অনেক জল্পনা-কল্পনা শেষে চীনের ইউয়ান ওয়াং-৫ নামের পর্যবেক্ষণ জাহাজটিকে হাম্বানটোটা বন্দরে প্রবেশের অনুমতি দিল শ্রীলঙ্কার কর্র্তৃপক্ষ। এর আগে জাহাজটির প্রবেশ নিয়ে প্রশ্ন তোলে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র। এক পর্যায়ে জাহাজটিকে থামিয়ে দিতে বাধ্য হয় অর্থনৈতিকভাবে বিধ্বস্ত দ্বীপদেশটি। তবে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র যুক্তিসংগত কোনো কারণ দেখাতে না পারায় এ পদক্ষেপ নিল শ্রীলঙ্কা।
জানা গেছে, শ্রীলঙ্কার অনুমতি মেলায় জাহাজটি আগামী ১৬ আগস্ট হাম্বানটোটা আন্তর্জাতিক বন্দরে পৌঁছাবে, যা নির্ধারিত সময়ের চেয়ে পাঁচ দিন কম। এটি ১১ আগস্ট বন্দরটিতে পৌঁছানোর কথা ছিল। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা ইউয়ান ওয়াং-৫ কে চীনের সর্বশেষ প্রজন্মের স্পেস-ট্র্যাকিং জাহাজগুলোর মধ্যে একটি হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যা স্যাটেলাইট, রকেট ও আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ পর্যবেক্ষণ করতে ব্যবহৃত হয়।
নয়াদিল্লি আশঙ্কা করছে তার বৃহত্তর ও আরও শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী চীন হাম্বানটোটাকে ভারতের পেছনের উঠোনে একটি সামরিক ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করবে। বন্দরটি এশিয়া থেকে ইউরোপে প্রধান শিপিং রুটের কাছাকাছি। এনিয়ে অবশ্য এখনো নয়াদিল্লি কঠোর কোনো মন্তব্য করেনি। কিন্তু বিষয়টি যে ভারত সহজভাবে নেয়নি তার প্রমাণ শ্রীলঙ্কাকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া তেলের শিপমেন্ট পিছিয়ে দেওয়ার ঘটনা।
শ্রীলঙ্কার সংবাদমাধ্যমের দাবি, ভারতের চাপের মুখে পড়েই জাহাজটিকে আটকে দিয়েছিল রনিলের সরকার। হাম্বানটোটায় ওই জাহাজ ভিড়লে তা নিজেদের সুরক্ষার ক্ষেত্রে ঝুঁকি হতে পারে বলেও আশঙ্কা ভারতের।
যদি এই জাহাজটি শ্রীলঙ্কার বন্দরে থাকে, তাহলে তারা ভারতের মিসাইল পরীক্ষার ওপরেও নজর রাখতে পারবে। ভারত মিসাইল পরীক্ষা করলে তার বিস্তারিত তথ্য চীন পেয়ে যাবে। চীনের এই জাহাজ নিয়ে ভারত উদ্বিগ্ন। জাহাজটি চীনের ন্যাশনাল প্রসেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন নিয়ন্ত্রণ করে এবং তাতে প্রচুর সামরিক যন্ত্রপাতি লাগানো। অবশ্য শ্রীলঙ্কার প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মুখপাত্র নালিন হেরাথ জানিয়েছেন, ভারতের উদ্বেগের বিষয়টি তারা জানেন। কিন্তু এটি ‘রুটিন মহড়া’।
হেরাথ বলেছেন, ভারত, চীন, রাশিয়া, জাপানের মতো দেশের জাহাজ জলসীমায় ঢোকার অনুমতি চাইলে, তা সঙ্গে সঙ্গে দেওয়া হয়।
২০১৪ সালে চীনের সাবমেরিন হাম্বানটোটা এসেছিল। ভারত তীব্র প্রতিবাদ জানানোর পর আর এরকম ঘটনা ঘটেনি। এবারও শ্রীলঙ্কা বলছে, শুধু পর্যবেক্ষণের কাজেই চীন এই জাহাজ ব্যবহার করবে। ঘটনা হলো হাম্বানটোটা বন্দর ৯৯ বছরের লিজে চীনের এক কোম্পানির হাতে তুলে দিয়েছে শ্রীলঙ্কা। শ্রীলঙ্কার কাছ থেকেও ঋণ হিসেবে প্রচুর অর্থ বকেয়া রয়েছে চীনের।