরেটে বিদ্যুৎ বিল দিয়ে আসছি। এরপরও লোডশেডিংয়ে আমরা বিপর্যস্ত। সর্বশেষ ডিজেল-কেরোসিনের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এ খাতের সঙ্গে যারা যুক্ত, তারা পথে বসতে চলেছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘সংকট থেকে উত্তরণে এই মুহূর্তে সরকারি প্রণোদনার কোনো বিকল্প নেই। সরকার যদি মাছচাষিদের সাহায্যে এগিয়ে না আসে, তাহলে ভবিষ্যতে যশোর জেলায় মাছচাষির সংখ্যা মারাত্মকভাবে কমে যাবে।’