চা শ্রমিকদের কাজে ফিরিয়ে নিতে জেলা প্রশাসন, স্থানীয় প্রতিনিধিদের প্রচেষ্টা আবারও ব্যর্থ হয়েছে।
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলা অডিটোরিয়ামে লস্করপুর ভ্যালীর ২৩টি বাগানের পঞ্চায়েত নেতাদের উপস্থিতিতে ৪ ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে কাজে ফেরার কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
বুধবার কর্মবিরতির ১৬তম দিন। ইতিপূর্বে জেলা প্রশাসক ৩বার তাদের সঙ্গে বৈঠক করলেও ৩০০ টাকা মজুরির দাবিতে শ্রমিকেরা অনড়।
শ্রমিক ও পঞ্চায়েত নেতারা বলছেন, প্রশাসন যা-ই বলুক না কেন, আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ছাড়া কাউকে বিশ্বাস করি না। তিনি যা বলবেন আমরা তাই শুনবো।
চা শ্রমিকেরা তাদের দাবি পূরণে শক্ত অবস্থানে রয়েছে জানিয়ে বলেন, কারোর প্রতি আমাদের বিশ্বাস নেই। আমরা প্রধানমন্ত্রীকে "মা" বলে ডাকি। তিনি একটা কথা বলুক আমরা কাজে ফিরে যাব। মাসির ( ডিসি)র কোনো কথা শুনবো না।
তারা বলেন, ‘গত ১৯ মাস ধরে চা মালিক পক্ষ আমাদের বেতন বৃদ্ধিতে টালবাহানা করেছে। বর্তমান দ্রব্যমূল্য বাজারে আমরা না খেয়ে দিনাতিপাত করছি। এমতাবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর মুখের দিকে আমরা তাকিয়ে আছি।’
শ্রমিক নেতারা আরও বলেন, আমাদের আন্দোলন এখন হাতের মুঠোয় নেই। সাধারণ শ্রমিকদের হাতে চলে গেছে। কারণ বিগত দিনে চা শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা আমাদের মাঠে নামিয়ে নিজেরা লাভবান হয়েছে। শ্রমিকেরা দাবি আদায়ে প্রয়োজনে রাস্তায় পড়ে থাকবো। গুলি মেরে আমাদের মেরে ফেলুন। কিন্তু আমাদের সম্মান নষ্ট হতে দেব না। ডিসি-এসপি আমাদের কাজে যাওয়ার জন্য জোর করবেন না। শেখ মুজিব আমাদের ভোটের অধিকার দিয়েছেন। আমরা আওয়ামী লীগ করি, নৌকা ছাড়া কোনো মার্কায় ভোট দেই না। আমাদের মাঝে বিভক্তি সৃষ্টি করবেন না। আমরা ইচ্ছে করলে চা বাগান ধ্বংস করতে পারবো, কিন্তু সৃষ্টি করতে পারবো না। বাগানকে ভালোবাসি বলেই রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে কাজ করি।
এদিকে জেলা প্রশাসক ইশরাত জাহান ও পুলিশ সুপার এস এম মুরাদ আলী শ্রমিকদের কাজে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, আশা করছি দুর্গাপূজার আগেই বেতন বৃদ্ধির ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে কথা বলবেন।
তারা জানান, বাগান মালিকেরা শ্রমিকদের যে বেতন ভাতাদি দিচ্ছেন তা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে বেশ অসামঞ্জস্য রয়েছে। আমরা তা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি। যা প্রধানমন্ত্রী আগে জানতেন না। আপনাদের আন্দোলন যুক্তিসংগত। আপনাদের পাশে আছি। প্রশাসন কোনো পক্ষপাত করছে না।