পারকিনসন্স এমন রোগ, যার কারণে ব্যক্তি চলাফেরা শক্তি হারিয়ে ফেলে, মাংসপেশি শক্ত হতে শুরু করে, হাতে-পায়ে এবং শরীরে কম্পন দেখা দেয়। ষাটোর্ধ্বদের মধ্যে এই রোগের প্রকোপ বেশি দেখা যায়। নারীদের তুলনায় ৫০ শতাংশ পুরুষরা এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। এই রোগের লক্ষণ এতটাই সূক্ষ্ম যে প্রাথমিক পর্যায় ধরা পড়ে না। কয়েক সপ্তাহ বা মাস কেটে যাওয়ার পর রোগটি ধরা পড়ে। তত দিনে লক্ষণের তীব্রতাও বৃদ্ধি পায়।
কারণ
মস্তিষ্কের একাংশের তন্ত্রিকা কোষ বা নিউরন্স নষ্ট হতে শুরু করলে এই রোগ দেখা দেয়। ডোপামাইন নামক এক উপাদান উৎপাদন করে নিউরন্স। কিন্তু নিউরন্সগুলো নিষ্ক্রয় হতে শুরু করলে ডোপামাইনের উৎপাদন কমে যায় এবং ব্যক্তি পারকিনসন্স রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ে। ডোপামাইনের অভাবে নিউরনের মধ্যকার যোগাযোগও হ্রাস পেতে থাকে। উল্লেখ্য, এই নিউরনই ব্যক্তির অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলো চলাফেরা বা কাজ করার ইঙ্গিত সরবরাহ করে। এই রোগের লক্ষণ অত্যন্ত সূক্ষ্ম। তিনটি লক্ষণ সাধারণত এই রোগের দেখা যায়, হাত কাঁপা থেকে শুরু হয় এই রোগ, তার পর ক্রমশ ধীরগতির হাঁটাচলা এবং মাংসপেশিতে শক্ত হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়। প্রাথমিক পর্যায় সতর্ক হলে এবং চিকিৎসা শুরু করলে এই রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যেতে পারে।
লক্ষণ
কম্পন : আঙুল, হাত ও পা কাঁপা এই রোগের প্রাথমিক ও সাধারণ লক্ষণ। সময় অতিবাহিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরও বিকট হয়।
ঘুম : ব্যক্তি তার মুভমেন্টের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। পারকিনসন্স ফাউন্ডেশন অনুযায়ী, এই রোগের ফলে ঘুমের সমস্যাও দেখা দেয়। নিজের গতিবিধিতে নিয়ন্ত্রণ হারানোর আগেই ব্যক্তির মধ্যে ঘুমের সমস্যা দেখা দিয়ে থাকে।
ছোট হাতের লেখা : হাতের লেখায় পরিবর্তনও এই রোগের লক্ষণ। পারকিনসন্স রোগীদের মধ্যে মাইক্রোগ্রাফিয়া বা ছোট হাতের লেখার সমস্যা বেশি থাকে।
কণ্ঠস্বরে পরিবর্তন : অ্যাডভান্সড স্টেজে ব্যক্তির কথাবার্তা অস্পষ্ট ও অপরিষ্কার হয়ে পড়ে। রোগের প্রথম দিকে কণ্ঠস্বরে পরিবর্তন দেখা দেয়। এ সময় ব্যক্তিদের কণ্ঠস্বর কর্কশ হয়ে পড়ার প্রবণতা এবং তারা ধীরে কথা বলতে শুরু করেন।
ভাবভঙ্গি : পারকিনসন্সের প্রাথমিক পর্যায় ব্যক্তির ভাবভঙ্গিতে স্থিরতা দেখা দেয়। সমন্বয় ও ভারসাম্য হারিয়ে ফেলার কারণে এমন হয়ে থাকে।
রোগ থেকে কীভাবে নিরাপদ থাকবেন
রোগের প্রভাব কমানোর জন্য নিয়মিত ব্যায়াম করা উচিত। মস্তিষ্কেও ব্যায়ামের ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। অ্যারোবিকস করার ফলে মস্তিষ্কের ফোলাভাব কমে। এর ফলে রোগের লক্ষণ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। পারকিনসন্সে আক্রান্ত হলে অবসাদ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করুন। কোনোরূপ দুশ্চিন্তা, দুঃখের বা দুঃসংবাদ দিতে পারবেন না। কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে সতর্ক থাকতে হবে। খাবার খেতে হবে পুষ্টিকর। শরীরের অন্যান্য রোগ ডায়াবেটিস, থাইরয়েড থাকলে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।