চিরিরবন্দরে ১৫ স্বেচ্ছাসেবীর ৯ লাখ টাকা আত্মসাৎ

দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তানভীর হাসনাত ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইপিআই টেকনিশিয়ান খবির উদ্দীনের বিরুদ্ধে এমএইচভি পদে ১৫ জন স্বেচ্ছাসেবকের সাত মাসের সম্মানীর টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগীরা ৭ মাসের ৮ লাখ ৮২ হাজার টাকা ফেরত চেয়ে গতকাল সোমবার বেলা ৩টার দিকে সিভিল সার্জন বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ১৫ স্বেচ্ছাসেবকের স্বাক্ষর জাল করে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও ইপিআই টেকনিশিয়ান ওই টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

ভুক্তভোগী ১৫ স্বেচ্ছাসেবকের লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, তারা লেখাপড়ার পাশাপাশি করোনাকালে সরকারের টিকাদান কর্মসূচিতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চিরিরবন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করে আসছেন। ২০২১ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে অদ্যাবধি সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত কাজ করে আসছেন। টিকাদান কর্মসূচি চলাকালে দুপুরে কোনো খাবারের ব্যবস্থা করেনি কর্তৃপক্ষ। ইতিমধ্যে জেলার অন্য ১২টি উপজেলায় স্বেচ্ছাসেবকদের ভাতা টাকা দেওয়া হলেও চিরিরবন্দরে তা করা হচ্ছে না। একজন স্বেচ্ছাসেবীকে প্রতিদিন সম্মানী ভাতা ৩৫০ টাকা দেওয়ার সরকারি নির্দেশনা থাকলেও তারা ইতিপূর্বে বিভিন্ন সময়ে ভ্যাট-ট্যাক্স কেটে ১৬০ টাকা করে তাদের দিয়েছেন। ২০২১-২২ অর্থবছরে ৭ মাসের ১৫ স্বেচ্ছাসেবকের জন্য বরাদ্দ হওয়া ৮ লাখ ৮২ হাজার টাকা চলতি বছরের ৩০ জুন উত্তোলন করেন ইপিআই টেকনিশিয়ান খবির উদ্দীন। এরপর খবির জানান, তাদের নামে কোনো টাকা বরাদ্দ আসেনি।

স্বেচ্ছাসেবক ভরত রায় প্রত্যয়, মুক্তা রানী, রাকিবুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান, কাকলী অভিযোগ করেন, টাকা উত্তোলনের পর বিষয়টি তারা জানতে পারেন। ইপিআই টেকনিশিয়ান ১৫ স্বেচ্ছাসেবকের স্বাক্ষর জালিয়াতি করে, ভুয়া মাস্টার রোল তৈরি করে জনপ্রতি ৫৮ হাজার ৮০০ টাকা হিসেবে ৮ লাখ ৮২ হাজার টাকা তিনি উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তানভীর হাসনাতের কাছে গেলে তিনি তাদের বলেন, ‘৮ লাখ ৮২ হাজার টাকা আমার নামে কর্তৃপক্ষ পাঠিয়েছে। আমার নামে বরাদ্দ টাকা আমি যা খুশি তা-ই করব। এখানে তোমাদের বলার কিছু নাই।’ এমনকি একাধিকার

কর্তৃপক্ষের কাছে ভাতা দেওয়ার ব্যাপারে তাগিদ দিলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের চাকরিচ্যুত করার হুমকি দিচ্ছেন।

তবে এ বিষয়ে তানভীর হাসনাত বলেন, ‘যেসব অভিযোগ করা হচ্ছে, সেগুলো ভিত্তিহীন এবং তাদের দাবিগুলো অযৌক্তিক। যে ৮ লাখ ৮২ হাজার টাকা এসেছে তা প্রায় ৩০০ জন স্বেচ্ছাসেবীর নামে। কিন্তু তারা এই অর্থ ১৫ জনের মধ্যেই ভাগ করে দেওয়ার দাবি তুলেছে, যা ঠিক নয়।’

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইপিআই টেকনেশিয়ান খবির উদ্দীন বলেন, ‘চিরিরবন্দর উপজেলায় ৩০০ জন স্বেচ্ছাসেবক রয়েছে। জুন মাসে ১৫ জন স্বেচ্ছাসেবকের নামে ৮ লাখ ৮২ হাজার টাকা আমাদের কাছে এসেছে। সেই টাকা আমরা উত্তোলন করেছি। বিষয়টি স্যার ৩০০ জন স্বেচ্ছাসেবকের মাঝে সমানভাবে বণ্টন করবেন বলে জানিয়েছেন। দুই-এক দিনের মধ্যে সেই টাকা সবার মাঝে বণ্টন করা হবে।’

এ ব্যাপারে সিভিল সার্জন ডা. বোরহান-উল আলম সিদ্দিকী বলেন, ‘আমার কাছে একটি অভিযোগ এসেছে। জুন মাসে জেলার ১৩টি উপজেলার স্বেচ্ছাসেবকদের সম্মানীর টাকা প্রদানের জন্য পাস করে দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে ১২টি উপজেলায় সম্মানীর টাকা সুষ্ঠুভাবে বিতরণ করেছে। কিন্তু চিরিরবন্দরে কী কারণে এমন সমস্যা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হবে।’॥