প্রতি বছর মহররম মাসে পবিত্র কাবাঘর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে ধোয়া হয়। গত সোমবার রাতে এক বছর পর কাবাঘর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও ধোয়া হয়। এ কাজে প্রথমবারের মতো নেতৃত্ব দেন সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মুহাম্মদ বিন সালমান। দেশটির বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজের পক্ষে কাবাঘর পরিষ্কারের কাজে অংশ নেন তিনি। এ সময় বিন সালমান নিজ হাতে কাবাঘর ধুয়েমুছে পরিষ্কার করে মূল্যবান আতর দিয়ে তা সুগন্ধিযুক্ত করেন।
এ সময় কাবা শরিফের চারদিকে বিশেষ বাহিনীর সদস্যরা কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে রাখে। তবে মসজিদে হারামের অন্য ফ্লোরগুলোতে তাওয়াফ চালু ছিল।
কাবাঘর পরিষ্কারের বার্ষিক এ উৎসবে পবিত্র দুই মসজিদের জেনারেল প্রেসিডেন্সির প্রধান ও মসজিদে হারামের ইমাম শায়খ আবদুর রহমান আস সুদাইস, তায়েফের গভর্নর প্রিন্স সাউদ বিন নাহার বিন সাউদ, জেদ্দার গভর্নর প্রিন্স সাউদ বিন আবদুল্লাহ বিন জালাবি এবং সিনিয়র স্কলারস কাউন্সিলের সদস্য শায়খ সালেহ বিন আবদুল্লাহ বিন হুমাইদ, আবদুল্লাহ বিন মুতলাক, শায়খ সাআদ বিন নাসের আশ শাসরি ও শায়খ বান্দার বিন বালিলাহসহ বিভিন্ন মুসলিম দেশের রাষ্ট্রদূত, আলেম ও দেশটির উচ্চপদস্থ একাধিক কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সৌদি আরবের ক্রীড়ামন্ত্রী যুবরাজ আবদুল আজিজ বিন তুর্কি বিন ফয়সালকে নিয়ে ক্রাউন প্রিন্স বিন সালমান মসজিদে হারামে প্রবেশ করেন। এ সময় শায়খ আবদুর রহমান আস সুদাইসের নেতৃত্বে কাবা শরিফের ইমামরা তাকে অভ্যর্থনা জানান।
মসজিদে হারামে প্রবেশের পর ক্রাউন প্রিন্স হাজারে আসওয়াদ চুম্বন করে কাবাঘর তাওয়াফ সম্পন্ন করেন। পরে মাকামে ইবরাহিমে দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করে কাবাঘরের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে পবিত্র এ ঘর ধোয়া ও পরিষ্কার করেন মুহাম্মদ বিন সালমান। ধোয়ামোছার পর সবাইকে নিয়ে কাবাঘরের ভেতরে দুই রাকাত নামাজ আদায় করে বিশ^ জাহানের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া করেন।
কাবাঘর পরিষ্কারের কাজে উন্নতমানের গোলাপজল, উদ ও বিভিন্ন সুগন্ধিযুক্ত ৪৫ লিটার জমজমের পানি ব্যবহার করা হয়। এর আগে নিজ হাতে মুহাম্মদ বিন সালমান কাবার ভেতরের দেয়াল নরম টিস্যু কাপড় দিয়ে পরিষ্কার করেন।
কাবাঘর পরিচ্ছন্ন প্রকল্পের পরিচালক আল আরাবিয়াকে বলেন, পবিত্র এ ঘর ধোয়ায় ব্যবহৃত প্রতিটি বস্তুতে স্বর্ণের প্রলেপ ও নির্যাস দেওয়া হয়। এমনকি এখানে ব্যবহৃত চারটি ঝাড়–তেও স্বর্ণের ব্যবহার থাকে।
তাসকীন জাহান