শেষ বেলার ঝড়ে ভারতকে ১৪৮ রানের লক্ষ্য পাকিস্তানের

পাঁচটি শর্ট বল, পাঁচ উইকেট। যার তিনটিই হার্দিক পান্ডিয়ার। মাঝে ৯ বলে তিন মিডল অর্ডারকে ফিরিয়ে দেন। তখন পান্ডিয়ার আঘাতে এলোমেলো হয়ে যান পাকিস্তানি ব্যাটাররা। ভারতীয় বোলারদের শর্ট বল ভুগিয়েছে রিজওয়ান-বাবরদের। তাতে পাকিস্তানকে ১৪০ রানের আগেই বেঁধে ফেলতে পারতেন রোহিতরা। কিন্তু শেষ বেলায় শাহনেওয়াজ দাহানীর ঝড়ে ম্যাচে উত্তাপ ছড়ায়।

শুরু থেকেই পাক ব্যাটারদের চাপের মাঝে রাখেন ভুবনেশ্বর কুমার। শেষ দিকেও সেই চাপ অব্যাহত রাখেন। সঙ্গে হার্দিক পান্ডিয়াও। এক বল বাকি থাকতেই পাকিস্তান অল-আউট হয়ে যায়। ১৪৮ রানের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবেন রোহতিরা।

বাবর আজম ও মোহাম্মদ রিজওয়ান ওপেনিং জুটিতে কিছুটা মন্থর খেলেন। কিন্তু সেট হয়ে আর জুটি বড় করতে পারেননি। ভেঙে গেছে তৃতীয় ওভারেই। ১৬ বল স্থায়ী এই জুটি তুলতে পেরেছিল ১৫ রান। রান রেট ছয়েরও নিচে। যার প্রভাব পড়েছে পাকিস্তানের পাওয়ার প্লের ওভারগুলোতে। অনেকটাই মন্থর গতিতে রান তুলেছে তারা।

ভুবনেশ্বর কুমারের শর্ট বল মারতে গিয়েছিলেন অধিনায়ক বাবর আজম। তবে তা এজ হয়ে শর্ট ফাইন লেগে দাঁড়িয়ে থাকা আরশদীপ সিংয়ের তালুবন্দী হয়। পাকিস্তান হারায় তাদের অধিনায়ককে। ফিরে যাওয়ার আগে তিনি ৯ বলে ১০ রান করেছিলেন। তার ব্যাট থেকে আসে দুটি চারের মার।

এছাড়া আভেশ খানের এক্সট্রা বাউন্সের বল টোকা দিয়েছিলেন ফখর জামান। ব্যাটের কিনারায় লেগে উইকেট রক্ষকের হাতে বন্দী হয়। ফখর তখন মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যেতে থাকেন। ফিরে যাওয়ার আগে ৬ বলে ১০ রান সংগ্রহ করেছিলেন।

তৃতীয় উইকেট জুটিতে বেশ রিজওয়ানকে ভালোই সঙ্গ দিচ্ছিলেন ইফতিখার আহমেদ। একপ্রান্তে ইফতিখারের মারমুখী সব শটে বাড়ছিল পাকিস্তানের সংগ্রহ। অন্যপ্রান্তে বলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রান তুলছিলেন রিজওয়ান। দুজনে মিলে ততক্ষণে গড়ে ফেলেছিলেন ৪৫ রানের জুটি। তবে জুটির ফিফটি পূর্ণ করতে দেননি হার্দিক পান্ডিয়া। ত্রয়োদশ ওভারের প্রথম ডেলিভারিতে দেন শর্ট বল। তা পুল করতে গিয়েই ফিরে ক্যাচ দেন দীনেশ কার্তিকের হাতে।

রবীন্দ্র জাদেজার বদলী হিসেবে পান্ডিয়াকে বোলিংয়ে এনেছিলেন অধিনায়ক রোহিত। আর এসেই এনে দেন ব্রেক থ্রো। তাও ভয়ংকর হয়ে ওঠা ইফতিখারের উইকেট। ফিরে যাওয়ার আগে ২২ বলে ২৮ রান করেন তিনি। ইনিংসটি সাজানো ছিল ২ চার ও এক ছক্কায়।

তৃতীয় উইকেট পতনের পর খুশদীল শাহ মাঠে নেমে খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি। প্রথম ৬ বল থেকে সংগ্রহ করেন মাত্র ২ রান। রিজওয়ান অবশ্য ততক্ষণে ৪৩ রান সংগ্রহ করে নেন। কিন্তু পঞ্চদশ ওভারে ফের বোলিংয়ে আসেন পান্ডিয়া। এসেই ফিরিয়ে দেন রিজওয়ানকে।

ইফতিখারকে আউটের পর টিভি পর্দায় স্ক্রল ভাসছিল, পান্ডিয়ার ৩৫ শতাংশ শর্ট বল থেকেই উইকেট আসে। এ ওভারেও দেন আরও একটি শর্ট বল। সিমে পড়ে ওঠা বলটির গতিপথ থেকে নিজেকে সরিয়ে রিজওয়ান ব্যাট সে পথে ধরে রেখে বল পাঠান থার্ডম্যানে। সেখানে ক্যাচ ধরতে ভুল করেননি আবেশ খান। রিজওয়ানের ৪২ বলের ইনিংসটিতে ছিল চারটি চার ও একটি ছক্কা।

একই ওভারে তৃতীয় বলে ফের পান্ডিয়ার শর্ট বলের ফাঁদে পড়েন খুশদিল। অফ স্টাম্পের বাইরে বেরিয়ে যাওয়া বলটিতে স্ল্যাপ করতে গিয়ে কাভারে ধরা জাদেজার হাতে পড়েন তিনি। ৯ বলের মধ্যে ৩ উইকেট নিয়ে পাকিস্তানকে এলোমেলো করে দেন পান্ডিয়া।    

পান্ডিয়ার আঘাতে যখন ধুকছিল পাকিস্তান তখন বোলিংয়ে আসেন ভুবনেশ্বর কুমার। ক্রিজে তখন আসিফ। বড় শটের জন্য মুখিয়ে তিনি। ভুবনের ধীরগতির অফ কাটারের ব্যাট চালিয়ে মিড অফে এবার সূর্যকুমার যাদবের হাতে ক্যাচ। ৭ বলে ৯ রান করে ফিরেন তিনি।

৫ উইকেট অবধি পাকিস্তান কিছুটা নির্ভার ছিল। কিন্তু আসিফের উইকেটে হতাশা ছড়ায়। ম্যাচ থেকে যেন আরেকটু পিছিয়ে পড়ে পাকিস্তান। তবে শেষ দিকে ম্যাচের কিছুটা মোড় ঘুরিয়ে দেন শাহনেওয়াজ দাহানী ও হারিস রউফ। শেষ ৭ বলে ১৯ রান তুলে নিলে পাকিস্তানের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৪৭ রানে।

৪ ওভারে ২৬ রান দিয়ে ৪ পাক ব্যাটারের  উইকেট তুলে নেন ভুবনেশ্বর কুমার। অন্যদিকে ২৫ রান দিয়ে ৩ উইকেট শিকার পান্ডিয়ার।