কুয়াকাটায় রেস্তোরাঁ মালিকরা আকস্মিক ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন। দফায় দফায় তাদের রেস্তরাঁগুলোতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় ক্ষুব্ধ হয়ে এই অনির্দিষ্টকালের জন্য তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন।
কুয়াকাটা খাবার হোটেল মালিক সমিতি নামে একটি সংগঠনের সভাপতি সেলিম মুন্সী মঙ্গলবার (১৬ আগস্ট) রাত ১০টায় এ ঘোষণা দেন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, প্রতিদিন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খাবার হোটেলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার নামে মোটা অংকের টাকা জরিমানা করে যাচ্ছে। একই হোটেলকে একাধিকবার জরিমানার আওতায় নেওয়া হয়েছে। মোবাইল কোর্টের নামে আমাদের হয়রানি করা হচ্ছে। এতে আমরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। তাই কুয়াকাটার সকল খাবার হোটেল মালিক একত্রিত হয়ে আমাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
সংগঠনের সিনিয়র সহ সভাপতি আলমগীর হোসেন বলেন, আমার মালিকানাধীন আল-মদিনা নামের একটি খাবার হোটেলে গত ১১ আগস্ট ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে। কিন্তু আজকে (১৬ আগস্ট) পুনরায় ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তৎক্ষণাৎ জরিমানার অর্থ পরিশোধ করতে না পারায় আমাকে বেশ কিছুক্ষণ পুলিশ দিয়ে আটকে রাখা হয়। সুদে আনা টাকা দিয়ে জেল খাটা থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন বলে জানান তিনি।
খাবার হোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কলিম মাহমুদ বলেন, প্রশাসনের এই হয়রানি সামাল দিয়ে আমাদের পক্ষে ব্যবসা পরিচালনা করা সম্ভব না। তাই আমরা প্রায় ৫০ জন খাবার হোটেল মালিক একমত হয়ে বুধবার (১৭ আগস্ট) থেকে প্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। লোকসান টেনে আর পারছি না। তাই দোকান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত।
এদিকে আবাসিক হোটেল মালিকদের সংগঠন কুয়াকাটা হোটেল মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এমএ মোতালেব শরীফ বলেন, রেস্তোরাঁ বন্ধ থাকলে পর্যটকরা চরম বিপাকে পড়বেন। তাই এ সমস্যার দ্রুত সমাধানে সবাইকে আন্তরিক হতে হবে।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহিদুল হক পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটায় রেস্তোরাঁ মালিকদের আকস্মিক ধর্মঘট ডাকাকে অযৌক্তিক আখ্যায়িত করে বলেন, পর্যটকদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত খাবার পরিবেশনের গুরুত্ব বোঝাতে কুয়াকাটায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। রেস্তোরাঁ মালিকরা ধর্মঘটে না গিয়ে প্রয়োজনে জেলা প্রশাসককে জানাতে পারেন।