পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল

কার্যক্রম চালাবে সৌদি আরবের আরএসজিটি

চট্টগ্রামের পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালের কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার জন্য সৌদি আরবের একটি সংস্থার সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে বাংলাদেশ। রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল (আরএসজিটি) নামের ওই কোম্পানির সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারলে এটিই হবে বিদেশি সংস্থা দ্বারা পরিচালিত প্রথম কোনো বাংলাদেশি শিপিং টার্মিনাল। এটি চালু হলে দীর্ঘ ১৪ বছর পর নতুন টার্মিনাল পাবে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর। নতুন এই টার্মিনালে একসঙ্গে তিনটি কনটেইনার জাহাজ থেকে কনটেইনার ওঠানো-নামানো যাবে। এ ছাড়া ডলফিন জেটিতে তেলবাহী জাহাজ থেকে পণ্য খালাস করা যাবে।

তবে চুক্তি সইয়ের বিষয়ে বাংলাদেশ ও আরএসজিটির বক্তব্যে কিছু তথ্যগত অমিল রয়েছে। আরএসজিটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় তাদের মনোনীত করেছে। আর নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় বলছে, টার্মিনালের কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার জন্য আরএসজিটির সঙ্গে আলোচনা মাত্র শুরু হয়েছে। এটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

রেড সি গেটওয়ে টার্মিনালের সঙ্গে আলোচনার জন্য চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ বিশ^ব্যাংক গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশনকে (আইএফসি) লেনদেন উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। এ জন্য ইতিমধ্যেই চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে চুক্তি সই করেছে আইএফসি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোস্তফা কামাল গতকাল শনিবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, এ ধরনের কনটেইনার টার্মিনালের কার্যক্রম সাধারণত ঠিকাদারের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। আরএসজিটি নির্বাচিত হলে ঠিকাদার হিসেবে কাজ করবে।

তিনি আরও বলেন, পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালের কার্যক্রম পরিচালনা ও যন্ত্রপাতি সরবরাহ করার শর্তাবলী নিয়ে রেড সি গেটওয়ে টার্মিনালের সঙ্গে আলোচনা করবে আইএফসি। এ জন্য লেনদেন পরামর্শক (ট্রানজেকশন অ্যাডভাইজার) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছে আইএফসি। আলোচনা সফল হলে তখন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সৌদি আরবের রেড সি গেটওয়ে টার্মিনালের সঙ্গে চুক্তি করবে।

রেড সি গেটওয়ে টার্মিনালকে পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, আরএসজিটির এমন সংবাদ বিজ্ঞপ্তির বিষয়ে নৌ সচিব বলেন, আলোচনায় একমত হলে চুক্তি সই করা হবে।

গত বৃহস্পতিবার তেলসমৃদ্ধ উপসাগরীয় দেশটির বৃহত্তম টার্মিনাল সুবিধা প্রদানকারী ফার্মের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ২৪ কোটি ডলারে নির্মিত পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনার জন্য রেড সি গেটওয়ে টার্মিনালকে মনোনীত করেছে। বাংলাদেশের নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্তের বিষয়টি আরএসজিটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে গত ২৮ জুলাই।

ওই সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরএসজিটির গ্লোবাল ইনভেস্টমেন্ট ডিরেক্টর গগন সেকসারিয়া বলেছেন, ‘আমরা এই সুযোগের জন্য নির্বাচিত হতে পেরে অত্যন্ত আনন্দিত। চট্টগ্রাম বন্দরের কার্গো ভলিউম দ্রুত বৃদ্ধির জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতি, উন্নত প্রযুক্তি এবং নতুন মানব সক্ষমতা তৈরিতে আরও বিনিয়োগ প্রয়োজন। বঙ্গোপসাগর উপকূলে অবস্থিত টার্মিনালের দক্ষতা এবং উদীয়মান বাজার সম্প্রসারণ কৌশলের সঙ্গে মানান সই। এই বিনিয়োগের মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশের দ্রুত বর্ধনশীল বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে সক্ষম হবে।’

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, ৩২ একর জায়গাজুড়ে নির্মাণ হওয়া পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালে বছরে প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডেলিং করা যাবে। ১ হাজার ২২৯ কোটি ৫৮ লাখ টাকা ব্যয়ে পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ করছে চট্টগ্রাম বন্দর। ৩২ একর জায়গায় নির্মাণ হওয়া পিসিটিতে বছরে প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডেলিং করা যাবে। পিসিটিতে তিনটি কনটেইনার ও একটি তেল খালাসের (ডলফিন) জেটি থাকছে। একসঙ্গে ভেড়ানো যাবে চারটি জাহাজ। 

সমুদ্রপথে দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের প্রায় ৯২ শতাংশ চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে হয়ে থাকে। বর্তমানে এ বন্দরে জেনারেল কার্গো বার্থ (জিসিবি), চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) ও নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) নামে তিনটি টার্মিনালে ১৯টি জেটি রয়েছে। পতেঙ্গা টার্মিনাল চালু হলে জেটির সংখ্যা দাঁড়াবে ২৩টি। বর্তমানে বন্দরে সাড়ে ৯ মিটার ড্রাফট ও ১৯০ মিটার পর্যন্ত দৈর্ঘ্যের জাহাজ ভিড়তে পারে। পিসিটিতে সাড়ে ১০ মিটার ড্রাফট ও ২০০ মিটার দৈর্ঘ্যের জাহাজও ভিড়তে পারবে।