হাঁটু প্রতিস্থাপনের সার্জারি, যা হাঁটুর আর্থোপ্লাস্টি নামেও পরিচিত। যেসব রোগী গুরুতর আর্থারাইটিসে ভোগেন এবং প্রচ- ব্যথায় কষ্ট পান, দৈনন্দিন কাজকর্ম করতে সমস্য্যা হয়, তাদের জন্য ভালো উপায় হলো সম্পূর্ণ হাঁটু প্রতিস্থাপন। এই চিকিৎসায় হাঁটুর ব্যথা থেকে আরাম পাওয়া যায়। হাঁটু আগের মতো সক্রিয় হয়ে ওঠে। এই চিকিৎসা পদ্ধতিতে আপনার ঊরুর হাড়, পায়ের হাড় ও হাঁটুর হাড়ে থাকা ক্ষতিগ্রস্ত হাড় ও তরুণাস্থিকে কেটে বের করে সে জায়গায় সংকর ধাতু, উচ্চ গ্রেডের প্লাস্টিক ও পলিমার দিয়ে তৈরি কৃত্রিম অস্থিসন্ধি (প্রোস্থেসিস) বসিয়ে দেওয়া হয়। আপনার বয়স, ওজন, কাজকর্ম করার মাত্রা, হাঁটুর আকার ও আকৃতি ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে বিভিন্ন ধরনের হাঁটু প্রতিস্থাপনের প্রোস্থেসিস ও সার্জিক্যালটেকনিকের মধ্য থেকে পছন্দমতো প্রোস্থেসিস ও টেকনিক বেছে নিতে পারেন।
কেন করবেন
আর্থারাইটিস বা বাত মানে হলো গাঁটের ব্যথা। হাড়ের প্রান্তগুলো আস্তে আস্তে ক্ষয়ে যাওয়ার ফলে গাঁটগুলোর মধ্যবর্তী ফাঁকা জায়গা ছোট হয়ে আসে। এভাবে হাড়ের ওপর ঘর্ষণের সৃষ্টি হয়। তখন হাড়ের গতিশীলতার পরিবর্তন হয়ে খুব ব্যথা হতে থাকে। এ অবস্থার চিকিৎসার জন্য ভালো উপায় হলো হাঁটু প্রতিস্থাপনের সার্জারি এবং এটা করালে হাঁটুরও স্বাভাবিক ক্রিয়াকলাপের ক্ষমতা ফিরে আসে।
লক্ষণ
গাঁটে খুব ব্যথা এবং দৈনন্দিন কাজ করতে অসুবিধা হয়। যেমন : হাঁটাচলা করা, সিঁড়ি ওঠা ও চেয়ার ছেড়ে ওঠা। বিশ্রাম নেওয়ার সময়ও প্রচ- ব্যথা হয়। এমনকি ওষুধ খেয়ে ও বিশ্রাম নিয়েও গাঁটের প্রদাহ ও ফোলা ভাব কমানো যায় না। একটা সময় গাঁট শক্ত হয়ে যায়, স্বাভাবিকভাবে গাঁটকে নড়াচড়া করানো যায় না।
অপারেশনের আগে
সার্জারির আগে নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ ও ডায়েটারি সাপ্লিমেন্ট খেতে বারণ করতে পারেন ডাক্তার বা অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট। সার্জারির পরে যাতে কোনো সংক্রমণ না-হয় তার জন্য চিকিৎসা পদ্ধতি শুরু করার আগে আপনাকে ইন্ট্রাভেনাস অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হবে। আপনার হাঁটুকে অবশ করে দেওয়ার জন্য তার চারপাশের নার্ভও ব্লক করে দেওয়া হতে পারে।
চিকিৎসা পদ্ধতি
গাঁটের সব পৃষ্ঠতল যাতে দেখা যায় তার জন্য আপনার হাঁটুকে বেঁকিয়ে রাখা হয়। প্রায় ৬ থেকে ১০ ইঞ্চি (১৫ থেকে ২৫ সেন্টিমিটার) ছেদ করার পর আপনার সার্জন হাঁটুর হাড়ের কাছে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত গাঁটের পৃষ্ঠতল কেটে বের করে দেবেন। গাঁটের পৃষ্ঠতল তৈরি করার পর কৃত্রিম গাঁটের টুকরোগুলোকে জোড়া লাগাবেন। ছেদ বন্ধ করার আগে তিনি আপনার হাঁটুকে বেঁকিয়ে ও ঘুরিয়ে দেখবেন যে হাঁটুর ক্রিয়াকলাপ ঠিকভাবে হচ্ছে কি না।
অপারেশনের পর
বেশির ভাগ লোকই হাঁটু প্রতিস্থাপনের পর ব্যথা থেকে মুক্তি পান। আগের চেয়ে অনেক ভালো করে চলাফেরা করতে পারেন। সার্জারি হওয়ার তিন থেকে ছয় সপ্তাহ পরই দৈনন্দিন কাজকর্ম যেমন : বাজার করা ও ঘরদোর পরিষ্কার করার মতো হালকা কাজ করতে পারবেন। অপারেশনের তিন সপ্তাহ পর গাড়িও চালাতে পারবেন। সুস্থ হয়ে ওঠার পর আপনি কম চাপ পড়া বিভিন্ন ধরনের কাজ করতে পারেন। যেমন : হাঁটা, সাঁতার কাটা, গল্ফ খেলা বা বাইক চালানো। বেশি চাপ পড়ার মতো কাজ বন্ধ রাখুন। যেমন : জগিং, স্কি করা, টেনিস খেলা ও হাঁটু মুড়ে থাকা। আপনি কী করতে পারবেন না সে ব্যাপারে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলে নিন।