জনপ্রিয় চিত্রনায়ক জিয়াউল রোশান। তার হাতে বেশ কিছু সিনেমা রয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি তিনি আলোচনায় এসেছেন তার বিরুদ্ধে ‘আশীর্বাদ’ সিনেমার সহ-প্রযোজকের নানা অভিযোগের কারণে। এ নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন মাসিদ রণ
ঘটনাপ্রবাহ...
আমরা শিল্পীরা আসলে সমাজের আইডল। মানুষ আমাদের কাছ থেকে শেখার চেষ্টা করেন। তাই পারতপক্ষে এমন কোনো কাজ বা কথা পাবলিক প্ল্যাটফর্মে বলি না যেটা আমাদের ইমেজ নষ্ট করবে। সুতরাং বুঝতেই পারছেন ক্যামেরার সামনে হাজারটা ঘটনা ঘটে যায়, কিন্তু আমরা চলচ্চিত্রের স্বার্থে চেষ্টা করি মানিয়ে নিয়ে কাজ করতে। কখনো কখনো মানতে পারি না, সেটাও কিন্তু জনগণের সামনে আসে না। ইন্ডাস্ট্রির কথা ইন্ডাস্ট্রির মধ্যেই থেকে যায়। কিন্তু আশীর্বাদ সিনেমার সহ-প্রযোজক জেনিফার আপুর কী দরকার ছিল সংবাদ সম্মেলন করে আমার ও ছবির নায়িকা মাহিয়া মাহির নামে আজেবাজে কথা বলার? তাও যদি সত্যি হতো একটা কথা ছিল। যাই হোক, এরপরের ঘটনা তো সবার জানা।
অভিযোগ...
আমাকে উল্লেখ করে ওই প্রযোজক যে অভিযোগগুলো করেছেন সেগুলো হলো আমি নাকি নির্মাতার কাজের ওপর হস্তক্ষেপ করি। এজন্য আমার নাকি ক্যারিয়ার আর বেশিদূর এগোবে না। আমাকে হেয় করে বলা হয়েছে আমি নাকি আড়াইখানা সিনেমার হিরো। একজন নারী, যিনি ইন্ডাস্ট্রির বাইরের মানুষ হয়ে সরকারি অনুদান পেয়ে সিনেমা করতে এসেছেন, তিনি কাকে তার সিনেমায় নায়ক হিসেবে কাস্ট করছেন, তার ব্যাকগ্রাউন্ড পর্যন্ত জানেন না, এটা কতবড় আনপ্রফেশনালিজম সেটা সবাই বুঝতে পারছেন। তিনি জানেনই না আমার কতগুলো সিনেমা মুক্তি পেয়েছে, কতগুলো কাজ হাতে আছে। আর আমি যদি এত নগণ্য হিরো হতাম, তাহলে আমাকে কেন তিনি কাস্ট করলেন? তিনি সিনেমার সেটে পানি খাওয়া নিয়েও আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন! আমাকে নিয়ে তিনি ভুল তথ্যও ছড়িয়েছেন। তার ভাষ্য মতে, তার অনুরোধেই নাকি আমাদের দেশের স্বনামধন্য প্রযোজক ইকবাল ভাই আমাকে তার দুটি সিনেমায় কাস্ট করেছেন। কিন্তু আসল ঘটনা একেবারেই উল্টো। জেনিফার আপু বরং আমার নামে ভাইয়ের কাছে বদনাম করেছেন এবং আমাকে চুক্তিবদ্ধ হওয়া সেই ছবি দুটি থেকে বাদ দিতে বলেছেন। সে কথা ইকবাল ভাই নিজেই আমাকে ফোন করে বলেছেন। যাই হোক, তিনি প্রফেশনাল প্রযোজক, এজন্য নিজের সিদ্ধান্তে তিনি অটল থেকেছেন। আমাকে অযথা সিনেমা থেকে বাদ দেননি।
সংবাদ সম্মেলন...
এত অভিযোগের পরও শুরুতে চুপ ছিলাম। কিন্তু খেয়াল করলাম আমাদের এই ভদ্রতাকে দুর্বলতা ভেবে বিষয়টিকে আরও নোংরামির পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে ‘আশীর্বাদ’ সিনেমার নির্মাতা মোস্তাফিজুর মানিককে আমাদের ভুল প্রমাণ করার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। অথচ মানিক ভাইয়ের জন্যই ছবিটি আমরা সবাই অনেক কষ্ট সহ্য করেও শেষ করেছি। পারিশ্রমিক অর্ধেকেরও কম নিয়েছি। এমনকি যে গল্প দেখিয়ে সহ-প্রযোজক বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে ৬০ লাখ টাকা নিয়েছেন, সেটি গোঁজামিল দিয়ে শেষ করলেও আমরা চুপ থেকেছি। আমরা তখন এটাও বলিনি যে সরকারি টাকা আত্মসাৎ করে যা তা মানের একটি সিনেমা বানিয়ে তিনি কোনো প্রচার-প্রচারণা ছাড়াই মুক্তি দিচ্ছেন। অবশেষে নির্মাতা মানিক ভাইয়ের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করেই আমি আর মাহি সংবাদ সম্মেলন করি। আর সেখানে আমাদের বিরুদ্ধে তোলা সব অভিযোগের প্রকৃত সত্য পরিষ্কার করেন নির্মাতা।