ঋণের ফাঁদে যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষার্থীরা

যুক্তরাষ্ট্রে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে চার বছর মেয়াদি কোর্স করার টিউশন ফি ২০১০ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে ৩১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। বেড়েছে সেখানে থাকা-খাওয়ার খরচও। এই অবস্থায় দেশটির প্রায় সাড়ে চার কোটি শিক্ষার্থী, যারা ঋণ নিয়ে পড়ালেখা করেন তারা পড়েছেন চরম বিপাকে। করোনাকালে তাদের ঋণ পরিশোধের ওপর স্থগিতাদেশ থাকলেও চলতি আগস্ট মাসে তা শেষ হচ্ছে। আর তা হলে ওই বিশাল সংখ্যার শিক্ষার্থী কার্যত ঋণের ফাঁদে আটকা পড়ে যাবেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত দেশের শিক্ষার্থীর করুণ অবস্থা। 

দ্য এডুকেশন ডাটা ইনিশিয়েটিভ নামের একটি গবেষণা গ্রুপের বরাতে সংবাদমাধ্যমটি বলছে, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে শিক্ষার্থীদের ঋণের পরিমাণ প্রায় ১ দশমিক ৭৫ ট্রিলিয়ন (১ লাখ ৭৫ হাজার কোটি টাকা) ডলার; যা বিশ্বের সর্বোচ্চ। গবেষণা গ্রুপটি বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে চার বছর মেয়াদি কোর্স করার টিউশন ফি ২০১০ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে ৩১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে চার বছরের কোর্স করতে বছরে একজন শিক্ষার্থীর খরচ হয় গড়ে ৩৫ হাজার ৫৫১ ডলার। তার বড় অংশই সরকারি-বেসরকারি নানা সংস্থা তাদের ঋণ হিসেবে দেয়। স্নাতক শেষের পর তা শোধ করতে হয়। কিন্তু করোনার কারণে আয়ের উৎস কমে যাওয়ায় ও ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন তারা।

নিউইয়র্কভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘মুডিস’-এর অর্থনীতিবিদ ক্রিশ্চিয়ান ডেরিটিস বলেন, ‘আমার মনে হয় তরুণ-তরুণীরা আসলেই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে আছেন। তাদের অনেকেরই ঋণের বোঝা আসলে কেমন ও স্নাতক শেষে কলেজ/বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেরিয়ে ছয় অঙ্কের বেতনের স্বপ্ন কতটা বাস্তবসম্মত, সে সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা নেই।’

ডেরিটিস বলেন, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষে যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষার্থীরা মনে করেন প্রথম চাকরিতে তারা বছরে মোটামুটি ১ লাখ ৩ হাজার ৮৮০ ডলার বেতন পাবেন। তবে প্রকৃত চিত্র ভিন্ন। দেখা গেছে, স্নাতক শেষে চাকরিতে ঢোকার পর বছরে একজন গড়ে ৫৫ হাজার ২৬০ ডলার বেতন পেয়ে থাকেন। তখন ঋণ পরিশোধ করাটা কষ্টকর হয়ে যায়। 

যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের কেনোশা শহরের কার্থেজ কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী ডারা জাকার পড়াশোনার খরচ চালাতে ঋণ নিয়েছিলেন। ২০১৬ সালে স্নাতক শেষ হয় তার। এরপর থেকে মাসে মাসে ঋণের কিস্তি দিয়ে যাচ্ছেন তিনি। তবে কিন্তু ঋণ শোধ হওয়ার নাম নেই।