বালিয়াডাঙ্গীতে বিএনপির সমাবেশ চলাকালে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংঘর্ষ

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে বিএনপির প্রতিবাদ সমাবেশ চলাকালে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

আওয়ামী লীগ জানায়, ছাত্রলীগ-শ্রমিক লীগের দুজনসহ চারজন বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের দুজন হলেন ছাত্রলীগের সদস্য জিল্লুর ও শ্রমিক লীগের সোহাগ।

অপর দিকে জেলা সভাপতি তৈমুর রহমান, মহিলা দলের সভাপতি ফুরাতুন নাহার প্যারিসসহ তিনজন আহত হয়েছেন বলে দাবি বিএনপির।

জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের মূল্যবৃদ্ধি ও গুম-খুনের প্রতিবাদে বুধবার বিকেলে দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। এরপর কার্যালয়ের সামনে এক প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য চলাকালে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা অতর্কিতে হামলা চালায়। তারা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে অফিস ভাঙচুর করে এবং জেলা থেকে যাওয়া তিন নেতা আহত হন। আক্রমণকারীরা তাদের দলীয় কার্যালয়ের ভেতরে দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখে। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলে জেলার নেতারা ঠাকুরগাঁও শহরে ফিরে আসে।

হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে জেলা বিএনপির সভাপতি আরো বলেন, হামলার ঘটনায় উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরাও আহত হয়েছেন তাদের নাম এখনো পাওয়া যায়নি।

এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও স্থানীয় এমপির ছেলে মাজহারুল ইসলাম সুজন বলেন, বিএনপির সমাবেশ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে উসকানিমূলক এবং স্থানীয় এমপি দবিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও তার পা ভেঙে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এ সময় দলীয় কর্মী, আওয়ামী লীগ সমর্থক ও স্থানীয় জনতা  উত্তেজিত হয়ে প্রতিবাদ করতে যায়। তখন বিএনপির সন্ত্রাসীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে ছাত্রলীগ, শ্রমিক লীগ ও আওয়ামী লীগ সমর্থিত অন্তত চারজন আহত হন। তাদের স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বালিয়াডাঙ্গী থানার ওসি খায়রুল আনাম বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। কেন এমন ঘটনা ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখা হবে।

দলীয় কর্মসূচি চলাকালে হামলার অভিযোগ বিষয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা বিএনপি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে।