পিঁপড়া আতঙ্কে তামিলনাড়ু

দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ুর ডিন্ডিগুল জেলার কয়েকটি গ্রামের মানুষের জীবন এখন দুর্বিষহ। হলদে রঙের পাগলাটে পিঁপড়ার জ্বালায় অতিষ্ঠ জনজীবন। ক্ষেতের ফসল থেকে শুরু করে গবাদি পশু এমনকি গ্রামবাসীদেরও রেহাই দিচ্ছে না পিঁপড়া। ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচারের (আইইউসিএন) তথ্যানুযায়ী, এই হলদেটে পাগলা পিঁপড়া বিশ্বের সবচেয়ে আগ্রাসী প্রজাতির জীব। এরা  কামড়ায় না, হুলও ফোটায় না, কিন্তু প্রাণীদেহে মারাত্মক জ্বলুনি সৃষ্টি করা এসিড ছিটিয়ে দেয়। এই পিঁপড়ার বৈজ্ঞানিক নাম অ্যানোপ্লোলেপিস গ্র্যাসিলিপেস। সাধারণত গ্রীষ্মমণ্ডলীয় এবং উপ-ক্রান্তীয় অঞ্চলে এদের বসবাস। পিঁপড়ার চলনভঙ্গিও অদ্ভুত, হাঁটে খেয়ালি ভঙ্গিতে, এলোমেলো পা ফেলে। আক্রান্ত হলে আরও বেশি পাগলাটে আচরণ করে। বিশেষজ্ঞরা জানান, দ্রুত বংশবৃদ্ধিতে সক্ষম এই পিঁপড়া স্থানীয় ফসল ও বন্যপ্রাণীর বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে। কীটতত্ত্ববিদ ড. প্রণয় বৈদ্য এদের ‘সুযোগ সন্ধানী’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘খাবারের বেলায় এদের কোনো বাছবিচার নেই। সবকিছু খায়, সামনে যা পায় সব খায়।’ তামিলনাড়–র পিঁপড়া উপদ্রুত গ্রামের সেলভাম নামের এক কৃষক নিজেদের দুর্দশা তুলে ধরেন বিবিসির কাছে। তিনি বলেন, ‘চাষাবাদ কিংবা গবাদিপশু চরাতে গ্রামের কাছে কারানথামালাই বনের কাছাকাছি যাওয়ার উপায় নেই। শরীর বেয়ে উঠে আসে পিঁপড়ার দল, চামড়ায় জ্বলুনি হয়, ফোস্কা পড়ে যায়। এমনকি খাবার পানিও নিতে পারি না, সেখানেও ঝাঁক বেঁধে হানা দেয় এরা। জানি না আমরা কী করব।’ গ্রামবাসীরা জানান, এসব পিঁপড়া গবাদিপশুর চোখে আক্রমণ করে, এদের ছোড়া এসিডে পশুদের অন্ধত্বও সৃষ্টি হচ্ছে। তারা দেখেছেন সাপ, খরগোশকেও আক্রমণ করেছে পিঁপড়ার দল। কয়েক বছর ধরে গ্রামবাসীরা হলদে পিঁপড়াদের এই বনে দেখছে। কিন্তু হঠাৎ এই পিঁপড়ারা কেন এত আগ্রাসী হলো এর উত্তর খুঁজতে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় বন বিভাগ। তবে কীটতত্ত্ববিদরা বলেছেন তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে এই প্রজাতির পিঁপড়ার ক্ষুধা বৃদ্ধি পায়, এজন্যই আগ্রাসী হয়েছে পাগলাটে পিঁপড়ার দল।