হাদিসের শিক্ষা

সোম ও বৃহস্পতিবার রোজার ফজিলত

মানুষের গোনাহ যত ব্যাপক, দয়াময় আল্লাহর ক্ষমা দরজা, ক্ষমার বাহানা কিংবা ক্ষমার উপলক্ষ তার চেয়ে অনেক অনেক বেশি ও বিস্তৃত। প্রয়োজন শুধু বান্দার আল্লাহমুখী হওয়া, ফিরে আসা; আল্লাহর ক্ষমা ও রহমতের দরিয়ায় অবগাহন করা।

তেমনি একটি উপলক্ষ হলো সোম ও বৃহস্পতিবারের রোজা। সপ্তাহের দিনগুলোর মধ্যে সোম ও বৃহস্পতিবার গুরুত্বপূর্ণ। আমলের মাধ্যমে কল্যাণ লাভের বিচারে সপ্তাহের সব দিনই গুরুত্বপূর্ণ, তবে কিছু দিবস একটু বিশেষ গুরুত্বের দাবি রাখে। সোমবার তো বিভিন্ন দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ, যার মাধ্যমে আমরা রবকে চিনেছি, আল্লাহ হেদায়েত দিয়েছেন, অহির আলোর সন্ধান পেয়েছি নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ দিনে জন্মগ্রহণ করেছেন। যে কিতাবের মাধ্যমে আমরা রবের কালাম লাভ করেছি, আসমানি নূরে স্নাত হয়েছি, হেদায়েতের বাণী লাভ করেছি সে কিতাবও নাজিল হয়েছে সোমবারে। হজরত আবু কাতাদা আনসারি (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সোমবারের রোজা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো। (এ দিনের রোজার ফজিলত কী? বা কেন আপনি গুরুত্ব দিয়ে এদিন রোজা রাখেন?) তিনি উত্তরে বললেন, এ দিনে অমি জন্মলাভ করেছি এবং এ দিনেই আমার ওপর অহি নাজিল হয়েছে। সহিহ মুসলিম : ১১৬২

এ ছাড়া আরো কারণ রয়েছে। নবীজির প্রিয় সাহাবি হজরত উসামা বিন জায়েদ (রা.) একবার নবীজিকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনাকে অনেক গুরুত্বের সঙ্গে দুদিন রোজা রাখতে দেখি! নবীজি তখন জিজ্ঞেস করলেন, কোন দুদিনের কথা বলছো, উসামা! তিনি বললেন, সোম ও বৃহস্পতিবার। তখন নবীজি বললেন, এ দুদিন রাব্বুল আলামিনের সামনে বান্দার আমলসমূহ পেশ করা হয়; ফলে আমি চাই আমার আমল পেশ করার সময় আমি রোজা অবস্থায় থাকি। সুনানে নাসায়ি : ২৩৫৮

আর কেমন গুরুত্বের সঙ্গে নবীজি (সা.) সোম ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখতেন! হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, নবীজি  (সা.) গুরুত্বের সঙ্গে খোঁজ রেখে রেখে সোম ও বৃহস্পতিবারের রোজা রাখতেন! জামে তিরমিজি : ৭৪৫

এ দুদিনের রোজার সবচেয়ে বড় ফজিলত হলো এর মাধ্যমে আল্লাহ গোনাহ মাফ করেন। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (গুরুত্বের সঙ্গে) সোম ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখতেন। ফলে নবীজিকে জিজ্ঞাসা করা হলো আল্লাহর রাসুল! আপনি (গুরুত্বের সঙ্গে) সোম ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখেন! (এর কারণ কী?)। তখন নবীজি বললেন সোম ও বৃহস্পতিবারে আল্লাহ সব মুসলিমকে ক্ষমা করে দেন। তবে ওই দুই ব্যক্তি ছাড়া, যারা একে অপরকে বর্জন করেছে। তাদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, ‘তারা পরস্পর মিলে যাওয়া পর্যন্ত এদের আপন অবস্থায় ছেড়ে দাও।’ সুনানে ইবনে মাজাহ : ১৭৪০

গ্রন্থনা : মাওলানা মুস্তাকিম বিল্লাহ