থানা চত্বরে সবজি চাষে ‘মিটছে পুলিশের চাহিদা’

থানা চত্বরে পতিত জমিতে চাষ করা হয়েছে বিভিন্ন শাক-সবজির। ফলনও হয়েছে বাম্পার। চারিদিকে যেন সবুজের সমারোহ। পতিত জমির সদ্ব্যবহার ও সবুজ শ্যামল মনোরম পরিবেশ তৈরি করে বেশ সুনাম কুড়িয়েছেন ওসি খান মোহাম্মদ শাহরিয়ার।

এখানকার আবাদকৃত শাক-সবজি ক্ষেত থেকে তুলে থানার অফিসার ও ফোর্সসহ সবাই পরিবারের অনেকটা চাহিদা পূরণ করছেন। বলছি, কুড়িগ্রাম সদর থানার কথা। থানা চত্বরে প্রায় ৫০ শতক পরিত্যক্ত জায়গা পরিষ্কার করে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার উদ্যোগে বিভিন্ন প্রকার সবজি চাষ করা হয়েছে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, থানা চত্বরে সুসজ্জিত একটি সবজির ক্ষেত। এখানে কলমি শাক, পুঁইশাক, লালশাক, বেগুনসহ বিভিন্ন সবজি চাষ হয়েছে। থানা সংশ্লিষ্ট সবাই বাজারের পাশাপাশি এখান থেকে সবজি তুলে থানার ম্যাচসহ তারা পরিবারের চাহিদা মেটাচ্ছেন।

সদরের ভোগডাঙ্গা ইউনিয়ন থেকে থানায় এসেছেন পাপ্পু নামের এক যুবক। থানা চত্বরে সবজির বাগান করার বিষয়ে তিনি বলেন, থানার চারিদিকে বিভিন্ন প্রকার শাক সবজির চাষ করা দেখে খুব ভালো লাগলো। কেননা যেসব জায়গায় সবজির বাগান করা হয়েছে আগে তো অনেক নোংরা ছিল সেখানে। সবজি চাষ করা কারণে থানার সৌন্দর্য বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি এখানকার সবজি দিয়ে চাহিদাও মিটবে থানার সংশ্লিষ্ট সবার।

সদর থানার উপ-পরিদর্শন (এসআই) মো. জাহিদ হাসান জানান, আমাদের ওসি স্যার এখানে বিভিন্ন সবজির বাগান করেছেন। এখানকার সবজি থেকে আমাদের চাহিদা অনেকটা মিটছে।

পুলিশ পরিদর্শক তদন্ত গোলাম মর্তুজা জানান, থানার ভিতরে ওসি স্যারের শাক-সবজি চাষ করার ফলে এখানকার অনেক অফিসার ও ফোর্সের সবজির চাহিদা কিছুটা মিটছে। স্যারের সবজি চাষ দেখে আমিও উদ্বুদ্ধ হয়ে থানার একটি জায়গায় মরিচ, পেঁপে ও লাল শাক লাগিয়েছি। এর ফলে সৌন্দর্যের পাশাপাশি চাহিদাও কিছুটা পূরণ হচ্ছে।  

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মোহাম্মদ শাহারিয়ার বলেন, পুলিশ সুপার স্যারের নির্দেশনায় সরকারি যে সমস্ত অফিসের আনাচেকানাচে পতিত জায়গা আছে সেখানেই শাক সবজির বাগান করতে হবে। তারই ধারাবাহিকতায় থানার চারিদিকে বিভিন্ন প্রকার শাক-সবজি চাষ করেছি। আবাদ মোটামুটি ভালো হয়েছে। এক সবজি উঠার পরেই আবার নতুন করে শাক সবজি চাষ করা হবে।

কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. সামছুদ্দিন মিয়া বলেন, থানা চত্বরে সবজি চাষ, এটা খুবই ভালো উদ্যোগ। কৃষি বিভাগ থেকে তাদেরকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।