সাঁতার যুদ্ধে ৭১ বছর বয়সী মুক্তিযোদ্ধা

নদীপথে একটানা ২৮১ কিলোমিটার সাঁতরে বিশ্ব রেকর্ড গড়ার যাত্রা শুরু করেছেন একুশে পদকপ্রাপ্ত ৭১ বছর বয়সী মুক্তিযোদ্ধা ক্ষিতীন্দ্র চন্দ্র বৈশ্য। একনাগাড়ে সাঁতরে সিলেট থেকে কিশোরগঞ্জের ভৈরব ফেরিঘাটে পৌঁছবেন তিনি। এজন্য তাকে সুরমা, ধনু, ঘোড়াউত্রা ও মেঘনার বিশাল নদীপথ পাড়ি দিতে হবে। এতে তার প্রায় ৭০ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে।

গতকাল সোমবার সকাল ৬টায় সিলেটে সুরমা নদীর কিনব্রিজ চাঁদনীঘাট থেকে তিনি সাঁতার শুরু করেন। সাঁতার শুরুর আগে সেখানে দর্শনার্থীরা ভিড় জমায়। মুক্তিযোদ্ধা ক্ষিতীন্দ্র চন্দ্র বৈশ্যের সাঁতারের এ উদ্যোগে সহায়তা করছে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সিলেট জেলা কমান্ড। সার্বিকভাবে সহযোগিতা করছে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, নৌ পুলিশ ও সিলেট সিভিল সার্জন বিভাগের একটি প্রতিনিধিদল। চিকিৎসকসহ প্রতিনিধিদলটি নৌকা নিয়ে সার্বক্ষণিক ক্ষিতীন্দ্রের সঙ্গে থাকবে।

সাঁতার শুরুর আগে ক্ষিতীন্দ্র চন্দ্র বলেন, ‘আমি সবার আশীর্বাদ চাই, যেন লক্ষ্যে পৌঁছতে পারি। দেশের জন্য একটি বিশ্ব রেকর্ড গড়তে পারি।’

সত্তরোর্ধ্ব ক্ষিতীন্দ্রের এ কঠিন যাত্রা প্রসঙ্গে সিলেটের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. জন্মেজয় দত্ত বলেন, ‘ক্ষিতীন্দ্র সাঁতার শুরুর আগে তার শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করা হয়েছে। তিনি সুস্থ-স্বাভাবিক আছেন। তিনি যতক্ষণ সাঁতার কাটবেন ততক্ষণ চিকিৎসকসহ জরুরি সেবাদানকারী একটি দল নৌকায় তার পাশে থাকবে। নৌকায় অক্সিজেন সিলিন্ডার, নেবুলাইজারসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রীও রয়েছে।’

মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সিলেট জেলা ইউনিটের সাবেক কমান্ডার সুব্রত চক্রবর্তী জুয়েল বলেন, ‘ক্ষিতীন্দ্র একজন প্রখ্যাত সাঁতারু ও বীর মুক্তিযোদ্ধা। সাঁতারে জাতীয় পর্যায়ে তিনি বিভিন্ন পদক পেয়েছেন। তাই আমরা আশাবাদী তিনি এবারে ২৮১ কিলোমিটার একটানা সাঁতার কেটে বিশ্ব রেকর্ড গড়বেন।’

সংশ্লিষ্টরা জানান, ক্ষিতীন্দ্র তার যাত্রাপথে সুরমা নদীর ১৪৪ দশমিক ৩৯ কিলোমিটার, ধনু নদের ৮৪ দশমিক ৩১ কিলোমিটার, ঘোড়াউত্রা নদীর ৩৪ দশমিক ২৭ কিলোমিটার ও মেঘনা নদীর ১৮ দশমিক ৩৩ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে ভৈরব ফেরিঘাটে পৌঁছানোর লক্ষ্য ঠিক করেছেন। সফলভাবে লক্ষ্যে পৌঁছতে পারলে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্র্তৃপক্ষের স্বীকৃতির জন্য আবেদন করা হবে।

ক্ষিতীন্দ্র চন্দ্রের বাড়ি নেত্রকোনা জেলার মদন উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর গ্রামে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিদ্যায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্র্তৃপক্ষের উপপরিচালক পদে চাকরি শেষে তিনি অবসরে যান।