ঝিনাইদহে পরকীয়া সম্পর্কের জেরে জন্ম নেওয়া নবজাতককে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মা নুরুন্নাহার এবং নানী কমলা খাতুনসহ তিন জনকে আটক করেছে পুলিশ।
স্থানীয়রা জানায়, সোমবার (১৫ আগস্ট) বিকালে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে প্রসব বেদনা নিয়ে ভর্তি হয় কালীগঞ্জ উপজেলার কাদিরকোল গ্রামের আতিয়ার রহমানের মেয়ে নুরুন্নাহার। সন্ধ্যায় হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডের নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে একটি ছেলে সন্তানের জন্ম দেন তিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানায়, রাত ১০টার দিকে শিশুটির নানী কমলা খাতুন তাকে নিয়ে রুমের বাইরে নিয়ে যায়। সেখানে শিশুটির হাত-পা ভেঙ্গে, অন্ডকোষ মুচড়ে ও গলা টিপে হত্যার চেষ্টা করে। বিষয়টি এক রোগীর স্বজন দেখতে পেয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে চিকিৎসকদের কাছে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ২ টার দিকে মারা যায় শিশুটি।
স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, মেয়েটির তিন বছর আগে সদর উপজেলার গান্না গ্রামের রকি নামে এক ছেলের সঙ্গে বিয়ে হয়। সেখানে স্বামীর সাথে বনিবনা না হওয়ায় দুই বছর আগে তাদের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। এ ঘটনায় আদালতে মামলাও চলছে। এরপর মেয়েটি তার বাবার বাড়িতেই থাকতো। গত ১ আগস্ট কালীগঞ্জ উপজেলার আড়পাড়া গ্রামে সোহাগ হোসেন নামে আর এক ছেলের সাথে আবারো বিয়ে হয় তার। এর মাঝে সে পরকীয়ায় জড়িয়ে পরে। অবৈধ সম্পর্কের কারণে সে সন্তান ধারণ করে। তবে সেই পরকীয়া প্রেমিক কে তা সঠিক ভাবে এখনো জানা যায়নি।
তারেক মাহমুদ নামে এক রোগীর স্বজন বলেন, একটি নিষ্পাপ শিশুকে এভাবে নির্যাতন করে হত্যার করা খুবই ন্যাক্কারজনক ঘটনা। আমরা এই ঘটনার সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।
এ ব্যাপারে ওই নবজাতকের মা নুরুন্নাহার বলেন, আমি তো আমার বেডে ছিলাম। আমার মা ছেলেকে বাইরে নিয়ে গিয়েছিল শুনেছি। আমি কিছু জানি না।
ঝিনাইদহ সদর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) হরিদাস পাল বলেন, 'আমরা যতটুকু জানতে পেরেছি পরকীয়ার কারণে সন্তান হওয়ায় তা মেনে নিতে পারেনি পরিবার। যেহেতু তার নতুন বিয়ে হয়েছে সে কারণে শিশুটির নানী ওই কাজ করতে পারে। আমরা ময়নাতদন্তের জন্য নবজাতকের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছি। পরবর্তীতে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।