সোলারে চলবে সেচ প্রকল্প

জ্বালানি তেলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আনার উদ্যোগ নেবে সরকার। এ জন্য দেশের সেচব্যবস্থা সোলারে রূপান্তর করা হবে। সেচের সময় সেচ প্রকল্পগুলোকে সোলারে পরিবর্তন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। গতকাল একনেক সভা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এমন তথ্য জানিয়েছেন তিনি। 

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশের কিছু অঞ্চলে সোলারে সেচ প্রকল্প চলছে। বাকিগুলোকে পর্যায়ক্রমে সোলারে রূপান্তরিত করা হবে।

এদিকে বরেন্দ্র এলাকায় পানি সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ জন্য ওই এলাকার খালে পানি সংরক্ষণের মাধ্যমে ‘সেচ সম্প্রসারণ প্রকল্প-দ্বিতীয় পর্যায়’ শীর্ষক একটি প্রকল্পটিসহ মোট ৬টি প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২৪৯ কোটি ৪০ লাখ টাকা। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে প্রকল্পগুলোর অনুমোদন দেওয়া হয়।

গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এনইসি সম্মেলন কক্ষের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সভায় সভাপতিত্ব করেন একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এবং পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানান।

বরেন্দ্র এলাকায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ওই এলাকায় ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার ১০ থেকে ১২ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবহারের মাধ্যমে প্রায় ৩ হাজার ৪৯০ হেক্টর জমিতে সেচসুবিধা এবং খাল ও পুকুরপাড়ে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশেরও উন্নয়ন হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ ছাড়া খালের বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ন রাখতে দেশের কোথাও নতুন করে কোনো স্লুইসগেট না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে একনেক বৈঠকে। এ বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমাদের দেশে খালগুলোতে অনেক জায়গায় তলার অংশও পাকা করা হয়েছে। এটি থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত হয়েছে। খালের বৈশিষ্ট্য নিয়ে খাল খালই থাকবে। পানির সরবরাহ যাতে সারা বছর নিরবচ্ছিন্ন থাকে।’

তিনি আরও বলেন, সøুইসগেট যেখানে-সেখানে মানায় না। এটি চালু হওয়ার পর দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে আর চালু করা যায় না। তাই দেশের কোথাও নতুন করে আর সøুইসগেট তৈরি করা হবে না। যেগুলো আছে, সেগুলো আরও ভালো করে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় সেচ সাব-সেক্টরের অন্যতম উদ্দেশ্য টেকসই কৃষি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের সঙ্গে প্রকল্পটি সামঞ্জস্যপূর্ণ। এ ছাড়া টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট ৬ দশমিক ১-এ সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনার সঙ্গেও প্রকল্পটি সংগতিপূর্ণ। জাতীয় কৃষিনীতি ২০১৮-এর ৫.৪.৩.২-এ উল্লিখিত ভূ-গর্ভস্থ সেচনালা তৈরির মাধ্যমে পানির উত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার সঙ্গেও প্রকল্পটি সামঞ্জস্যপূর্ণ।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রকল্প এলাকায় ভূ-উপরিস্থ পানি সেচকাজে ব্যবহার করে সেচসুবিধা এবং কৃষি উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব।

প্রকল্পটি ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়ন করবে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ)।

প্রকল্প প্রস্তাবে বলা হয়, দেশের উত্তর-পশ্চিমাংশে অবস্থিত রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁ জেলার আবহাওয়া অপেক্ষাকৃত শুষ্ক, তাপমাত্রা তুলনামূলক বেশি, বৃষ্টিপাত হয় অনিয়মিত এবং ভূ-উপরিস্থ পানির স্বল্পতাও রয়েছে। অন্যদিকে পদ্মা, মহানন্দা, পুনর্ভবা, রানী ও বারনই নদীতে বর্ষাকালে প্রচুর পানি থাকে। এসব নদীর পানি সংরক্ষণ করে সেচকাজে ব্যবহার করা গেলে ভূ-গর্ভস্থ পানির ব্যবহার সীমিত করা সম্ভব হবে।

বরেন্দ্র এলাকায় খালে পানি সংরক্ষণের মাধ্যমে সেচ সম্প্রসারণ প্রথম পর্যায় প্রকল্পের মাধ্যমে ৩ হাজার ৭৮০ হেক্টর জমি ইতিমধ্যে সুনিয়ন্ত্রিত সেচের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। এই প্রকল্পের সফলতা বিবেচনায় নিয়ে বিএমডিএ পদ্মা, মহানন্দা, পুনর্ভবা, রানী, আত্রাই ও বারনই নদীর বাস্তব পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করে সারা বছর পানি থাকে এবং সেচকাজে ব্যবহার উপযোগী এমন এলাকাগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব নদী থেকে পানি উত্তোলন করে খালে সংরক্ষণের জন্য প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন মৌসুমে খালের পানি ব্যবহার করে ৩ হাজার ৪৯০ হেক্টর জমি পরিকল্পিত সেচের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

গতকালের একনেক সভায় ২ হাজার ৫০৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬টি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে ৩টি প্রকল্প নতুন, আর ৩টির ব্যয় বাড়ানো হয়েছে।